ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাঞ্চল্যকর আকরাম হত্যা মামলা তদন্তে পুলিশের বানিজ্য-মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:: জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা গ্রামে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে মারামারি, মোটর সাইকেল ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার জের ধরে আকরাম ও তার বন্ধু তরিকুলকে রাস্তা থেকে আটক ও কয়েকটি পয়েন্টে নিয়ে মারপিটের ফলে গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর চাঞ্চল্যকর মামলা তদন্তের নামে তদন্তকারী কর্মকর্তার অর্থ বানিজ্য মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করেছে।
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বৈরচুনা বাজারের জনৈক সাদেকুলের কাছে পাওনা ৮ লাখ টাকা নেয়ার জন্য ১৬.০২.২৩ইং ৭টি মোটরসাইকেলে সীমান্ত, জনি, আরমান, কবীর, আরিফুল, আকাশ, আফজাল, সাদ্দাম, রিপন, সানী ও রানা সহ ১১ জন বৈরচুনা বাজারে যায়। সেখানে ফারুকের দোকানে চা খাওয়ার সময় আকরামুল ১০/১২ জন সহযোগী সহ চায়ের দোকানে পৌছালে দুই গ্রæপের মধ্যে কথা কাটাকাটির পর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। আকরমুলের নেতৃত্বে স্থানীয়রা বেধড়ক পেটায় সীমান্ত ও তার সহযোগীদের। তারা তাদের ব্যবহৃত মোটর সাইকেল গুলো রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্নরক্ষা করে। এ সময় আকরামুলরা জনির মোটর সাইকেলৈ আগুন লাগিয়ে ভষ্মিভুত করে এবং অপরাপর বাইকগুলো ব্যাপক ভাংচুর চালায়। থানা পুলিশ খবর পেয়ে পোড়া ও ভাংচুর হওয়া বাইকগুলো থানায় নিয়ে আসে। পরে বাইকগুলো সীমান্ত থানা থেকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে গেলেও সেগুলো মেরামতের জন্য বিপুল পরিমান অর্থের প্রয়োজন বিধায় ক্ষতিপুরনের টাকা আকরামুল দেবে মর্মে উভয়পক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়। দীর্ঘদিনেও টাকা না দেয়ায়, সীমান্ত ও তার সহযোগীরা আকরামুলকে বাগে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ইত্যবছর গত ২৪.০৫.২৩ ইং বিকেলে আকরামুল তার বন্ধু তরিকুল কে নিয়ে নিজের ব্যবহৃত আরটিআর ৪ ভি বাইকযোগে ঠাকুরগাঁও থেকে বকুলতলা হয়ে বৈরচুনা যাওয়ার পথে বোচাগঞ্জ থানার আনোড়া মাদ্রাসা গেটে পৌছালে জনি, আরমান ও মোমিন তাদেরকে আটকায় এবং জোর করে ভরড়া গ্রামের জহুরা অটো রাইস মিল সংলগ্ন মেসার্স শামীর ট্রেডার্স দোকনের সম্মুখের পাকা রাস্তায় নিয়ে যায়। ইতোমধ্যে পীরগঞ্জ থেকে সীমান্ত ৭/৮ টি মোটর সাইকেলে ৮/১০ জন সহযোগী নিয়ে সেখানে পৌছে সকলে মিলে আকরামুল কে মারপিট করে। এ সময় কৌশলে বন্ধুু তরিকুল পালিয়ে আতœরক্ষা করে। এরপর আকরামুল কে তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেল সহ বোচাগঞ্জ থেকে পীরগঞ্জ সাগুনী শালবনে নিয়ে যান। সেখানেও তাকে মারপিট করা হয়। পরে রাত ৮ টার দিকে আকরামুলকে নেয়া হয় শহরের জরিফা মঞ্জিলে। সেখানে একটি কক্ষে আটক রাখা হয় এবং পূনরায় অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় আকরামুলের