সংবাদ শিরোনাম
তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুর মৃত্যু, স্বামী পলাতক সাংবাদিকতার চাইতে চ্যালেঞ্জিং পেশা আর নেই-মির্জা ফখরুল পীরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ দপ্তরে নির্ধারিত ৫শ৪৬ খামারীর মাঝে পশুখাদ্য ও উপকরণ বিতরণ পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদে এমপি’র অফিস উদ্বোধন পীরগঞ্জে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে স্থানীয় এমপি;র মত-বিনীময় সভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে আল-হাসানাহ স্কুলের ১ম ত্রৈ-মাসিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত পীরগঞ্জে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ কিলোমিটার খাল-খনন প্রকল্পের উদ্বোধন পীরগঞ্জে পূর্ব চৌরাস্তা ব্যাবসায়ী সমিতি নির্বাচন-রব্বানী সভাপতি, রাজা সম্পাদক পীরগঞ্জে সিসি ক্যামেরার আওতায় নকলমুক্ত পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

মুক্তিপণের ২৫ লাখ নিয়েও মিলন হত্যা, গলিত লাশ উদ্ধার, ঘাতকের বাড়ীঘরে জনতার  অগ্নিসংযােগ, বিচারের দাবীতে ডিসি অফিস ঘেরা

আজম রেহমান:: ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে পড়ে অপহরণের শিকার মিলন হোসেনের (২২) মরদেহ ২৬ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। জমিজায়গা বিক্রি করে মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা দিয়েও ছেলেকে জীবিত না পেয়ে নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।স্বজনদের আহাজারীতে পীরগঞ্জের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
নিহত মিলন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁও ইউনিয়নের চাপাপাড়া এলাকার পানজাব আলীর ছেলে। মিলন দিনাজপুর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র ছিলেন।
বুধবার (১৯ মার্চ) দিবাগত রাত ১০টার দিকে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে ঠাকুরগাঁও ডিবি পুলিশ।
আটকরা হলেন- ঠাকুরগাঁও সদরের মহেশপুর বিটবাজার এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে সিজান আলী (২৮), আরাজি পাইকপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে মুরাদ (২৫) ও সালন্দর ইউনিয়নের শাহীনগর তেলিপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে রত্না আক্তার রিভা (১৯)। এ সময় মুরাদের হেফাজত থেকে ৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
এদিকে বৃহষ্পতিবার দুপুরে মিলন হোসেনের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেন এলাকাবাসী। পরে জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা মিলন হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার করা হবে বলে স্বজনদের আশ্বস্ত করেন। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ছেড়ে চৌরাস্তায় অবস্থান নেন তারা। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এর আগে বিক্ষুব্ধ জনতা আটক সিজান আলীর বসতবাড়ি ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেন। আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিেসর গাড়ী জনতার বাধার মুখে ঘটনাস্থলে পেৌছতে পারেনি।
সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মিলন হোসেনের সঙ্গে ফেসবুকে অজ্ঞাত একজনের যোগাযোগ হয়। একপর্যায়ে সেই ব্যক্তি মিলন হোসেনকে দেখা করার কথা বলেন। একই দিন দুপুরে দেখা করার জন্য পীরগঞ্জ থেকে জেলা শহরের মুন্সিরহাট পলিটেকনিক্যালের পেছনে লিচু বাগানে যান মিলন। এরপর রাতে মিলন বাড়িতে না এলে তার বড় ভাই হামিদুর রহমান মিলনের মুঠোফোনে কল করলে বন্ধ পান। মিলনকে ফোনে না পেয়ে তার ভাই পরিবার ও এলাকার লোকজনকে অবগত করলে সবাই মিলে মিলনকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোথাও সন্ধান পায়নি। ওই দিন রাত ১টার দিকে মিলনের বাবাকে ফোন করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি জানান যে, মিলন তাদের হেফাজতে রয়েছে। অতঃপর তারা ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
পরে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তার পরিবার। অপহরণের তিন দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি মিলনকে হত্যা করে অপহরণকারীরা। এরপরও মিলনকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ধাপে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ বাগিয়ে নেয় অপহরণকারী চক্রটি। পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সিজান ও মুরাদকে আটক করে।
আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামি সিজানের বাড়ির পিছনের অব্যবহৃত টয়লেটের স্লাবের ভেতর থেকে বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মাটি খুঁড়ে অপহৃত মিলনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে আরেক আসামি রত্না আক্তার ইভাকে আটক করে। ধারণা করা হচ্ছে অপহৃত মিলন অপহরণকারী চক্রকে চিনে ফেলায় তারা হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে এই বিষয়ে কাজ করছিলাম কিন্তু কোনো ক্লু পাচ্ছিলাম না। প্রযুক্তির সহযোগিতায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা স্বীকার করে তারা মিলনকে খুন করেছে ও তাদের দেওয়া তথ্যমতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ বর্তমানে মর্গে রয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- মির্জা ফখরুল

