ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চার শহীদ এবং সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে প্রায় ২৩ বছর পর রাজনৈতিক সফরে
ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো। নেতাকর্মীদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য। সাজানো হচ্ছে কর্মসূচির ভেন্যু, জোরদার করা হয়েছে সার্বিক ব্যবস্থাপনা। একইসঙ্গে শীর্ষ এই নেতার আগমন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
পরদিন মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ১০টার দিকে তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ আল মামুনের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (বড় মাঠ) অনুষ্ঠিতব্য বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেবেন। দোয়া মাহফিল শেষে তিনি পার্শ্ববর্তী জেলা পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হবেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব কামরুজ্জামান কামু বলেন, প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঠাকুরগাঁও আগমন আমাদের জন্য গৌরব ও আবেগের। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এই কর্মসূচি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শক্তিকে নতুন করে জাগ্রত করবে। এই সফর তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল আরও দৃঢ় করবে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েস বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের রক্তের দায় এখনো শেষ হয়নি। তারেক রহমানের আগমন সেই দায় আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি সবসময় শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থেকেছেন, ঠাকুরগাঁওয়ে এসে সেটারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে যাচ্ছেন।
যুবদলের একাধিক নেতা বলেন, তারেক রহমান আমাদের অনুপ্রেরণা। দীর্ঘদিন পর তার আগমন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, তার নেতৃত্বেই আগামী দিনে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামী ১২ জানুয়ারি রাতে ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন। বাই রোডে আসায় নির্দিষ্ট সময় এখনই বলা যাচ্ছে না। তিনি রাতে বুরো বাংলাদেশ গেস্ট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন সকালে জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে বড় মাঠে দোয়া মাহফিলে যোগ দেবেন।
তিনি বলেন, চার শহীদের কবর ভিন্ন ভিন্ন স্থানে হওয়ায় তিনি শহীদ আল মামুনের কবরে শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর দোয়া মাহফিলে প্রায় এক ঘণ্টা সময় দিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন।
পয়গাম আলী বলেন, নেতার আগমন উপলক্ষে আমরা একাধিক প্রস্তুতি সভা করেছি এবং প্রশাসনকে নিরাপত্তার বিষয়ে অবগত করেছি। দীর্ঘদিন পর তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন। এর আগে, ২০০৩ সালে শীতকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি এখানে এসেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি, তার আগমনে ঠাকুরগাঁওবাসী অত্যন্ত আনন্দিত হবে। নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত। নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে বড় জনসভার সুযোগ না থাকলেও দেশনেত্রীর স্মরণে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আমরা এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচিকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সংবাদ সারাদিন ডেস্ক : 