উপর। এসময়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আকরামুলের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল টি দুর্গাপুর গ্রামের পলাশ চন্দ্রের কাছে বন্ধক দেয়া হয়। এ পর্যায়ে আকরামুলের মোবাইল থেকে সীমান্ত ও কবীর আকরামলের বাবাকে ফোন করে মোটর সাইকেলের কাগজপত্র ও নগদ টাকা নিয়ে জরিফা মঞ্জিলে আসতে বললে স্থানীয় বৈরচুনা ইউপি ছাত্রলীগের ২ নেতা কাগজপত্র দিয়ে মুমুর্ষ আকরামুলকে নিয়ে রাত ১১ টার দিকে বৈরচুনা বাজারে নিয়ে যায়, এবং রাতেই দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীর অবস্থায় ৯ জুন রাতে আকরামুলের মৃত্যু হয়। ১০ জুন বোচাগঞ্জ থানায় মৃতের মা মোছা. আকলিমা বাদী হয়ে, জনি, আরিফুল ,সীমান্ত, আরমান, মোমিন, সায়েম রানা, আবু তাহের, রিপন ইসলাম, ছানি, সাদ্দাম, আইজুল,মুরাদ, আকাশ,আফজাল,জামান আরমি ও রনশিয়া জামান সহ ১৬ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের পেনাল কোড এর ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/ ৩০৭/ ৩৭৯/ ৩০২/ ১১৪/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়। মামলা নং ০৭। মামলা রুজু কালে মামলার কয়েকটি ঘটনাস্থলের মধ্যে সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ন ২ টি ঘটনাস্থলকে রহস্যজনকভাবে আড়াল করা হয়।
মামলার তদন্ত ভার পড়ে এসআই ফারুক হোসেন বিপি ৭৮৯৭০৭৭৫৭৩ এর উপর। মামলা তদন্তকালে এসআই ফারুক সরকারী নিয়মনীতি উপেক্ষা করে মাঠে নামেন লক্ষ লক্ষ টাকা কালেকশনের মিশন নিয়ে। আসামীদের মোবাইল ফোনে ফোন করে খসড়া চাজৃশিটের কপি পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন আসামীর কাছে নগদ টাকা হাতিয়ে এজাহার নামীয় ৬ জন আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দান, কয়েকজনের কাছে মূল ধারা কর্তন ও রহস্যজনককারনে ঘটনা সংশ্লিষ্ট না হওয়া সত্বেও এক শ্রমিক নেতাকে হত্যার মত একটি মামলায় সম্পৃক্ত করেছেন। কোন সাক্ষ্য প্রমান না থাকা সত্বেও নিজের ১৬১ ধারার ক্ষমতা বলে নতুন আসামী সংযোজন করে ক্ষমতার দাপট প্রকাশ করেছেন। ১ লক্ষ টাকা দাবী করে, না পাওয়ার কারনে তাকে আসামীভুক্ত করা হয় বলে জানা যায়। পুলিশের স্থানীয় সোর্স হিসেবে পরিচিত নিশানের মাধ্যমে রফাদফায় ব্যার্থ হয়ে, নিশান প্রমিক নেতাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন যে, তাকে এই মামলায় জড়ানো হবে। এছাড়া অন্যান্য আসামীদের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে এবং হোয়াটসএপে খসড়া চার্জশিট পাঠিয়ে এই মামলার বারোটা বাজানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ভিক্টিমের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি উদ্ধারের কোন পদক্ষেপ গ্রহন কনেননি বরং মোট সাইকেল বন্ধক নেয়া পলাশ চন্দ্র কে উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় মামলায় সংযুক্ত করা হয়নি এবং মোটর সাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়নি। চুরি যাওয়া মোটর সাইকেল উদ্ধার না করে পলাশ চন্দ্রের পরিবর্তে শ্রমিক নেতা পলাশের নামের সাথে মিল থাকায় এর দায় শ্রমিক নেতার উপর চাপিয়ে নিজের আখের গোছানো হয়। এ ব্যাপারে মামলার আইও মো. ফারুক হোসেন কে মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার তদন্তে আমি যা পেয়েছি, তাই দিয়েছি। তিনি তার দায় অস্বীকার করেন।