মুক্তিপণের ২৫ লাখ নিয়েও মিলন হত্যা, গলিত লাশ উদ্ধার, ঘাতকের বাড়ীঘরে জনতার  অগ্নিসংযােগ, বিচারের দাবীতে ডিসি অফিস ঘেরা

আপডেট টাইম ০৪:৪৯:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫

আজম রেহমান:: ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে পড়ে অপহরণের শিকার মিলন হোসেনের (২২) মরদেহ ২৬ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। জমিজায়গা বিক্রি করে মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা দিয়েও ছেলেকে জীবিত না পেয়ে নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।স্বজনদের আহাজারীতে পীরগঞ্জের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
নিহত মিলন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁও ইউনিয়নের চাপাপাড়া এলাকার পানজাব আলীর ছেলে। মিলন দিনাজপুর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র ছিলেন।
বুধবার (১৯ মার্চ) দিবাগত রাত ১০টার দিকে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে ঠাকুরগাঁও ডিবি পুলিশ।
আটকরা হলেন- ঠাকুরগাঁও সদরের মহেশপুর বিটবাজার এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে সিজান আলী (২৮), আরাজি পাইকপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে মুরাদ (২৫) ও সালন্দর ইউনিয়নের শাহীনগর তেলিপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে রত্না আক্তার রিভা (১৯)। এ সময় মুরাদের হেফাজত থেকে ৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
এদিকে বৃহষ্পতিবার দুপুরে মিলন হোসেনের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেন এলাকাবাসী। পরে জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা মিলন হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার করা হবে বলে স্বজনদের আশ্বস্ত করেন। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ছেড়ে চৌরাস্তায় অবস্থান নেন তারা। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এর আগে বিক্ষুব্ধ জনতা আটক সিজান আলীর বসতবাড়ি ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেন। আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিেসর গাড়ী জনতার বাধার মুখে ঘটনাস্থলে পেৌছতে পারেনি।
সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মিলন হোসেনের সঙ্গে ফেসবুকে অজ্ঞাত একজনের যোগাযোগ হয়। একপর্যায়ে সেই ব্যক্তি মিলন হোসেনকে দেখা করার কথা বলেন। একই দিন দুপুরে দেখা করার জন্য পীরগঞ্জ থেকে জেলা শহরের মুন্সিরহাট পলিটেকনিক্যালের পেছনে লিচু বাগানে যান মিলন। এরপর রাতে মিলন বাড়িতে না এলে তার বড় ভাই হামিদুর রহমান মিলনের মুঠোফোনে কল করলে বন্ধ পান। মিলনকে ফোনে না পেয়ে তার ভাই পরিবার ও এলাকার লোকজনকে অবগত করলে সবাই মিলে মিলনকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোথাও সন্ধান পায়নি। ওই দিন রাত ১টার দিকে মিলনের বাবাকে ফোন করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি জানান যে, মিলন তাদের হেফাজতে রয়েছে। অতঃপর তারা ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
পরে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তার পরিবার। অপহরণের তিন দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি মিলনকে হত্যা করে অপহরণকারীরা। এরপরও মিলনকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ধাপে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ বাগিয়ে নেয় অপহরণকারী চক্রটি। পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সিজান ও মুরাদকে আটক করে।
আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামি সিজানের বাড়ির পিছনের অব্যবহৃত টয়লেটের স্লাবের ভেতর থেকে বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মাটি খুঁড়ে অপহৃত মিলনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে আরেক আসামি রত্না আক্তার ইভাকে আটক করে। ধারণা করা হচ্ছে অপহৃত মিলন অপহরণকারী চক্রকে চিনে ফেলায় তারা হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে এই বিষয়ে কাজ করছিলাম কিন্তু কোনো ক্লু পাচ্ছিলাম না। প্রযুক্তির সহযোগিতায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা স্বীকার করে তারা মিলনকে খুন করেছে ও তাদের দেওয়া তথ্যমতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ বর্তমানে মর্গে রয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।