ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা, এডহক ডাক্তারের প্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ–যেন দেখার কেউ নেই ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক বিভাগের একটি চিঠিতে আতঙ্কিত জমির মালিক চাপা উত্তেজনা পীরগঞ্জে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, এসপি বরাবর অভিযোগ পীরগঞ্জ আল-হাসানা স্কুল এন্ড কলেজের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপেনর সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে : মির্জা ফখরুল কর্তব্যরত অবস্থায় ঠাকুরগায়ের পীরগঞ্জ থানার এক এএসআই’র মৃত্যু যখন গনতন্ত্র চাপা থাকে তখন উগ্রবাদী শক্তিগলোর উল্থন ঘটে,তারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে-ঠাকুরগায়ে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগায়ের ৩ টি আসনেই বিএনপি’র বিজয়,প্রতিদ্বন্দিতা করেছে জামায়াত ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অর্ধ-কোটি টাকাসহ আটক,এলাকায় চাঞ্চল্য ঠাকুরগাঁয়ে হ্যাঁ ভোটের প্রচারনায় শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম শাখাওয়াত

বিতর্কিত ডিসিদের তুলে নেয়া হচ্ছে

ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের ১০ মাস পার হয়েছে। আগামী মাসে জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি সনদ বাস্তবায়ন হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু প্রশাসনে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়োগ পাওয়া আমলাদের অপসারণ ও শাস্তি হয়নি। প্রশাসনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসনে ডিসি-এসপিদের নিয়োগ ও বদলিতে এনসিপি-জামায়াতের সুপারিশের ভিত্তিতে দেয়া হয়েছিল। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের আমলারা গত ১০ মাসে এনসিপি-জামায়াতের উপর ভর করে প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। গত শুক্রবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রশাসনের চিত্র পাল্টাতে শুরু হয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেড় ঘণ্টার বৈঠক সফল হওয়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বস্তির সুবাতাস বইছে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যকার ঐতিহাসিক বৈঠকটি ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য কফিনে শেষ পেরেক (গেম ওভার মুহূর্ত)। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শফিকুল আলম লিখেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল ঐতিহাসিক। এটি ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য গেম ওভার মুহূর্ত (কফিনে শেষ পেরেক)।

মাঠ প্রশাসনে তিন ব্যাচ কর্মকর্তাদের নিয়ে ৬৪ জেলার দায়িত্ব পালন করছেন ডিসিরা। বর্তমানে ২৪তম ব্যাচের ২৬ জন, ২৫তম ব্যাচের ২৫ জন এবং ২৭তম ব্যাচের ১৩ কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ২৪তম ব্যাচের ২৬ জনের মধ্যে ২১ জনকে গত ২০ মার্চ পদোন্নতি দিয়ে যুগ্মসচিব করা হলেও তাদের ডিসি পদে থাকা দুই বছর পূর্ণ হয়নি, তাদের মাঠ রাখতে পারে সরকার। তবে যেসব ডিসি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সরাসরি ভূমিকা পালন করছেন এবং যাদের বিরুদ্ধে মাঠ প্রশাসনে বিতর্ক সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে তাদের প্রত্যাহার করা হবে।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩৫ জেলায় ডিসি নিয়োগের সুপারিশ করেছে জামায়াত ও এনসিপি। তাদের দেয়া সেই তালিকায় থাকা বেশির ভাগ কর্মকর্তাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এ কারণে তাদের ডিসি পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সে কারণে ফ্যাস্টিস সরকারের কোনো কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগ দেবে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চলতি জুন মাসে মাসে বিতর্কিত ডিসিদের তুলে নেয়া কথা থাকলেও সেটি আগামী জুলাই মাসে মাঠ প্রশাসন থেকে ডিসিদের প্রত্যাহার করা বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব একাই ২৬ জন ডিসি নিয়োগ দেয়ার জন্য গত মে মাসে একটি সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তা ফেরত পাঠানো হয়েছে। ঝুলে আছে পদোন্নতি, ডিসি নিয়োগ ও প্রত্যাহার। আর ২৪ ব্যাচের বঞ্চিতদের রিভিউ হয়নি। যা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তার অভাবে স্থবিরতা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

