সংবাদ শিরোনাম
তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুর মৃত্যু, স্বামী পলাতক সাংবাদিকতার চাইতে চ্যালেঞ্জিং পেশা আর নেই-মির্জা ফখরুল পীরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ দপ্তরে নির্ধারিত ৫শ৪৬ খামারীর মাঝে পশুখাদ্য ও উপকরণ বিতরণ পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদে এমপি’র অফিস উদ্বোধন পীরগঞ্জে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে স্থানীয় এমপি;র মত-বিনীময় সভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে আল-হাসানাহ স্কুলের ১ম ত্রৈ-মাসিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত পীরগঞ্জে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ কিলোমিটার খাল-খনন প্রকল্পের উদ্বোধন পীরগঞ্জে পূর্ব চৌরাস্তা ব্যাবসায়ী সমিতি নির্বাচন-রব্বানী সভাপতি, রাজা সম্পাদক পীরগঞ্জে সিসি ক্যামেরার আওতায় নকলমুক্ত পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

এটিএম শামসুজ্জামানকে নিয়ে হানিফ সংকেতের স্ট্যাটাস ভাইরাল

ডেস্ক::বাংলা চলচ্চিত্র ও নাটকের শক্তিমান অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। জনপ্রিয় এই অভিনেতার মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান শিল্পাঙ্গন। কয়েক দশক দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে আসা এই কিংবদন্তীর স্মৃতি বারবার মানসপটে চলে আসছে তার সহকর্মীদের।

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির নিয়মিত শিল্পী ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। এই অনুষ্ঠানটির নন্দিত নির্মাতা হানিফ সংকেতের বহু নাটকেও অভিনয় করেছেন প্রবীণ এই শিল্পী। তাই এটিএমকে হারানোর ব্যথায় ব্যাথিত হানিফ সংকেত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এটিএম শামসুজ্জামানের সঙ্গে তোলা কয়েকটি ছবি শেয়ার করে হানিফ সংকেত স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার আবেগঘন সেই স্ট্যাটাসটি ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

হানিফ সংকেত লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে ঝরে গেলো আরও একটি নক্ষত্র। সবার প্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। আমাদের এটিএম ভাই। বর্ণাঢ্য যার অভিনয় জীবন। বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অবশেষে আজ (শনিবার) সকালে সূত্রাপুরে তার নিজস্ব বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। অত্যন্ত মেধাবী, প্রাণবন্ত, বিনয়ী, সহজ-সরল, সাদামাটা মানুষ ছিলেন এটিএম ভাই। ছিলেন একজন আদর্শ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। অসুস্থতার সময় নিয়মিত তার খোঁজ-খবর রাখতে চেষ্টা করতাম। হাসপাতালেও গিয়েছি। রুনী ভাবীর সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো। এটিএম ভাই ছিলেন ইত্যাদির বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোর প্রায় নিয়মিত শিল্পী। এছাড়া আমার অন্যান্য অনুষ্ঠান ও অনেকগুলো নাটকে তাকে নেয়ার সুযোগ হয়েছিল। তাই কাছ থেকে দেখেছি, গভীরভাবে মেশার সুযোগ পেয়েছি। ছিলো আন্তরিক সম্পর্ক। ’

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিকে নিয়ে এটিএম শামসুজ্জামানের মূল্যায়ন সম্পর্কে হানিফ সংকেত লেখেন, ‘ইত্যাদির প্রতি তার একটা বিশেষ দুর্বলতাও ছিল। আর সেজন্যই চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায়ও তিনি বারবার ইত্যাদির কথা স্মরণ করেছেন। হাসপাতালে দেখতে গেলে সুস্থ হয়ে আবারও ইত্যাদির ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। আর তাই প্রথম যখন কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন তখনই ভাবী আমাকে জানিয়েছিলেন এটিএম ভাই ইত্যাদিতে অভিনয় করতে চান। যেহেতু আমরা আমাদের নিজস্ব শ্যুটিং স্পটে শ্যুটিং করি এবং এখানকার পরিবেশ, খাওয়া-দাওয়া সবকিছুতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাই তার বিশ্বাস এখানে এসে অভিনয় করলে তার শারীরিক কোনো অসুবিধা হবে না। তাই এখান থেকেই তিনি আবার যাত্রা শুরু করতে চান।’

এটিএমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে হানিফ সংকেত লেখেন, ‘আরেকজন বর্ষীয়ান অভিনেতা মাসুদ আলী খানের সঙ্গে জুটি করে সেসময় ইত্যাদির জন্য ছোট্ট একটি নাট্যাংশ নির্মাণ করেছিলাম। যেটি পরবর্তীতে ইত্যাদিতে প্রচারিত হয়। আর ইত্যাদিতে করা সেই অভিনয়টুকুই ছিলো এটিএম ভাইয়ের জীবনের শেষ অভিনয়। অনেক শিল্পীরই বিকল্প তৈরি হয় কিংবা করা যায় কিন্তু এটিএম শামসুজ্জামানের কখনোই কোন বিকল্প ছিলো না, আর তৈরি হবে কিনা জানি না। তার প্রতিটি চরিত্রই ছিলো তার অভিনয় নৈপুণ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্যের। এই মহান শিল্পীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তার মাগফিরাত কামনা করছি।’

