ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পীরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের চুরি যাওয়া সরন্জামাদি নিয়ে সংশ্লিষ্ঠদের রহস্যজনক তৎপরতা, অপরাধীদের বাঁচাতে পুলিশি কৌশল, জিডি নিয়ে প্রশ্ন

ঠাকুরগাঁও:: পীরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ টিপছাপ বহি ও সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের রহস্যজনক তৎপরতা ও অপরাধীদের বাঁচাতে পুলিশের নতুন কৌশলে চুরির মামলা না করে সাধারন ডাইরী করার ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।
চুরির ঘটনায় ৫ জনকে আসামী করে পীরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও ১ দিন পর তা প্রত্যাহার করে সরকারি কাগজপত্র হারিয়ে যাওয়ার জিডি দায়ের করা হয়েছে। আইনজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রশ্ন, সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের ঘটনাটি ১৮৬০ সনের দন্ডবিধি আইনের ৩৮০ ধারার অপরাধ। কিন্তু পীরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী হল কিভাবে? থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৭ মে সকাল ১০ঘটিকায় পীরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক মোঃ মিনহাজ উদ্দীন, খন্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুর রশিদের নিকট কমিশনে দলিল নিবন্ধন করার জন্যে ১২ টি সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের অফিস সহকারি মোস্তফা আহম্মদ (৪৮) ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সহায়ক আশরাফুল ইসলাম (৪২), দলিল লেখক মিনহাজ উদ্দীন (৪০) সাব-রেজিস্ট্রারের নির্দেশে বীরহলি গ্রামের মৃত আমির হোসেন এর পুত্র মোঃ আনোয়ারুল হক এর বাড়িতে যান। ওই সময় অফিস সহকারি মোস্তফা আহম্মদ ও আশরাফুল ইসলাম সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কমিশন দলিলের টিপবহি সহ অন্যান্য সরকারি সরঞ্জাম নিয়ে আনোয়ারুল হকের বাড়িতেযান। সেখান থেকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ বহি ও সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় গত ১৭/০৫/২০২৩ ইং তারিখে ওই অফিস সহকারি মোস্তফা আহম্মদ ৫ জন ব্যক্তির নাম পরিচয় ও ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এর কাছে অভিযোগ পত্রটি দাখিল করেন। অভিযোগ পত্রের আসামীরা হলেন,বীরহলি গ্রামের মোঃআনোয়ারুল হক, মোশারফ হোসেন রকেট, আব্দুল কাইয়ুম, চাপোড় গ্রামের আহসান হাবীব ও জগথা গ্রামের ফজলুলহক। এই অভিযোগপত্র দাখিলের পর থেকে বিভিন ্নমহলের তদবীর শুরু হয়। সরকারি চুরি হওয়া টিপবহি ও অন্যান্য সরঞ্জাম যেন উদ্ধার নাহয় এবং অপরাধীরা যেন আইনের আওতায় না আসে এজন্য পীরগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস কর্তৃপক্ষ ওই এজাহার নামীয় অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নামবিহীন ও চুরি হওয়া কাগজপত্র হারিয়ে গেছে মর্মে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অফিস সহকারি মোস্তফাআহম্মদ গত ১৮/০৫/২০২৩ ইং তারিখে পীরগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। ডায়েরীনং – ৯৭৭। গত ১৭/০৫/২০২৩ ইং তারিখের দাখিলকৃত ৫ আসামীর এজাহার নামীয় অভিযোগপত্রটি প্রত্যাহার করে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখিয়ে জিডি করার বিষয়টিতে পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। জিডি করার কারণে এসব চুরি হওয়া সরকারি মূল্যবান কাগজপত্র ও সরঞ্জাম চিরতরে উদ্ধার হওয়ার পথ বন্ধ হয়েছে বলে সুশীল সমাজ মনে করেন। ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা সহ প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা দরকার বলে আমজনতা মনে করেন।
এ ব্যাপারে ঠঅকুরগাঁও জেলা আইনজিিব সমিতির সাধারন সম্পাদক এড. জয়নাল আবেদীন বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষনাবেক্ষন ও উদ্ধারে নিরন্ধন বিভাগ ও দায়িত্বশীল পুলিশের আরো দায়িত্ববান হওয়া উচিৎ ছিল। চুরি বা হারিয়ে যাওয়া সরন্জামাদি সাধারন মানুষের অপূরনীয় ক্ষতির কারন হতে পারে খেকেই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হওয়া দরকার ছিল। বিষয়টি এলাকার জনমনে ব্যাপক চান্চল্য সহ ধুম্রজালের সৃষ্টি করেছে।
এ ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুর রশিদ জানান- অপরাধ আমার লোকেরাই করেছে। কিন্তু নানাকারণে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছিনা। থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন,এ ব্যাপারে থানায় একটি সাধারন ডাইরী করা হয়েছে। মামলা থেকে জিডি কেন জিজ্ঞেস করলে ওসি বলেন, এটা বাদী পক্ষ তথা রেজিষ্ট্রি অফিসের লোকজনই ভাল বলতে পারবেন।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

পীরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের চুরি যাওয়া সরন্জামাদি নিয়ে সংশ্লিষ্ঠদের রহস্যজনক তৎপরতা, অপরাধীদের বাঁচাতে পুলিশি কৌশল, জিডি নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট টাইম ০৪:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ মে ২০২৩

ঠাকুরগাঁও:: পীরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ টিপছাপ বহি ও সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের রহস্যজনক তৎপরতা ও অপরাধীদের বাঁচাতে পুলিশের নতুন কৌশলে চুরির মামলা না করে সাধারন ডাইরী করার ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।
চুরির ঘটনায় ৫ জনকে আসামী করে পীরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও ১ দিন পর তা প্রত্যাহার করে সরকারি কাগজপত্র হারিয়ে যাওয়ার জিডি দায়ের করা হয়েছে। আইনজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রশ্ন, সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের ঘটনাটি ১৮৬০ সনের দন্ডবিধি আইনের ৩৮০ ধারার অপরাধ। কিন্তু পীরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী হল কিভাবে? থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৭ মে সকাল ১০ঘটিকায় পীরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক মোঃ মিনহাজ উদ্দীন, খন্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুর রশিদের নিকট কমিশনে দলিল নিবন্ধন করার জন্যে ১২ টি সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের অফিস সহকারি মোস্তফা আহম্মদ (৪৮) ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সহায়ক আশরাফুল ইসলাম (৪২), দলিল লেখক মিনহাজ উদ্দীন (৪০) সাব-রেজিস্ট্রারের নির্দেশে বীরহলি গ্রামের মৃত আমির হোসেন এর পুত্র মোঃ আনোয়ারুল হক এর বাড়িতে যান। ওই সময় অফিস সহকারি মোস্তফা আহম্মদ ও আশরাফুল ইসলাম সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কমিশন দলিলের টিপবহি সহ অন্যান্য সরকারি সরঞ্জাম নিয়ে আনোয়ারুল হকের বাড়িতেযান। সেখান থেকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ বহি ও সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় গত ১৭/০৫/২০২৩ ইং তারিখে ওই অফিস সহকারি মোস্তফা আহম্মদ ৫ জন ব্যক্তির নাম পরিচয় ও ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এর কাছে অভিযোগ পত্রটি দাখিল করেন। অভিযোগ পত্রের আসামীরা হলেন,বীরহলি গ্রামের মোঃআনোয়ারুল হক, মোশারফ হোসেন রকেট, আব্দুল কাইয়ুম, চাপোড় গ্রামের আহসান হাবীব ও জগথা গ্রামের ফজলুলহক। এই অভিযোগপত্র দাখিলের পর থেকে বিভিন ্নমহলের তদবীর শুরু হয়। সরকারি চুরি হওয়া টিপবহি ও অন্যান্য সরঞ্জাম যেন উদ্ধার নাহয় এবং অপরাধীরা যেন আইনের আওতায় না আসে এজন্য পীরগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস কর্তৃপক্ষ ওই এজাহার নামীয় অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নামবিহীন ও চুরি হওয়া কাগজপত্র হারিয়ে গেছে মর্মে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অফিস সহকারি মোস্তফাআহম্মদ গত ১৮/০৫/২০২৩ ইং তারিখে পীরগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। ডায়েরীনং – ৯৭৭। গত ১৭/০৫/২০২৩ ইং তারিখের দাখিলকৃত ৫ আসামীর এজাহার নামীয় অভিযোগপত্রটি প্রত্যাহার করে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখিয়ে জিডি করার বিষয়টিতে পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। জিডি করার কারণে এসব চুরি হওয়া সরকারি মূল্যবান কাগজপত্র ও সরঞ্জাম চিরতরে উদ্ধার হওয়ার পথ বন্ধ হয়েছে বলে সুশীল সমাজ মনে করেন। ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা সহ প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা দরকার বলে আমজনতা মনে করেন।
এ ব্যাপারে ঠঅকুরগাঁও জেলা আইনজিিব সমিতির সাধারন সম্পাদক এড. জয়নাল আবেদীন বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষনাবেক্ষন ও উদ্ধারে নিরন্ধন বিভাগ ও দায়িত্বশীল পুলিশের আরো দায়িত্ববান হওয়া উচিৎ ছিল। চুরি বা হারিয়ে যাওয়া সরন্জামাদি সাধারন মানুষের অপূরনীয় ক্ষতির কারন হতে পারে খেকেই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হওয়া দরকার ছিল। বিষয়টি এলাকার জনমনে ব্যাপক চান্চল্য সহ ধুম্রজালের সৃষ্টি করেছে।
এ ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুর রশিদ জানান- অপরাধ আমার লোকেরাই করেছে। কিন্তু নানাকারণে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছিনা। থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন,এ ব্যাপারে থানায় একটি সাধারন ডাইরী করা হয়েছে। মামলা থেকে জিডি কেন জিজ্ঞেস করলে ওসি বলেন, এটা বাদী পক্ষ তথা রেজিষ্ট্রি অফিসের লোকজনই ভাল বলতে পারবেন।