আজম রেহমান, ঠাকুরগাঁও ব্যুরো: ঠাকুরগায়ে সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে একমাত্র ছেলে মৃত বাবার লাশ দাফনে বাধা দেয়। একমাত্র ছেলের বাধার কারেন মৃতু্র ২৩ ঘন্টা পরে দাফন করা হয় বৃদ্ধ পিতার মরদেহ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের পশ্চিম সরলিয়া গ্রামে। একমাত্র ছেলে উপজেলার সরলিয়া গ্রামের মহসিন আলী বাবার ভরণ পোষণ না করায় উপজেলায় মহিষমারী গ্রামে মেয়ে বিউটি আক্তারের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন বাবা তসলিম উদ্দিন(৭০)। মেয়ে বিউটি আক্তারই বাবার দেখাশুনা এবং চিকিৎসা করাচ্ছিলেন।
৩০ নভেম্বর সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান তসলিম উদ্দীন। আত্মীয়-স্বজনদের জানিয়ে রাতেই দাফন করার জন্য মরদেহ নেয়া হয় পশ্চিম সরলিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে। কিন্তু ছেলে মহসিন আলী বাবার মরদেহ বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেয়। এরপর তসলিম উদ্দীনের মরদেহ স্থান পায় পাশেই ভাইয়ের বাড়ির বারান্দায়।
স্থানীয়রা জানান,ছেলের সহযোগীতা না পেয়ে, মেয়েদের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার কারণে তসলিম উদ্দীনের ছেলে মহসিন আলী বাবার মৃত্যু স্বাভাবিক হয়নি অভিযোগ তুলে রোববার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এরপরে মরদেহ দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। স্থানীয়দের অনুরোধে মরদেহ নেওয়া হয় ছেলে বাড়িতে।
এ বিষয়ে মহসিন আলী বলেন, বাবা বোনের বাড়িতে মারা যাওয়ায় সন্দেহ হয়েছিল। এ কারণে থানায় অভিযোগ করেছি। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ আগের। এখানে সম্পত্তির কোনো বিষয় নয়। এখন আমরা সবাই আপোষ হয়ে গেছি।
দু্ওসুও ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হবিবুর রহমান বলেন, মৃত্যুর পরপরই জমি ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ছেলে লাশ আটকে রাখে। পরে দু’পক্ষকে নিয়ে বসে মীমাংসা করা হয়। দুপুরের পর কবর খুঁড়ার অনুমতি দেয় মহসিন আলী। এরপরে সন্ধার আগে জানাজা শেষে তার বাবার দাফন করা হয়।
বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো: দুরুল হুদা বলেন, এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক সমস্যা। গতরাতে ছেলে একটি অভিযোগ দিয়েছিল। পরে আর কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং মৃত্যুর বিষয়ে সন্দেহ দূর হওয়ায় ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং দাফন হয়ে গেছে।
সংবাদ সারাদিন ডেস্ক : 