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- মির্জা ফখরুল

এটিএম শামসুজ্জামানকে নিয়ে হানিফ সংকেতের স্ট্যাটাস ভাইরাল

আপডেট টাইম ১১:২১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২১
ডেস্ক::বাংলা চলচ্চিত্র ও নাটকের শক্তিমান অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। জনপ্রিয় এই অভিনেতার মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান শিল্পাঙ্গন। কয়েক দশক দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে আসা এই কিংবদন্তীর স্মৃতি বারবার মানসপটে চলে আসছে তার সহকর্মীদের।

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির নিয়মিত শিল্পী ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। এই অনুষ্ঠানটির নন্দিত নির্মাতা হানিফ সংকেতের বহু নাটকেও অভিনয় করেছেন প্রবীণ এই শিল্পী। তাই এটিএমকে হারানোর ব্যথায় ব্যাথিত হানিফ সংকেত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এটিএম শামসুজ্জামানের সঙ্গে তোলা কয়েকটি ছবি শেয়ার করে হানিফ সংকেত স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার আবেগঘন সেই স্ট্যাটাসটি ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

হানিফ সংকেত লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে ঝরে গেলো আরও একটি নক্ষত্র। সবার প্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। আমাদের এটিএম ভাই। বর্ণাঢ্য যার অভিনয় জীবন। বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অবশেষে আজ (শনিবার) সকালে সূত্রাপুরে তার নিজস্ব বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। অত্যন্ত মেধাবী, প্রাণবন্ত, বিনয়ী, সহজ-সরল, সাদামাটা মানুষ ছিলেন এটিএম ভাই। ছিলেন একজন আদর্শ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। অসুস্থতার সময় নিয়মিত তার খোঁজ-খবর রাখতে চেষ্টা করতাম। হাসপাতালেও গিয়েছি। রুনী ভাবীর সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো। এটিএম ভাই ছিলেন ইত্যাদির বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোর প্রায় নিয়মিত শিল্পী। এছাড়া আমার অন্যান্য অনুষ্ঠান ও অনেকগুলো নাটকে তাকে নেয়ার সুযোগ হয়েছিল। তাই কাছ থেকে দেখেছি, গভীরভাবে মেশার সুযোগ পেয়েছি। ছিলো আন্তরিক সম্পর্ক। ’

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিকে নিয়ে এটিএম শামসুজ্জামানের মূল্যায়ন সম্পর্কে হানিফ সংকেত লেখেন, ‘ইত্যাদির প্রতি তার একটা বিশেষ দুর্বলতাও ছিল। আর সেজন্যই চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায়ও তিনি বারবার ইত্যাদির কথা স্মরণ করেছেন। হাসপাতালে দেখতে গেলে সুস্থ হয়ে আবারও ইত্যাদির ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। আর তাই প্রথম যখন কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন তখনই ভাবী আমাকে জানিয়েছিলেন এটিএম ভাই ইত্যাদিতে অভিনয় করতে চান। যেহেতু আমরা আমাদের নিজস্ব শ্যুটিং স্পটে শ্যুটিং করি এবং এখানকার পরিবেশ, খাওয়া-দাওয়া সবকিছুতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাই তার বিশ্বাস এখানে এসে অভিনয় করলে তার শারীরিক কোনো অসুবিধা হবে না। তাই এখান থেকেই তিনি আবার যাত্রা শুরু করতে চান।’

এটিএমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে হানিফ সংকেত লেখেন, ‘আরেকজন বর্ষীয়ান অভিনেতা মাসুদ আলী খানের সঙ্গে জুটি করে সেসময় ইত্যাদির জন্য ছোট্ট একটি নাট্যাংশ নির্মাণ করেছিলাম। যেটি পরবর্তীতে ইত্যাদিতে প্রচারিত হয়। আর ইত্যাদিতে করা সেই অভিনয়টুকুই ছিলো এটিএম ভাইয়ের জীবনের শেষ অভিনয়। অনেক শিল্পীরই বিকল্প তৈরি হয় কিংবা করা যায় কিন্তু এটিএম শামসুজ্জামানের কখনোই কোন বিকল্প ছিলো না, আর তৈরি হবে কিনা জানি না। তার প্রতিটি চরিত্রই ছিলো তার অভিনয় নৈপুণ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্যের। এই মহান শিল্পীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তার মাগফিরাত কামনা করছি।’