হত্যার মত একটি ষ্পর্শকাতর মামলায় জড়িতদের বাদ দেয়া এবং নির্দোষ ব্যাক্তিকে মামলায় জড়ানোর ঘটনাকে অমানবিক এবং তদন্ত কর্তার খামখেয়ালী ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রকাশ দাবী করে সচেতনমহল এই চার্জশিট বাতিল করে পূনরায় নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে মামলাটি পূনরায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিহিৃত করনের জোর দাবী জানান।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঞ্চল্যকর আকরাম হত্যা মামলা তদন্তে পুলিশের বানিজ্য-মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা

আপডেট টাইম ১১:২৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:: জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা গ্রামে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে মারামারি, মোটর সাইকেল ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার জের ধরে আকরাম ও তার বন্ধু তরিকুলকে রাস্তা থেকে আটক ও কয়েকটি পয়েন্টে নিয়ে মারপিটের ফলে গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর চাঞ্চল্যকর মামলা তদন্তের নামে তদন্তকারী কর্মকর্তার অর্থ বানিজ্য মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করেছে।
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বৈরচুনা বাজারের জনৈক সাদেকুলের কাছে পাওনা ৮ লাখ টাকা নেয়ার জন্য ১৬.০২.২৩ইং ৭টি মোটরসাইকেলে সীমান্ত, জনি, আরমান, কবীর, আরিফুল, আকাশ, আফজাল, সাদ্দাম, রিপন, সানী ও রানা সহ ১১ জন বৈরচুনা বাজারে যায়। সেখানে ফারুকের দোকানে চা খাওয়ার সময় আকরামুল ১০/১২ জন সহযোগী সহ চায়ের দোকানে পৌছালে দুই গ্রæপের মধ্যে কথা কাটাকাটির পর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। আকরমুলের নেতৃত্বে স্থানীয়রা বেধড়ক পেটায় সীমান্ত ও তার সহযোগীদের। তারা তাদের ব্যবহৃত মোটর সাইকেল গুলো রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্নরক্ষা করে। এ সময় আকরামুলরা জনির মোটর সাইকেলৈ আগুন লাগিয়ে ভষ্মিভুত করে এবং অপরাপর বাইকগুলো ব্যাপক ভাংচুর চালায়। থানা পুলিশ খবর পেয়ে পোড়া ও ভাংচুর হওয়া বাইকগুলো থানায় নিয়ে আসে। পরে বাইকগুলো সীমান্ত থানা থেকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে গেলেও সেগুলো মেরামতের জন্য বিপুল পরিমান অর্থের প্রয়োজন বিধায় ক্ষতিপুরনের টাকা আকরামুল দেবে মর্মে উভয়পক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়। দীর্ঘদিনেও টাকা না দেয়ায়, সীমান্ত ও তার সহযোগীরা আকরামুলকে বাগে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ইত্যবছর গত ২৪.০৫.