সংবাদ শিরোনাম
তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুর মৃত্যু, স্বামী পলাতক সাংবাদিকতার চাইতে চ্যালেঞ্জিং পেশা আর নেই-মির্জা ফখরুল পীরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ দপ্তরে নির্ধারিত ৫শ৪৬ খামারীর মাঝে পশুখাদ্য ও উপকরণ বিতরণ পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদে এমপি’র অফিস উদ্বোধন পীরগঞ্জে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে স্থানীয় এমপি;র মত-বিনীময় সভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে আল-হাসানাহ স্কুলের ১ম ত্রৈ-মাসিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত পীরগঞ্জে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ কিলোমিটার খাল-খনন প্রকল্পের উদ্বোধন পীরগঞ্জে পূর্ব চৌরাস্তা ব্যাবসায়ী সমিতি নির্বাচন-রব্বানী সভাপতি, রাজা সম্পাদক পীরগঞ্জে সিসি ক্যামেরার আওতায় নকলমুক্ত পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২ ঘণ্টা আগে প্রশ্ন ফাঁস পটুয়াখালীতে, গ্রেপ্তার ৪৫

নরসিংদী প্রতিনিধি::

দ্বিতীয ধাপে গতকাল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ২ ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ও উত্তর সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে নরসিংদী জেলার ৩টি উপজেলা সহ অন্যান্য কয়েকটি জেলার প্রশ্নের হুবহু মিল
পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নরসিংদীতে ৩/৪টি চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পরীক্ষার ২/৩ ঘণ্টা আগে তাদের গোপনস্থানে পরিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশ্ন ও প্রশ্নের উত্তর পড়িয়ে দিয়ে পরিক্ষার্থীদের স্ব স্ব কেন্দ্র ওই চক্রদের গাড়ি দিয়ে পাঠিয়ে দেয়। এমনই অভিযোগ অনেক মেধাবী পরীক্ষার্থীর।

নিয়োগ পরিক্ষার্থী ফারুক জানায়, বিভিন্ন স্থান থেকে লোকের মাধ্যমে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে প্রশ্ন ও উত্তর মালা লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীরা পেয়েছে। মো. সুমন ইসলাম নামে এক তরুণ তার ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে পরীক্ষার ঠিক দু’ঘণ্টা আগে উত্তরপত্রসহ প্রশ্নপত্র আপলোড করেন যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছুক্ষণের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে একদিকে মেধাবী শিক্ষার্থীরা সুযোগ হারালো অন্যদিকে অযোগ্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে  গেল। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা পুনরায় পরীক্ষা দাবি করেছেন। নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আউয়াল বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয় বলবেন।  জেলা প্রশাসক বলেন নরসিংদী থেকে কোন প্রশ্ন ফাসঁ হয়নি। এমন কোন ঘটনা হলে আমরা জানতাম। তবে আপনারা জানেন পটুয়াখালী প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার চক্রান্তের বেশ কয়েকজনকে সাজা দেয়া হয়েছে। আমরা নরসিংদী কঠোর নজরদারিতে রেখেছি। এখানে কেউ কিছু করবে তার কোন সুযোগও ছিল না।
এদিকে পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায়  প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এর সহযোগিতার অপরাধে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড এবং ৩৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গতকাল পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হাফিজ জানান, বিভিন্ন কেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বনের কারণে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুই জন খাবার সরবরাহকারী (ওমেদার) নিয়ম ভেঙ্গে গোপন কক্ষে প্রবেশ করায় তাদেরকেও এক মাস করে বিনাশ্রম করাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এদিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাইনুল হাসান জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোট ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র এবং মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে। পাশাপাশি এই প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত সে বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান পুলিশ সুপার।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- মির্জা ফখরুল

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২ ঘণ্টা আগে প্রশ্ন ফাঁস পটুয়াখালীতে, গ্রেপ্তার ৪৫

আপডেট টাইম ০৫:৩৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০১৯
নরসিংদী প্রতিনিধি::

দ্বিতীয ধাপে গতকাল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ২ ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ও উত্তর সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে নরসিংদী জেলার ৩টি উপজেলা সহ অন্যান্য কয়েকটি জেলার প্রশ্নের হুবহু মিল
পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নরসিংদীতে ৩/৪টি চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পরীক্ষার ২/৩ ঘণ্টা আগে তাদের গোপনস্থানে পরিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশ্ন ও প্রশ্নের উত্তর পড়িয়ে দিয়ে পরিক্ষার্থীদের স্ব স্ব কেন্দ্র ওই চক্রদের গাড়ি দিয়ে পাঠিয়ে দেয়। এমনই অভিযোগ অনেক মেধাবী পরীক্ষার্থীর।

নিয়োগ পরিক্ষার্থী ফারুক জানায়, বিভিন্ন স্থান থেকে লোকের মাধ্যমে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে প্রশ্ন ও উত্তর মালা লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীরা পেয়েছে। মো. সুমন ইসলাম নামে এক তরুণ তার ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে পরীক্ষার ঠিক দু’ঘণ্টা আগে উত্তরপত্রসহ প্রশ্নপত্র আপলোড করেন যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছুক্ষণের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে একদিকে মেধাবী শিক্ষার্থীরা সুযোগ হারালো অন্যদিকে অযোগ্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে  গেল। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা পুনরায় পরীক্ষা দাবি করেছেন। নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আউয়াল বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয় বলবেন।  জেলা প্রশাসক বলেন নরসিংদী থেকে কোন প্রশ্ন ফাসঁ হয়নি। এমন কোন ঘটনা হলে আমরা জানতাম। তবে আপনারা জানেন পটুয়াখালী প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার চক্রান্তের বেশ কয়েকজনকে সাজা দেয়া হয়েছে। আমরা নরসিংদী কঠোর নজরদারিতে রেখেছি। এখানে কেউ কিছু করবে তার কোন সুযোগও ছিল না।
এদিকে পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায়  প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এর সহযোগিতার অপরাধে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড এবং ৩৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গতকাল পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হাফিজ জানান, বিভিন্ন কেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বনের কারণে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুই জন খাবার সরবরাহকারী (ওমেদার) নিয়ম ভেঙ্গে গোপন কক্ষে প্রবেশ করায় তাদেরকেও এক মাস করে বিনাশ্রম করাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এদিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাইনুল হাসান জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোট ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র এবং মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে। পাশাপাশি এই প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত সে বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান পুলিশ সুপার।