এদিকে পতিত হাসিনার দোসররা এখনো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে বসে পরিকল্পিতভাবে অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করে দেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা চুপচাপ শুধু দেখেই যাচ্ছেন। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি এভাবে চলতে পারে না। অবিলম্বে সচিবালয়, প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোকে হাসিনার দোসরমুক্ত দেখতে চান বলেও জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা।

বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের সভাপতি এ বি এম আব্দুস সাত্তার ইনকিলাবকে বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের জনগণ যে স্বপ্ন, যে আশা ও আকাক্সক্ষা নিয়ে গণঅভ্যুত্থানত্তোর পরিস্থিতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত সরকারকে সমর্থন দিয়েছিল, সে সমর্থন আমাদের থাকবে। আমরা চাই আওয়ামী ফ্যাসিস্ট মুক্ত জনপ্রশাসন।

জানা গেছে, দেশের ২১ জেলায় নতুন করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেবে সরকার। এসব জেলার ডিসিরা এরই মধ্যে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হয়েছেন। তাদের গত মে মাসে তুলে আনার কথা ছিল। কিন্তু জনপ্রশাসন-বিষয়ক কমিটির সিদ্ধান্তের বিলম্বের কারণে এখন পর্যন্ত ডিসি নিয়োগ দিতে পারেনি সরকার। ডিসি নিয়োগপ্রত্যাশী কর্মকর্তাদের আগামী মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সরকার চাইছে জুনের বাজেট শেষ হলে নতুন ডিসি নিয়োগ দেয়া হবে। সে জন্য একটি তালিকা তৈরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এতে যারা কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন তাদেরকে বাছাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসন হলেই ডিসি নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষে থেকে কোনো তালিকা দেয়া হয়নি। তাদের দাবি, মেধাবী, বঞ্চিত ও যোগ্য কর্মকর্তাদের ডিসি পদে নিয়োগ চান তারা। জনপ্রশাসন-বিষয়ক কমিটির সভাপতি ও অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন হয়তো শিগগিরই ডিসি নিয়োগ নিয়ে সভা করবেন। তার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি (নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ) অতিরিক্ত সচিব মো. এরফানুল হক ইনকিলাবকে বলেন, ডিসি নিয়োগের বিষয়টি জনপ্রশাসন-বিষয়ক কমিটির ওপর নির্ভর করছে। তারাই বলতে পারবে কবে নাগাদ নিয়োগ হবে। তবে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানি।

জনপ্রশাসনের দায়িত্বশীল কয়েজন কর্মকর্তা বলেন, সরকার জনপ্রশাসনে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ যুগ্মসচিব ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য চারজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিবকে নিয়ে ‘জনপ্রশাসন-বিষয়ক কমিটি’ করেছে। এ কমিটি গঠনের পর নিয়োগে একটু জটিলতা দেখা দিয়েছে। ৩৫ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগের সুপারিশ করেছে জামায়াত ও এনসিপি। তাদের দেয়া সেই তালিকায় বেশির ভাগ কর্মকর্তাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত, এ কারণে ডিসি নিয়োগ প্রক্রিয়া দেরি হচ্ছে। তবে সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত ও এনসিপির নেতারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর ডিসি নিয়োগ নিয়ে নানান ধরনের সমালোচনায় পড়তে হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। অনেকে নিজেদের ‘বঞ্চিত’ দাবি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নজিরবিহীন কা- ঘটিয়েছিলেন। ঘুষ ও অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে মারামারি ও হাতাহাতি পর্যন্ত করেছেন জনপ্রশাসনে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণœ হয়েছে। আবার অনেকে বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে ভালো ভালো দফতর-সংস্থায় চাকরি করেও ৫ আগস্টের পর ডিসি পদ বাগিয়ে নিয়ে মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেকেই পতিত আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন। তবুও তারা নতুন সরকার ও প্রশাসনে ডিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে এবং হচ্ছে। তাই এবার ডিসি নিয়োগে সরকার খুবই সতর্ক রয়েছে। ব্যাপক যাচাই-বাছাই প্রায় শেষ। অর্থাৎ আওয়ামী সুবিধাভোগী কোনো কর্মকর্তাকে ডিসি করবে না সরকার। কেউ ছলচাতুরি বা তথ্য গোপন করে ডিসি হলে এবং পরে তা প্রমাণিত হলে তাদের ভবিষ্যত কর্মজীবন ‘ভালো’ হবে না তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তারপর বেশ কয়েকজন উদেষ্টা পতিত আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের ডিসি পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। তাদের বিষয়টি নিয়ে বিপাকে পড়েছে সরকার।

