সংবাদ শিরোনাম
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর-৪২ বিজিবি’র উদ্যোগে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ দিনাজপুরে ৪২ বিজিবি’র বিশেষ অভিযান: বিরল সীমান্তে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ মাদক পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে- ৪২ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান –বিজিবি’র অভিযানে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর  সীমান্তে ১ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার পীরগঞ্জে মাদক ব্যবসার বাইক জালিয়ে দিলেন জনগন মির্জা ফয়সল-ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে রাজনীতি,অত:পর ঠাকুরগাঁও-১ এর সংসদ সদস্য ৪২ বিজিবি’র অভিযানে ৫ জন আটক, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার-‘মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং পরিবার ও সমাজের স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করে- লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান মানবিকতা, সততা ও কর্মনিষ্ঠায় পীরগঞ্জ-বাসীর আস্থার প্রতীক ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার ৪২-বিজিবি দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন এর বিশেষ অভিযান, বিরল সীমান্তে ভারতীয় মদ উদ্ধার ৪২-বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর সীমান্ত এলাকায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার সীমান্তের ১৩ টি পূজা মন্ডবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছে ৪২ বিজিবির সদস্যরা

ঠাকুরগাঁও ‘আয়শা সিদ্দিকা’ মাদরাসা থেকে নিখোঁজ তিন কিশোরীর সন্ধান ৮ দিনেও মেলেনি

আজম রেহমান,ষ্টাফ রিপোর্টার:: ঠাকুরগাঁওয়ে ‘‘আয়শা সিদ্দিকা’ মাদরাসার নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর সন্ধান ৮  দিনেও মেলেনি। এ ঘটনায় শনিবার ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের হয়েছে।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টায় সর্বশেষ মাদরাসায় দেখা যায় নিখোঁজ তিন ছাত্রীকে। ভোর ৫টার সময় তাদের ডাকতে তাদের রুমে গেলে তাদের আর পাওয়া যায়নি। পরে মাদরাসার দোতলার বারান্দায় মশারি ঝুলন্ত অবস্থায় বাধা দেখতে পেয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ধারণা করেন তারা পালিয়ে যায়।

শহরের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়— নিখোঁজ তিন ছাত্রী রাত ১টার সময় একটি রিকশা করে প্রথমে ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ডে যান। এরপর রিকশা বদল করে তারা ঠাকুরগাঁও রেলস্টেশনে যান। তবে সেই রাতে কোনো ট্রেন না পেয়ে রোড আবাসিক হোটেলে ভোর ৪টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। পরে আবার তারা স্টেশনে গিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করে রোড অটোস্ট্যান্ডে ফিরে যান এবং ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জের উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশা নিয়ে রওনা হন।

এদিকে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করছেন অনেকেই।

নিখোঁজ তামান্নার মা আখলিমা বেগম বলেন, মাদরাসায় অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে। তবুও কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসা ভবনে কোনো প্রকার নিরাপত্তা প্রহরী রাখেনি। তাদের ভবনের বারান্দায় কোনো গ্রিল নেই, ফলে সহজেই কেউ চাইলে ভবনের ভেতরে বা ভবন থেকে বাইরে যেতে পারছে। আমরা তো আমাদের মেয়েদের তাদের ভরসায় সেখানে রেখেছিলাম।

নিখোঁজ কিশোরী আয়শার বোন লাবনী বলেন, আমরা জানতে পেরেছি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মারধর করে নির্যাতন করতো। আমার বোন নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন আগে আমাদের এই নির্যাতনের কথা জানিয়েছিল এবং দ্রুতই সেখান থেকে নিয়ে আসতে বলেছিল। তবে আমরা নিয়ে আসিনি, যার ফলে আজ আমার বোনকে হারাতে হলো। আমি নিশ্চিত, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নির্যাতনের কারণে এই তিন মেয়ে পালিয়ে গেছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার দায় স্বীকার করে আয়শা সিদ্দিকা মাদরাসার প্রধান শিক্ষিকা হামিদা বেগম বলেন, আমরা বুঝতে পারিনি এত তাড়াতাড়ি এমন একটা ঘটনা ঘটে যাবে। আমরা মাদরাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছিলাম। তবে আমার বিরুদ্ধে যে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা ভিত্তিহীন।

আয়শা সিদ্দিকা মাদ্রাসার পরিচালক মুফাসসির মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা যদি নির্যাতন করে থাকি, তাহলে মেয়েরা নিজের বাসায় ফিরে যাবে, পালিয়ে যাবে কেন। পালালে তার দায় তো আমরা নেবো না। অন্য কেউ তো পালায়নি। এরা কেনো পালালো। এরা যদি কোনো ছেলের হাত ধরে চলে যায় আমরা কি করতে পারব?

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর-৪২ বিজিবি’র উদ্যোগে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

ঠাকুরগাঁও ‘আয়শা সিদ্দিকা’ মাদরাসা থেকে নিখোঁজ তিন কিশোরীর সন্ধান ৮ দিনেও মেলেনি

আপডেট টাইম ০৫:১৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আজম রেহমান,ষ্টাফ রিপোর্টার:: ঠাকুরগাঁওয়ে ‘‘আয়শা সিদ্দিকা’ মাদরাসার নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর সন্ধান ৮  দিনেও মেলেনি। এ ঘটনায় শনিবার ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের হয়েছে।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টায় সর্বশেষ মাদরাসায় দেখা যায় নিখোঁজ তিন ছাত্রীকে। ভোর ৫টার সময় তাদের ডাকতে তাদের রুমে গেলে তাদের আর পাওয়া যায়নি। পরে মাদরাসার দোতলার বারান্দায় মশারি ঝুলন্ত অবস্থায় বাধা দেখতে পেয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ধারণা করেন তারা পালিয়ে যায়।

শহরের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়— নিখোঁজ তিন ছাত্রী রাত ১টার সময় একটি রিকশা করে প্রথমে ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ডে যান। এরপর রিকশা বদল করে তারা ঠাকুরগাঁও রেলস্টেশনে যান। তবে সেই রাতে কোনো ট্রেন না পেয়ে রোড আবাসিক হোটেলে ভোর ৪টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। পরে আবার তারা স্টেশনে গিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করে রোড অটোস্ট্যান্ডে ফিরে যান এবং ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জের উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশা নিয়ে রওনা হন।

এদিকে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করছেন অনেকেই।

নিখোঁজ তামান্নার মা আখলিমা বেগম বলেন, মাদরাসায় অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে। তবুও কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসা ভবনে কোনো প্রকার নিরাপত্তা প্রহরী রাখেনি। তাদের ভবনের বারান্দায় কোনো গ্রিল নেই, ফলে সহজেই কেউ চাইলে ভবনের ভেতরে বা ভবন থেকে বাইরে যেতে পারছে। আমরা তো আমাদের মেয়েদের তাদের ভরসায় সেখানে রেখেছিলাম।

নিখোঁজ কিশোরী আয়শার বোন লাবনী বলেন, আমরা জানতে পেরেছি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মারধর করে নির্যাতন করতো। আমার বোন নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন আগে আমাদের এই নির্যাতনের কথা জানিয়েছিল এবং দ্রুতই সেখান থেকে নিয়ে আসতে বলেছিল। তবে আমরা নিয়ে আসিনি, যার ফলে আজ আমার বোনকে হারাতে হলো। আমি নিশ্চিত, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নির্যাতনের কারণে এই তিন মেয়ে পালিয়ে গেছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার দায় স্বীকার করে আয়শা সিদ্দিকা মাদরাসার প্রধান শিক্ষিকা হামিদা বেগম বলেন, আমরা বুঝতে পারিনি এত তাড়াতাড়ি এমন একটা ঘটনা ঘটে যাবে। আমরা মাদরাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছিলাম। তবে আমার বিরুদ্ধে যে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা ভিত্তিহীন।

আয়শা সিদ্দিকা মাদ্রাসার পরিচালক মুফাসসির মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা যদি নির্যাতন করে থাকি, তাহলে মেয়েরা নিজের বাসায় ফিরে যাবে, পালিয়ে যাবে কেন। পালালে তার দায় তো আমরা নেবো না। অন্য কেউ তো পালায়নি। এরা কেনো পালালো। এরা যদি কোনো ছেলের হাত ধরে চলে যায় আমরা কি করতে পারব?