আজম রেহমান,ঠাকুরগাঁও ব্যুরো:: এডহকে নিয়োজিত একজন ডাক্তারের অন্যায় রাজনৈতিক প্রভাবে ৭ বছর ধরে স্থবির হয়ে আছে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম। অফিস না করেই সিভিল সার্জন সহ উর্ধতনদের ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে অফিসকে স্বেচ্ছাচারভাবে ব্যবহার করে এ বিভাগকে পঙ্গু বানিয়ে ফেলা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারন জনগন হচ্ছেন স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। এলাকাবাসী এই স্বেচ্ছাচারী ডাক্তারের কবল থেকে হাসপাতালটিকে রক্ষা করে জনমানুষের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ সদাসয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ডাঃ মোঃ আব্দুল জব্বার(এডহক কর্মকর্তা), কোড নং-১২২৯৬৬, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও-এ ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে গত ০৫/০২/২০২০ ইং তারিখ হতে ১৪/০৯/২০২৫ ইং তারিখ পর্যন্ত প্রায় ৬ বছর কর্মরত ছিলেন। তার কর্মকালে ভেঙ্গে পড়ে স্বাস্থ্য প্রশাসন। অফিসের গাড়ী, দুইটি মোটর সাইকেল, ল্যাপটপ সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন মালামাল নিজের হেফাজতে নিয়ে ঠাকুরগাঁও সদরের নিজ বাড়ীতে ব্যাক্তিগত ব্যবহার সহ অফিসের সামগ্রিক কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে লেখালেখি হলেও প্রভাব বিস্তারকারী এই কর্মকর্তা অধিদপ্তরের উর্ধতনদের ব্যবহার করে তার কার্যক্রম চালিয়ে যান। এদিকে তিনি একজন এডহক কর্মকর্তা হওয়ায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১-০৮-২০২৪ খ্রি. তারিখের প্রজ্ঞাপন নং- ডিজিএইচএস/পার-২/বিবিধ-২০২৪/৬৪৭৭ মূলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ০৮/০৯/২০২৫ ইং তারিখের আদেশ নং-৪৫.০১.০০০০.০০০.০০৪.২৫.০০০৩.২৫.৮৭-৮২৫ মোতাবেক তাকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদ হতে ইমার্জেন্সী মেডিকেল অফিসার পদে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁও-এ বদলী করা হয় এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও-এ ডাঃ কামাল আহমেদ, কোড নং-১৩০৬০৫ (বিসিএস ব্যাচ-৩৩) কে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। ডাঃ কামাল আহমেদ যথাসময়ে পদায়নকৃত পদ ও কর্মস্থলে যোগদান করলেও ডাঃ মোঃ আব্দুল জব্বার বদলীকৃত পদে ও কর্মস্থলে অদ্যাবধি যোগদান করেননি। বরং একজন এডহক কর্মকর্তা হয়েও তিনি যেকোন মূল্যে আবারও পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদ দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। ফ্যাসিবাদ আওয়ামী সরকারের দালালী করে একজন এডহক কর্মকর্তা দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারঃ) পদে দায়িত্ব পালন করে এখন আবার নিজেকে উঅই এর নেতা পরিচয় দিয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় উঅই নেতাদের সহযোগীতায় এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম বর্হিভুতভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদ দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তার অসাধু প্রভাবে ইতমধ্যে পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা হিসেবে সদ্য যোগদানকৃত ডাঃ কামাল আহমেদ-কে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে এবং তিনি গত ০৪/০৩/২০২৬ ইং তারিখে বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। গুরুত্বপূর্ন এই হাসপাতালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সদর উপজেলা ঠাকুরগাঁও এর স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে।
অপর পক্ষে ডাঃ মোঃ আব্দুল জব্বার বদলী আদেশের ২ মাস ২২ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও দায়িত্ব হস্তান্তর, ছাড়পত্র গ্রহন এবং বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেন নি, বরং এডহক কর্মকর্তা হয়েও পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবারও পুনর্বহালের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চেষ্টা অব্যাহত রাখায় জনৈক বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবরে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এবং তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, শৃঙ্খলা অধিশাখা এর পত্র নং- ৪৫.০০.০০০০.১২২.০৯৯.০০১.২৫-৪২, তারিখ- ১৪.০১.২০২৬ ইং মোতাবেক অভিযোগে উত্থাপিত বিষয় যাচাই-বাছাই/তদন্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় কে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করে পত্র জারী করা হয়। এই পত্রের আলোকে মহাপরিচালক কোনরুপ ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ডাঃ মোঃ আব্দুল জব্বার(এডহক কর্মকর্তা)-কে রহস্যজনক কারনে পুনরায় পূর্বের কর্মস্থলে সহকারী সার্জন/ইকুইভ্যালেন্ট পদে পদায়নের আদেশ জারী করেন, যার আদেশ নং- ৪৫.০১.০০০০.০০০.০০৪.১৯.০০০১.২৬.২-১১,তারিখ- ১৮/০১/২০২৬ ইং।
এই আদেশের প্রেক্ষিতে ডাঃ মোঃ আব্দুল জব্বার পীরগঞ্জ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী মোঃ বাবুল হোসনের মাধ্যমে ১৯/০১/২০২৬ ইং তারিখে যোগদান পত্র পাঠিয়ে দেন এবং মোঃ বাবুল হোসেন উক্ত যোগদান পত্রে অফিসের সীল দিয়ে রিসিভ ডাঃ মোঃ আব্দুল জব্বারের বাড়িতে পৌঁছে দেন। পরবর্তীতে ডাঃ মোঃ আব্দুল জব্বার ১৫/০২/২০২৬ ইং তারিখের পূর্বে কর্মস্থলে আসেননি। যেহেতু তিনি নিজে শশরীরে উপস্থিত হয়ে যোগদান পত্র জমা দাখিল করেননি, সেহেতু উক্ত ১৯/০১/২০২৬ ইং তারিখে তার যোগদান অফিসিয়ালী গৃহীত হয়নি। পরবর্তীতে তিনি ১৫/০২/২০২৬ ইং তারিখে নিজে এসে উক্ত যোগদান পত্র পুনরায় দাখিল করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ কামাল আহমেদ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে ১৫/০২/২০২৬ ইং তারিখে তার যোগদান পত্র অফিসিয়ালী গ্রহন করেন এবং ডাঃ মোঃ আব্দুল জব্বারকে ১৫/০২/২০২৬ ইং তারিখে যোগদান দেখিয়ে এইচআরআইএস এ মুভ ইন করার জন্য পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মোছাঃ আরমিনা আকতারকে নির্দেশ দেন। কিন্তু মোছাঃ আরমিনা আকতার অফিস প্রধানের আদেশ অমান্য করে ডাঃ মোঃ আব্দুল জব্বারের কথায় ও যোগসাজসে অসৎ উদ্দেশ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশ উপেক্ষা করে গত ১৯/০১/২০২৬ ইং তারিখে যোগদান দেখিয়ে এইচআরআইএস এ মুভ ইন করেন।
মোছাঃ আরমিনা আকতার, পরিসংখ্যানবিদ ইতিপূর্বেও ডাঃ মোঃ আব্দুল জব্বারের পরামর্শে ডাঃ কামাল আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তাকে দাপ্তরিক কাজে মারাত্মকভাবে অসহযোগীতা করেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রেরীত গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র গোপন করে ও যথাসময়ে তথ্য না দিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছেন, যার প্রেক্ষিতে তাকে অফিসিয়ালী কৈফিয়ত তলব করা হয় এবং বিভিন্ন মিডিয়াতে সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং মোছাঃ আরমিনা আকতার, পরিসংখ্যানবিদ কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্মারক নং-স্বাঃঅধিঃ/প্রশা-৩/৩য় শ্রেনী/৩৯৩/২৫/২৯১৩/১(১৪), তারিখ-০১/১২/২০২৫ ইং মোতাবেক অন্যত্র বদলী করা হয়েছিল। তিনি দীর্ঘ ১ মাসের অধিককাল কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ ও তদবির করলে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চাঞ্চল্যকরভাবে উক্ত বদলী আদেশ বাতিল করে তাকে পুনরায় পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহাল করে। এ দুটি কর্মকান্ডে স্বাস্থ্য বিভাগের বদলী নিয়ে বানিজ্যের বিষয়টি ষ্পষ্ঠ হয়ে ওঠে।
ডাঃ মোঃ আব্দুল জব্বার পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে ১৫/০২/২০২৬ ইং তারিখে যোগদান করে ১২/০৩/২০২৬ ইং তারিখ পর্যন্ত মাত্র ২ দিন কর্মস্থলে এসেছেন, তবে কোন দায়িত্ব পালন করেন নি, বরং উপস্থিত হয়ে কিছুক্ষণ বসে থেকেই চলে গেছেন। তিনি আগের ৬ বছরও ঠিক এভাবে ৫/১০ মিনিট বষে বাড়ী ফিরেছেন। ১৯/০১/২০২৬ ইং তারিখে যোগদান করতে আসেননি এবং উক্ত তারিখ হতে ১৫/০২/২০২৫ ই তারিখের পূর্বে একবারও পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেননি। বর্তমানে তিনি প্রচার করে বেড়াচ্ছেন যে, তিনি সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মরত থেকে স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সুপারিশে স্থানীয় আদেশে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকবেন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হতে আয়ন-ব্যয়ন ক্ষমতা নিয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় উঅই নেতাদের সহযোগীতায় এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হতে যাতে পীরগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা পদায়ন করা না হয় তা আটকায় রাখবেন।
সাধারন মানুষ দু:বৃত্ত এই কর্মকর্তার অন্যায় প্রভাব থেকে হাসপাতালটিকে বাচানোর জন্য বিএনপি মহাসচিব এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সারাদিন ডেস্ক : 