কমিটির সভাপতি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এবং কমিটির সদস্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব বিদেশে থাকার ফলে তাদের অনুপস্থিতির কারণে নিয়োগ-সংক্রান্ত কমিটির পরামর্শসভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ জন্য ডিসি নিয়োগে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এর বাইরে বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষাকেন্দ্রিক ডিসিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। পরীক্ষা চলাকালীন নিয়োগ দেয়া হলে নতুন ডিসিরা অনেক কিছু বুঝে উঠতে পারবেন না। এ জন্য নতুন নিয়োগ হচ্ছে না। সামনে ঈদকেন্দ্রিক জেলা প্রশাসনকে অনেক কাজ করতে হবে। নতুন করে ডিসি নিয়োগ হলে তারা হঠাৎ করে মাঠে গিয়ে কাজ সামলাতে পারবেন না। এ জন্য হয়তো সরকার একটু সময় নিচ্ছে। তবে নতুন ডিসি নিয়োগ হলে তারা খুব উৎসাহ নিয়েই ঈদকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে কাজ করতে পারবেন বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তারা পরীক্ষা নিয়েও কাজ করতে পারবেন। এ মুহূর্তে নতুন ডিসি নিয়োগ দিলে কোনো সমস্যাই হবে না। তবুও সরকার কালক্ষেপণ করছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, নতুন করে ডিসি নিয়োগ দিতে বিসিএস প্রশাসন ২৫ ও ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ফিটলিস্ট প্রস্তুত করেছে জনপ্রশাসন। গত বছর নভেম্বর মাস থেকে ডিসির ফিটলিস্ট তৈরির কাজ শুরু হয়। গত ফেব্রুয়ারিতেই আবার এই ফিটলিস্ট করা হয়। প্রায় চার মাস যাবৎ ডিসির ফিটলিস্ট তৈরি করে এ সংক্রান্ত কমিটি। ব্যাপকভিত্তিক যাচাই-বাছাই করে শতাধিক কর্মকর্তার একটি তালিকা চূড়ান্ত করে তা গত ২৫ মার্চ প্রধান উপদেষ্টার দফতরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। দুই মাস পর বৃহস্পতিবার তা অনুমোদন শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফেরত এসেছে। একটি তালিকা অনুমোদনে সময় লেগেছে দুই মাস। এখন আবার পদোন্নতি ও পদায়ন-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ফিটলিস্ট থেকে জনপ্রশাসন-বিষয়ক কমিটির সুপারিশে ডিসি হবেন সৌভাগ্যবান কর্মকর্তারা, যারা প্রশাসন ক্যাডারের উপসচিব।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানা গেছে, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ১০৮ জনের ফিটলিস্ট তৈরি করা হয়। ওই লিস্ট থেকে ৬১ জেলায় ডিসি পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ওই নিয়োগ ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছিল। এরপর চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে নতুন ফিটলিস্ট তৈরির কাজ শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তারা ছয় ধাপে বিসিএস প্রশাসন ২৫ ও ২৭তম ব্যাচের ২৬৯ জন উপসচিবের সাক্ষাৎকার নেয়। কতজনকে ফিটলিস্টে রাখা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে কেউ কেউ বলেছেন, সর্বশেষ সাক্ষাৎকারগুলো থেকে অর্ধশতকের কিছু বেশি কর্মকর্তাকে ফিটলিস্টে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ২৪তম ব্যাচের ২৬ জন, ২৫তম ব্যাচের ২৫ জন এবং ২৭তম ব্যাচের ১৩ কর্মকর্তা ডিসির দায়িত্বে আছেন। এর মধ্যে ২৪তম ব্যাচের ২৬ জনের মধ্যে ২১ জন গত ২০ মার্চ পদোন্নতি পেয়ে যুগ্মসচিব হন। ডিসি পদে উপসচিবরাই দায়িত্ব পালন করেন। পদোন্নতির পর যুগ্মসচিবদের ডিসি পদে রাখা হয় না। তাদের মাঠ প্রশাসন থেকে তুলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও অন্যান্য দফতর বা সংস্থায় পদায়ন করা হয়। তাই ২৪তম ব্যাচের ২১ যুগ্ম সচিবকে মাঠ থেকে তুলে আনবে সরকার। এরপর নতুন করে সেখানে ২৫ ও ২৭তম ব্যাচ থেকে ডিসি নিয়োগ দেয়া হবে। এ জন্য জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটির পরামর্শসভা হতে হবে।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা, এডহক ডাক্তারের প্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ–যেন দেখার কেউ নেই

