সংবাদ শিরোনাম
আল-হাসানাহ স্কুলে মেধা,শিখন ও গনিত উৎসবে বিজয়ীদের সম্মাননা ও পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত প্রাণিসম্পদ বিভাগের দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ফ্রি ভ্যাকসিনেশন ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত: ঠাকুরগাঁওয়ে আল-হাসানাহ স্কুলের অন্ত:স্কুল শিখন ও গনিত উৎসব-২৬ অনুষ্ঠিত “আমিষেই শক্তি, আমিষেই মুক্তি” প্রতিপাদ্য নিয়ে পীরগঞ্জে   প্রানিসম্পদের ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত শরিয়াহভিত্তিক ইসলামিক রাষ্ট্র নয়, বাংলাদেশের মানুষ উদারপন্থি রাজনীতি করতে চায়-ঠাকুরগাঁও বিএনপি’র বর্ধিত সভায় মির্জা ফখরুল ব্র্যাক’র স্বপ্নসারথী দলের কিশোরীদের মাঝে শিক্ষা সহায়তা প্রদান সম্পন্ন রংপুর বিভাগীয় পরিচালকের পীরগঞ্জ প্রানিসম্পদ দপ্তরের সম্প্রসারন কার্যক্রম পরিদর্শন পীরগঞ্জ পেৌরসভার ৫২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষনা পীরগঞ্জে বৃক্ষরােপন কর্মসূচীর উদ্বোধন পীরগঞ্জে স্বপ্ন-সারথিদের মাঝে গ্রাজুয়েশন সনদ প্রদান

আক্রান্তের চিকিৎসা সেবাকারী ঠাকুরগাঁওয়ের ৬ ডাক্তার ৯ নার্স কোয়ারেন্টাইনে

আজম রেহমান,ঠাকুরগাঁও:: করোনায় আক্রান্ত এক গর্ভবতী নারীর চিকিৎসা করতে গিয়ে করোনা রোগীর সংষ্পর্শে আসা মোট ৬ ডাক্তার ও ৯ নার্সকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের চার চিকিৎসক, ৯ জন নার্স আর রোগীর আলট্রা সনোগ্রাম ও অন্যান্য পরীক্ষা করানো বেসরকারি ২ ডাক্তারকেও কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল ও একটি ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আসা এক নারী গর্ভকালীন জটিলতা নিয়ে ১৪ এপ্রিল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। ১৭ এপ্রিল তার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। ১৯ এপ্রিল ওই নারী হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান ও শহরের এক চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে তার কাছে চিকিৎসা নেন। ওই চিকিৎসক তাকে বিভিন্ন টেস্টের পরামর্শ দিলে সেই রাতেই তিনি আবার হাসপাতালে আসেন ও চিকিৎসা নিয়ে শহরের বাড়িতে ফিরে যান। এ সময় হাসপাতালে তার আলট্রসনোগ্রাফি ও কিছু পরীক্ষা দিলে তিনি বাইরের ক্লিনিকে পরীক্ষা করতে গিয়ে একজন সনোলজিস্ট ও পেথোলজিস্ট দু’জন ডাক্তারের সংষ্পর্শে আসেন।
২১ এপ্রিল জানা যায় ওই নারী করোনায় আক্রান্ত। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন সন্ধ্যায় তার ঠিকানায় ছুটে যান। এরমধ্যে তারা লকডাউন উপেক্ষা করে পঞ্চগড়ে চাকলাহাট গ্রামে ওই নারীর বাবার বাড়ি চলে যান।
বিষয়টি পঞ্চগড়ের প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনকে জানালে তাকে খুঁজে মঙ্গলবার রাতেই রংপুরে করোনার রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ চপল জানান, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড জীবাণুমুক্ত করার জন্য রোগীদের সার্জারি ওয়ার্ডে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। গাইনি ওয়ার্ডের দুই চিকিৎসক, ৯ জন নার্স ও ওই নারীর সংস্পর্শে আসা মেডিসিন বিভাগের দুই চিকিৎসককে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক ও ঠাকুরগাঁও বিএমএ সভাপতি ডাঃ আবু মোঃ খায়রুল কবীর জানান, আক্রান্ত রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম ও অন্যান্য পরীক্ষা করানো ২ বেসরকারি ডাক্তারকেও কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনা পরীক্ষার জন্য তাদের সবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনও ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ডাক্তার, টেকনিশিয়ানসহ সকলকে শনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

আল-হাসানাহ স্কুলে মেধা,শিখন ও গনিত উৎসবে বিজয়ীদের সম্মাননা ও পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত

আক্রান্তের চিকিৎসা সেবাকারী ঠাকুরগাঁওয়ের ৬ ডাক্তার ৯ নার্স কোয়ারেন্টাইনে

আপডেট টাইম ০৬:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

আজম রেহমান,ঠাকুরগাঁও:: করোনায় আক্রান্ত এক গর্ভবতী নারীর চিকিৎসা করতে গিয়ে করোনা রোগীর সংষ্পর্শে আসা মোট ৬ ডাক্তার ও ৯ নার্সকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের চার চিকিৎসক, ৯ জন নার্স আর রোগীর আলট্রা সনোগ্রাম ও অন্যান্য পরীক্ষা করানো বেসরকারি ২ ডাক্তারকেও কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল ও একটি ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আসা এক নারী গর্ভকালীন জটিলতা নিয়ে ১৪ এপ্রিল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। ১৭ এপ্রিল তার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। ১৯ এপ্রিল ওই নারী হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান ও শহরের এক চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে তার কাছে চিকিৎসা নেন। ওই চিকিৎসক তাকে বিভিন্ন টেস্টের পরামর্শ দিলে সেই রাতেই তিনি আবার হাসপাতালে আসেন ও চিকিৎসা নিয়ে শহরের বাড়িতে ফিরে যান। এ সময় হাসপাতালে তার আলট্রসনোগ্রাফি ও কিছু পরীক্ষা দিলে তিনি বাইরের ক্লিনিকে পরীক্ষা করতে গিয়ে একজন সনোলজিস্ট ও পেথোলজিস্ট দু’জন ডাক্তারের সংষ্পর্শে আসেন।
২১ এপ্রিল জানা যায় ওই নারী করোনায় আক্রান্ত। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন সন্ধ্যায় তার ঠিকানায় ছুটে যান। এরমধ্যে তারা লকডাউন উপেক্ষা করে পঞ্চগড়ে চাকলাহাট গ্রামে ওই নারীর বাবার বাড়ি চলে যান।
বিষয়টি পঞ্চগড়ের প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনকে জানালে তাকে খুঁজে মঙ্গলবার রাতেই রংপুরে করোনার রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ চপল জানান, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড জীবাণুমুক্ত করার জন্য রোগীদের সার্জারি ওয়ার্ডে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। গাইনি ওয়ার্ডের দুই চিকিৎসক, ৯ জন নার্স ও ওই নারীর সংস্পর্শে আসা মেডিসিন বিভাগের দুই চিকিৎসককে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক ও ঠাকুরগাঁও বিএমএ সভাপতি ডাঃ আবু মোঃ খায়রুল কবীর জানান, আক্রান্ত রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম ও অন্যান্য পরীক্ষা করানো ২ বেসরকারি ডাক্তারকেও কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনা পরীক্ষার জন্য তাদের সবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনও ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ডাক্তার, টেকনিশিয়ানসহ সকলকে শনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে।