সংবাদ শিরোনাম
আল-হাসানাহ স্কুলে মেধা,শিখন ও গনিত উৎসবে বিজয়ীদের সম্মাননা ও পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত প্রাণিসম্পদ বিভাগের দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ফ্রি ভ্যাকসিনেশন ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত: ঠাকুরগাঁওয়ে আল-হাসানাহ স্কুলের অন্ত:স্কুল শিখন ও গনিত উৎসব-২৬ অনুষ্ঠিত “আমিষেই শক্তি, আমিষেই মুক্তি” প্রতিপাদ্য নিয়ে পীরগঞ্জে   প্রানিসম্পদের ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত শরিয়াহভিত্তিক ইসলামিক রাষ্ট্র নয়, বাংলাদেশের মানুষ উদারপন্থি রাজনীতি করতে চায়-ঠাকুরগাঁও বিএনপি’র বর্ধিত সভায় মির্জা ফখরুল ব্র্যাক’র স্বপ্নসারথী দলের কিশোরীদের মাঝে শিক্ষা সহায়তা প্রদান সম্পন্ন রংপুর বিভাগীয় পরিচালকের পীরগঞ্জ প্রানিসম্পদ দপ্তরের সম্প্রসারন কার্যক্রম পরিদর্শন পীরগঞ্জ পেৌরসভার ৫২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষনা পীরগঞ্জে বৃক্ষরােপন কর্মসূচীর উদ্বোধন পীরগঞ্জে স্বপ্ন-সারথিদের মাঝে গ্রাজুয়েশন সনদ প্রদান

নিজের দুঃখ আড়াল করে বামনরা সার্কাসে আনন্দ দেয়

খুরশিদ আলম শাওন,রাণীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও)থেকে::শারিরীক খর্বতার কারণে সমাজের বেশিরভাগ মানুষের কাছে তাঁরা অদ্ভতু ও হাস্যকর। কেউ তাদের মূল্যায়ন করে না বরং উপহাস করে। কাজ চাইতে গেলে কাজও না দিয়ে মজা করে তাদের নিয়ে। এছাড়া গ্রাম গঞ্জে তাদের বনমানুষ সম্বোধন করে ডাকা হয়। কোথাও কোন থায় না পেয়ে জীবিকার তাগিদে কোন রকম খেয়ে বেচে থাকার চেষ্টায় তাঁরা এখন মানুষের দুঃখ ভুলিয়ে আনন্দ দেওয়াকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। বলছিলাম তিন ফুটের চেয়েও কম উচ্চতার বামন মানুষদের কথা। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ওরস মেলার দ্য গ্রেট রওশন সার্কাসে কথা হয় এ তিন বামন মানুষের সাথে। সার্কাসের অন্যানা শিল্পীরা যখন বিভিন্ন শারিরীক কসরত দেখাচ্ছিলেন তখন এই বামন মানুষেরা তাদেরই আশেপাশে ঘুরে ঘুরে নানা অঙ্গভঙ্গি ও আনন্দ দায়ক কথা বলে দর্শকদের হাসাচ্ছিলেন। মানুষকে আনন্দ দিলেও তাদের মনে কিন্তু নেই কোন আনন্দ। কারণ মানুষ তাদের দেখে মজা পায় কিন্তু সম্মান করে না এমনটিই বলছিলেন আবুল কাশেম। ৩৮ বছর বয়সী এই বামন মানুষটির বাড়ি বগুড়ার মহাস্থানগড়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন মজার অভিনয় ও কৌতুক করে মানুষকে হাসাই তখন তাঁরা হাততালি দেয়। কিন্তু রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে কেউ কথাও বলে না। আমাদের দেখে হাসাহাসি করে।’ শৈশব থেকেই সার্কাসে ‘জোকার’ হিসেবে কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সার্কাসে জোকারের কাজ ছাড়া অন্য কোথাও কাজ চাইতে গেলে কেউ কাজ দেয় না। সার্কাসে জোকারের কাজ করেই সংসার চালাচ্ছি।’ তিনি জানান, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তাঁর। তবে তাঁরা বামন নয়, উচ্চতায় স্বাভাবিক মানুষের মতোই। ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আমার জীবনে আর কোন কষ্ট নেই। ভালোই আছি। তবে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয় সার্কাসে কাজ করার জন্য।’ বাগেরহাটের রামপাল থানায় বাড়ি ৩৭ বছর বয়সী খালিদ হাসানের। তিনি জানালেন, শৈশব থেকে মাছের ঘেরে কাজ করলেও গত ৫ বছর থেকে সার্কাসের সাথে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা তো আল্লাহর সৃষ্টিই, তারপরেও সমাজের অনেক মানুষ আমাদের দেখে হাসাহাসি করে। তাই মানুষ হাসানোকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। তাদের হাসাতে ভালোই লাগে। এখন কষ্ট নাই। ২৬ বছর ধরে সার্কাসে জোকার হিসেবে কাজ করছেন আব্দুল মজিদ। তাঁর ভাষায়, ‘খাটো মানুষ কেউ কাজে নিতে চায় না। সার্কাসে কাজ করে যে টাকা পাই তা দিয়েই সংসার কোনমতে চলে। তবে বর্তমান সময়ে বছরে মাত্র ৩-৪ মাস সার্কাস চলে। সার্কাস বন্ধ থাকলে আমার মতো খাটো মানুষদের খুব কষ্ট হয়। এমনিতে মানুষদের হাসিয়ে সার্কাসে ভালোই আছি। তাদের দাবী সরকার যেন তাদের দিকে একটু সুদৃষ্টিতে দেখে।’
আসলে সমাজের সকলের এদের প্রতিএগিয়ে উচিত জানিয়ে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব রানীশংকৈল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন,আমি রাষ্ট্রের কাছে দাবী জানাই এদের সুরক্ষা দেওয়া স্বাভাবিক চলাফেরা নিশ্চিত করা সহ রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা করার।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

আল-হাসানাহ স্কুলে মেধা,শিখন ও গনিত উৎসবে বিজয়ীদের সম্মাননা ও পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত

নিজের দুঃখ আড়াল করে বামনরা সার্কাসে আনন্দ দেয়

আপডেট টাইম ০৫:১৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭

খুরশিদ আলম শাওন,রাণীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও)থেকে::শারিরীক খর্বতার কারণে সমাজের বেশিরভাগ মানুষের কাছে তাঁরা অদ্ভতু ও হাস্যকর। কেউ তাদের মূল্যায়ন করে না বরং উপহাস করে। কাজ চাইতে গেলে কাজও না দিয়ে মজা করে তাদের নিয়ে। এছাড়া গ্রাম গঞ্জে তাদের বনমানুষ সম্বোধন করে ডাকা হয়। কোথাও কোন থায় না পেয়ে জীবিকার তাগিদে কোন রকম খেয়ে বেচে থাকার চেষ্টায় তাঁরা এখন মানুষের দুঃখ ভুলিয়ে আনন্দ দেওয়াকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। বলছিলাম তিন ফুটের চেয়েও কম উচ্চতার বামন মানুষদের কথা। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ওরস মেলার দ্য গ্রেট রওশন সার্কাসে কথা হয় এ তিন বামন মানুষের সাথে। সার্কাসের অন্যানা শিল্পীরা যখন বিভিন্ন শারিরীক কসরত দেখাচ্ছিলেন তখন এই বামন মানুষেরা তাদেরই আশেপাশে ঘুরে ঘুরে নানা অঙ্গভঙ্গি ও আনন্দ দায়ক কথা বলে দর্শকদের হাসাচ্ছিলেন। মানুষকে আনন্দ দিলেও তাদের মনে কিন্তু নেই কোন আনন্দ। কারণ মানুষ তাদের দেখে মজা পায় কিন্তু সম্মান করে না এমনটিই বলছিলেন আবুল কাশেম। ৩৮ বছর বয়সী এই বামন মানুষটির বাড়ি বগুড়ার মহাস্থানগড়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন মজার অভিনয় ও কৌতুক করে মানুষকে হাসাই তখন তাঁরা হাততালি দেয়। কিন্তু রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে কেউ কথাও বলে না। আমাদের দেখে হাসাহাসি করে।’ শৈশব থেকেই সার্কাসে ‘জোকার’ হিসেবে কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সার্কাসে জোকারের কাজ ছাড়া অন্য কোথাও কাজ চাইতে গেলে কেউ কাজ দেয় না। সার্কাসে জোকারের কাজ করেই সংসার চালাচ্ছি।’ তিনি জানান, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তাঁর। তবে তাঁরা বামন নয়, উচ্চতায় স্বাভাবিক মানুষের মতোই। ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আমার জীবনে আর কোন কষ্ট নেই। ভালোই আছি। তবে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয় সার্কাসে কাজ করার জন্য।’ বাগেরহাটের রামপাল থানায় বাড়ি ৩৭ বছর বয়সী খালিদ হাসানের। তিনি জানালেন, শৈশব থেকে মাছের ঘেরে কাজ করলেও গত ৫ বছর থেকে সার্কাসের সাথে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা তো আল্লাহর সৃষ্টিই, তারপরেও সমাজের অনেক মানুষ আমাদের দেখে হাসাহাসি করে। তাই মানুষ হাসানোকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। তাদের হাসাতে ভালোই লাগে। এখন কষ্ট নাই। ২৬ বছর ধরে সার্কাসে জোকার হিসেবে কাজ করছেন আব্দুল মজিদ। তাঁর ভাষায়, ‘খাটো মানুষ কেউ কাজে নিতে চায় না। সার্কাসে কাজ করে যে টাকা পাই তা দিয়েই সংসার কোনমতে চলে। তবে বর্তমান সময়ে বছরে মাত্র ৩-৪ মাস সার্কাস চলে। সার্কাস বন্ধ থাকলে আমার মতো খাটো মানুষদের খুব কষ্ট হয়। এমনিতে মানুষদের হাসিয়ে সার্কাসে ভালোই আছি। তাদের দাবী সরকার যেন তাদের দিকে একটু সুদৃষ্টিতে দেখে।’
আসলে সমাজের সকলের এদের প্রতিএগিয়ে উচিত জানিয়ে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব রানীশংকৈল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন,আমি রাষ্ট্রের কাছে দাবী জানাই এদের সুরক্ষা দেওয়া স্বাভাবিক চলাফেরা নিশ্চিত করা সহ রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা করার।