আজম রেহমান,ঠাকুরগাঁও থেকে -নিত্য অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা তার। সহায়-সম্বলহীন পরিবারে দৈনন্দিন অভাব আর দারিদ্র যেন তাকে আষ্টে-পিষ্টে বেধে ফেলেছিল। উপায় অন্তহীন পিতা সংসারের যাতাকলে পিষ্ঠ হয়ে বড় ছেলেক তুলে দেন স্থানীয় উপজেলা ভেটেরিনারী সার্জন ডা: আবুল কালামের হাতে। ডাক্তার সাহেবের সাথে থাকবে আর কাজ শিখবে। শুরু হলো তার পথচলা। প্রতিদিন নিয়ম করে উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিসে গিয়ে দিনভর অফিস আর ডাক্তার সাহেবের ব্যাক্তিগত কাজ-কর্ম সেড়ে দিয়ে রাতে বাড়ী ফেরা। অফিস আর বাসার ফর-ফরমায়েস খেটে শিখতে শুরু করেন গরুর প্রাথমিক চিকিৎসা। শিখতে থাকেন গরুর পরিচর্যা। এই সাধারন ছেলটি এখন উপজেলার শ্রেষ্ঠ খামারী থেকে একজন সফল উদ্যক্তা হিসেবে নিজেকে দ্বাড় করাতে সক্ষম হয়েছন, নিজে গড়েছেন “২ ভাই মজারেলা চিজ ফ্যাক্টরী”। তিনি হলেন, হাবিবুর রহমান হবি। পিতার নাম মো: রুস্তম আলী, মাতা শহর বানু। ঠাকুরগঁাও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সাগুনী গ্রামে। সাধারণ একজন স্বপ্নর্দশী মানুষ থেক একজন সফল উদ্যোক্তা এবং সমাজ পরর্বিতনকারী হয়ে ওঠেন।:
স্বপ্নের সূচনা::
একসময় সাধারণ আর দশটা মানুষের মতোই দিন কাটছলিল হাবিবুর রহমান হবি’র। কিন্ত পরিবর্তনের হাওয়া লাগে সহসাই। নিজে পরিকল্পনাহীনভাবে হাঁসের খামার করে লস করেন। দেখা করেন পশু চিকিৎসক ভিএস আবুল কালাম আজাদের সাথে। প্রয়োজনীয় পরামর্শ আর দিক-নির্দেশনায় এবং তার সাথে বিভিন্ন খামারে যাবার কারনে, তার নিজের মনেও একটি স্বপ্নের বীজ অঙ্কুরতি হয়—তিনি নিজেই গড়ে তুললেন একটি খামার। সেই সুপ্ত স্বপ্নকে শুধু কল্পনায় না রেখে তিনি তা বাস্তবে রূপ দেয়ার দৃঢ় সংকল্প করনে।
সংগ্রাম ও খামার সম্প্রসারণ::
মাত্র দুটি হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী নিয়ে হাবিবুর রহমান হবি তার স্বপ্নের যাত্রা শুরু করনে। শুরুটা সহজ ছিল না, কিন্তু সঠিক খামার ব্যবস্থাপনা, নিরলস পরিশ্রম এবং প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অভিজ্ঞ পরার্মশকে কাজে লাগিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন। বছরের পর বছর ধরে, নিষ্ঠার ফলস্বরূপ তার খামারে গাভীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পেতে ২০ চিতে উন্নীত হয়। তার নিজের খামার থেকেইে প্রতিদিন আসতে শুরু করে ১২০ লিটার খাঁটি দুধ।
চিজ ফ্যাক্টরি ও নতুন দিগন্ত::
নিজের খামারে উৎপাদিত দুধ বিক্রির গণ্ডিতেই হবি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখনেনি। তিনি নতুন সম্ভাবনার কথা ভাবেন। ছোট ভাই রবিউল ইসলামকে সাথে নিয়ে একটি ডেইরী প্রসেসিং বা ‘চিজ ফ্যাক্টরী গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। নাম দেন “ ২ ভা্নই মজারেলা চিজ ফ্জেযাক্রটরী”। নিজের খামারের ১২০ লিটার দুধের পাশাপাশি তিনি এলাকার অন্যান্য খামারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন ১,০০০ থকেে ১,৫০০ লটিার দুধ সংগ্রহ করা শুরু করনে। এর মাধ্যমে তার ছোট উদ্যোগটি একটি শিল্প প্রতিষ্টানে রূপ নেয় এবং বাজারে তার তেরি চিজের চাহিদা ও পরিচিত তৈরী হয়।।
র্আথ-সামাজিক অবদান ও র্কমসংস্থান::
হাবিবুর রহমান হবির এই সফলতা শুধু তার একার থাকেনি, ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপজেলায।:
র্কমসংস্থান সৃষ্টকারী চিজ ফ্যাক্টরি এবং খামারকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩০টি পরিবারের স্থায়ী র্কমসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়ছে।
খামারীদের আত্মনির্ভরশীলতা: দুধের ন্যায্যমূল্য ও নিশ্চিত বাজারের সুযোগ পেয়ে এলাকায় প্রায় ১৫০ জন নতুন খামারী গড়ে উঠেছন, যা স্থানীয় গ্রামীণ র্অথনীতিতে গতি এনেছে।
একটি ছোট স্বপ্ন এবং দুটি গাভী দিয়ে শুরু হওয়া হাবিবুর রহমান হবির এই পথচলা আজ শত শত মানুষের প্রেরনার উৎস। তিনি প্রমাণ করেছন, সঠিক দিক-নির্দেশনা, সাহসকিতা এবং উদ্যোগী মনোভাব থাকলে প্রাণিসম্পদ খাতকে কেন্দ্র করে নিজের পাশাপাশি পুরো সমাজের ছবি বদলে দেয়া সম্ভব।
সংবাদ সারাদিন ডেস্ক : 