বিতর্কিত ডিসিদের তুলে নেয়া হচ্ছে

আপডেট টাইম ১০:২১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের ১০ মাস পার হয়েছে। আগামী মাসে জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি সনদ বাস্তবায়ন হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু প্রশাসনে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়োগ পাওয়া আমলাদের অপসারণ ও শাস্তি হয়নি। প্রশাসনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসনে ডিসি-এসপিদের নিয়োগ ও বদলিতে এনসিপি-জামায়াতের সুপারিশের ভিত্তিতে দেয়া হয়েছিল। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের আমলারা গত ১০ মাসে এনসিপি-জামায়াতের উপর ভর করে প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। গত শুক্রবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রশাসনের চিত্র পাল্টাতে শুরু হয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেড় ঘণ্টার বৈঠক সফল হওয়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বস্তির সুবাতাস বইছে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যকার ঐতিহাসিক বৈঠকটি ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য কফিনে শেষ পেরেক (গেম ওভার মুহূর্ত)। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শফিকুল আলম লিখেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল ঐতিহাসিক। এটি ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য গেম ওভার মুহূর্ত (কফিনে শেষ পেরেক)।

মাঠ প্রশাসনে তিন ব্যাচ কর্মকর্তাদের নিয়ে ৬৪ জেলার দায়িত্ব পালন করছেন ডিসিরা। বর্তমানে ২৪তম ব্যাচের ২৬ জন, ২৫তম ব্যাচের ২৫ জন এবং ২৭তম ব্যাচের ১৩ কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ২৪তম ব্যাচের ২৬ জনের মধ্যে ২১ জনকে গত ২০ মার্চ পদোন্নতি দিয়ে যুগ্মসচিব করা হলেও তাদের ডিসি পদে থাকা দুই বছর পূর্ণ হয়নি, তাদের মাঠ রাখতে পারে সরকার। তবে যেসব ডিসি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সরাসরি ভূমিকা পালন করছেন এবং যাদের বিরুদ্ধে মাঠ প্রশাসনে বিতর্ক সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে তাদের প্রত্যাহার করা হবে।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩৫ জেলায় ডিসি নিয়োগের সুপারিশ করেছে জামায়াত ও এনসিপি। তাদের দেয়া সেই তালিকায় থাকা বেশির ভাগ কর্মকর্তাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এ কারণে তাদের ডিসি পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সে কারণে ফ্যাস্টিস সরকারের কোনো কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগ দেবে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চলতি জুন মাসে মাসে বিতর্কিত ডিসিদের তুলে নেয়া কথা থাকলেও সেটি আগামী জুলাই মাসে মাঠ প্রশাসন থেকে ডিসিদের প্রত্যাহার করা বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব একাই ২৬ জন ডিসি নিয়োগ দেয়ার জন্য গত মে মাসে একটি সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তা ফেরত পাঠানো হয়েছে। ঝুলে আছে পদোন্নতি, ডিসি নিয়োগ ও প্রত্যাহার। আর ২৪ ব্যাচের বঞ্চিতদের রিভিউ হয়নি। যা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তার অভাবে স্থবিরতা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

এদিকে পতিত হাসিনার দোসররা এখনো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে বসে পরিকল্পিতভাবে অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করে দেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা চুপচাপ শুধু দেখেই যাচ্ছেন। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি এভাবে চলতে পারে না। অবিলম্বে সচিবালয়, প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোকে হাসিনার দোসরমুক্ত দেখতে চান বলেও জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা।

বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের সভাপতি এ বি এম আব্দুস সাত্তার ইনকিলাবকে বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের জনগণ যে স্বপ্ন, যে আশা ও আকাক্সক্ষা নিয়ে গণঅভ্যুত্থানত্তোর পরিস্থিতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত সরকারকে সমর্থন দিয়েছিল, সে সমর্থন আমাদের থাকবে। আমরা চাই আওয়ামী ফ্যাসিস্ট মুক্ত জনপ্রশাসন।

জানা গেছে, দেশের ২১ জেলায় নতুন করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেবে সরকার। এসব জেলার ডিসিরা এরই মধ্যে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হয়েছেন। তাদের গত মে মাসে তুলে আনার কথা ছিল। কিন্তু জনপ্রশাসন-বিষয়ক কমিটির সিদ্ধান্তের বিলম্বের কারণে এখন পর্যন্ত ডিসি নিয়োগ দিতে পারেনি সরকার। ডিসি নিয়োগপ্রত্যাশী কর্মকর্তাদের আগামী মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সরকার চাইছে জুনের বাজেট শেষ হলে নতুন ডিসি নিয়োগ দেয়া হবে। সে জন্য একটি তালিকা তৈরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এতে যারা কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন তাদেরকে বাছাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসন হলেই ডিসি নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষে থেকে কোনো তালিকা দেয়া হয়নি। তাদের দাবি, মেধাবী, বঞ্চিত ও যোগ্য কর্মকর্তাদের ডিসি পদে নিয়োগ চান তারা। জনপ্রশাসন-বিষয়ক কমিটির সভাপতি ও অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন হয়তো শিগগিরই ডিসি নিয়োগ নিয়ে সভা করবেন। তার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি (নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ) অতিরিক্ত সচিব মো. এরফানুল হক ইনকিলাবকে বলেন, ডিসি নিয়োগের বিষয়টি জনপ্রশাসন-বিষয়ক কমিটির ওপর নির্ভর করছে। তারাই বলতে পারবে কবে নাগাদ নিয়োগ হবে। তবে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানি।

জনপ্রশাসনের দায়িত্বশীল কয়েজন কর্মকর্তা বলেন, সরকার জনপ্রশাসনে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ যুগ্মসচিব ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য চারজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিবকে নিয়ে ‘জনপ্রশাসন-বিষয়ক কমিটি’ করেছে। এ কমিটি গঠনের পর নিয়োগে একটু জটিলতা দেখা দিয়েছে। ৩৫ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগের সুপারিশ করেছে জামায়াত ও এনসিপি। তাদের দেয়া সেই তালিকায় বেশির ভাগ কর্মকর্তাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত, এ কারণে ডিসি নিয়োগ প্রক্রিয়া দেরি হচ্ছে। তবে সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত ও এনসিপির নেতারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর ডিসি নিয়োগ নিয়ে নানান ধরনের সমালোচনায় পড়তে হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। অনেকে নিজেদের ‘বঞ্চিত’ দাবি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নজিরবিহীন কা- ঘটিয়েছিলেন। ঘুষ ও অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে মারামারি ও হাতাহাতি পর্যন্ত করেছেন জনপ্রশাসনে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণœ হয়েছে। আবার অনেকে বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে ভালো ভালো দফতর-সংস্থায় চাকরি করেও ৫ আগস্টের পর ডিসি পদ বাগিয়ে নিয়ে মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেকেই পতিত আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন। তবুও তারা নতুন সরকার ও প্রশাসনে ডিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে এবং হচ্ছে। তাই এবার ডিসি নিয়োগে সরকার খুবই সতর্ক রয়েছে। ব্যাপক যাচাই-বাছাই প্রায় শেষ। অর্থাৎ আওয়ামী সুবিধাভোগী কোনো কর্মকর্তাকে ডিসি করবে না সরকার। কেউ ছলচাতুরি বা তথ্য গোপন করে ডিসি হলে এবং পরে তা প্রমাণিত হলে তাদের ভবিষ্যত কর্মজীবন ‘ভালো’ হবে না তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তারপর বেশ কয়েকজন উদেষ্টা পতিত আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের ডিসি পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। তাদের বিষয়টি নিয়ে বিপাকে পড়েছে সরকার।

কমিটির সভাপতি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এবং কমিটির সদস্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব বিদেশে থাকার ফলে তাদের অনুপস্থিতির কারণে নিয়োগ-সংক্রান্ত কমিটির পরামর্শসভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ জন্য ডিসি নিয়োগে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এর বাইরে বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষাকেন্দ্রিক ডিসিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। পরীক্ষা চলাকালীন নিয়োগ দেয়া হলে নতুন ডিসিরা অনেক কিছু বুঝে উঠতে পারবেন না। এ জন্য নতুন নিয়োগ হচ্ছে না। সামনে ঈদকেন্দ্রিক জেলা প্রশাসনকে অনেক কাজ করতে হবে। নতুন করে ডিসি নিয়োগ হলে তারা হঠাৎ করে মাঠে গিয়ে কাজ সামলাতে পারবেন না। এ জন্য হয়তো সরকার একটু সময় নিচ্ছে। তবে নতুন ডিসি নিয়োগ হলে তারা খুব উৎসাহ নিয়েই ঈদকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে কাজ করতে পারবেন বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তারা পরীক্ষা নিয়েও কাজ করতে পারবেন। এ মুহূর্তে নতুন ডিসি নিয়োগ দিলে কোনো সমস্যাই হবে না। তবুও সরকার কালক্ষেপণ করছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, নতুন করে ডিসি নিয়োগ দিতে বিসিএস প্রশাসন ২৫ ও ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ফিটলিস্ট প্রস্তুত করেছে জনপ্রশাসন। গত বছর নভেম্বর মাস থেকে ডিসির ফিটলিস্ট তৈরির কাজ শুরু হয়। গত ফেব্রুয়ারিতেই আবার এই ফিটলিস্ট করা হয়। প্রায় চার মাস যাবৎ ডিসির ফিটলিস্ট তৈরি করে এ সংক্রান্ত কমিটি। ব্যাপকভিত্তিক যাচাই-বাছাই করে শতাধিক কর্মকর্তার একটি তালিকা চূড়ান্ত করে তা গত ২৫ মার্চ প্রধান উপদেষ্টার দফতরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। দুই মাস পর বৃহস্পতিবার তা অনুমোদন শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফেরত এসেছে। একটি তালিকা অনুমোদনে সময় লেগেছে দুই মাস। এখন আবার পদোন্নতি ও পদায়ন-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ফিটলিস্ট থেকে জনপ্রশাসন-বিষয়ক কমিটির সুপারিশে ডিসি হবেন সৌভাগ্যবান কর্মকর্তারা, যারা প্রশাসন ক্যাডারের উপসচিব।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানা গেছে, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ১০৮ জনের ফিটলিস্ট তৈরি করা হয়। ওই লিস্ট থেকে ৬১ জেলায় ডিসি পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ওই নিয়োগ ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছিল। এরপর চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে নতুন ফিটলিস্ট তৈরির কাজ শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তারা ছয় ধাপে বিসিএস প্রশাসন ২৫ ও ২৭তম ব্যাচের ২৬৯ জন উপসচিবের সাক্ষাৎকার নেয়। কতজনকে ফিটলিস্টে রাখা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে কেউ কেউ বলেছেন, সর্বশেষ সাক্ষাৎকারগুলো থেকে অর্ধশতকের কিছু বেশি কর্মকর্তাকে ফিটলিস্টে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ২৪তম ব্যাচের ২৬ জন, ২৫তম ব্যাচের ২৫ জন এবং ২৭তম ব্যাচের ১৩ কর্মকর্তা ডিসির দায়িত্বে আছেন। এর মধ্যে ২৪তম ব্যাচের ২৬ জনের মধ্যে ২১ জন গত ২০ মার্চ পদোন্নতি পেয়ে যুগ্মসচিব হন। ডিসি পদে উপসচিবরাই দায়িত্ব পালন করেন। পদোন্নতির পর যুগ্মসচিবদের ডিসি পদে রাখা হয় না। তাদের মাঠ প্রশাসন থেকে তুলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও অন্যান্য দফতর বা সংস্থায় পদায়ন করা হয়। তাই ২৪তম ব্যাচের ২১ যুগ্ম সচিবকে মাঠ থেকে তুলে আনবে সরকার। এরপর নতুন করে সেখানে ২৫ ও ২৭তম ব্যাচ থেকে ডিসি নিয়োগ দেয়া হবে। এ জন্য জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটির পরামর্শসভা হতে হবে।