২৩ ইং বিকেলে আকরামুল তার বন্ধু তরিকুল কে নিয়ে নিজের ব্যবহৃত আরটিআর ৪ ভি বাইকযোগে ঠাকুরগাঁও থেকে বকুলতলা হয়ে বৈরচুনা যাওয়ার পথে বোচাগঞ্জ থানার আনোড়া মাদ্রাসা গেটে পৌছালে জনি, আরমান ও মোমিন তাদেরকে আটকায় এবং জোর করে ভরড়া গ্রামের জহুরা অটো রাইস মিল সংলগ্ন মেসার্স শামীর ট্রেডার্স দোকনের সম্মুখের পাকা রাস্তায় নিয়ে যায়। ইতোমধ্যে পীরগঞ্জ থেকে সীমান্ত ৭/৮ টি মোটর সাইকেলে ৮/১০ জন সহযোগী নিয়ে সেখানে পৌছে সকলে মিলে আকরামুল কে মারপিট করে। এ সময় কৌশলে বন্ধুু তরিকুল পালিয়ে আতœরক্ষা করে। এরপর আকরামুল কে তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেল সহ বোচাগঞ্জ থেকে পীরগঞ্জ সাগুনী শালবনে নিয়ে যান। সেখানেও তাকে মারপিট করা হয়। পরে রাত ৮ টার দিকে আকরামুলকে নেয়া হয় শহরের জরিফা মঞ্জিলে। সেখানে একটি কক্ষে আটক রাখা হয় এবং পূনরায় অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় আকরামুলের উপর। এসময়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আকরামুলের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল টি দুর্গাপুর গ্রামের পলাশ চন্দ্রের কাছে বন্ধক দেয়া হয়। এ পর্যায়ে আকরামুলের মোবাইল থেকে সীমান্ত ও কবীর আকরামলের বাবাকে ফোন করে মোটর সাইকেলের কাগজপত্র ও নগদ টাকা নিয়ে জরিফা মঞ্জিলে আসতে বললে স্থানীয় বৈরচুনা ইউপি ছাত্রলীগের ২ নেতা কাগজপত্র দিয়ে মুমুর্ষ আকরামুলকে নিয়ে রাত ১১ টার দিকে বৈরচুনা বাজারে নিয়ে যায়, এবং রাতেই দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীর অবস্থায় ৯ জুন রাতে আকরামুলের মৃত্যু হয়। ১০ জুন বোচাগঞ্জ থানায় মৃতের মা মোছা. আকলিমা বাদী হয়ে, জনি, আরিফুল ,সীমান্ত, আরমান, মোমিন, সায়েম রানা, আবু তাহের, রিপন ইসলাম, ছানি, সাদ্দাম, আইজুল,মুরাদ, আকাশ,আফজাল,জামান আরমি ও রনশিয়া জামান সহ ১৬ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের পেনাল কোড এর ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/ ৩০৭/ ৩৭৯/ ৩০২/ ১১৪/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়। মামলা নং ০৭। মামলা রুজু কালে মামলার কয়েকটি ঘটনাস্থলের মধ্যে সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ন ২ টি ঘটনাস্থলকে রহস্যজনকভাবে আড়াল করা হয়।
মামলার তদন্ত ভার পড়ে এসআই ফারুক হোসেন বিপি ৭৮৯৭০৭৭৫৭৩ এর উপর। মামলা তদন্তকালে এসআই ফারুক সরকারী নিয়মনীতি উপেক্ষা করে মাঠে নামেন লক্ষ লক্ষ টাকা কালেকশনের মিশন নিয়ে। আসামীদের মোবাইল ফোনে ফোন করে খসড়া চাজৃশিটের কপি পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন আসামীর কাছে নগদ টাকা হাতিয়ে এজাহার নামীয় ৬ জন আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দান, কয়েকজনের কাছে মূল ধারা কর্তন ও রহস্যজনককারনে ঘটনা সংশ্লিষ্ট না হওয়া সত্বেও এক শ্রমিক নেতাকে হত্যার মত একটি মামলায় সম্পৃক্ত করেছেন। কোন সাক্ষ্য প্রমান না থাকা সত্বেও নিজের ১৬১ ধারার ক্ষমতা বলে নতুন আসামী সংযোজন করে ক্ষমতার দাপট প্রকাশ করেছেন। ১ লক্ষ টাকা দাবী করে, না পাওয়ার কারনে তাকে আসামীভুক্ত করা হয় বলে জানা যায়। পুলিশের স্থানীয় সোর্স হিসেবে পরিচিত নিশানের মাধ্যমে রফাদফায় ব্যার্থ হয়ে, নিশান প্রমিক নেতাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন যে, তাকে এই মামলায় জড়ানো হবে। এছাড়া অন্যান্য আসামীদের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে এবং হোয়াটসএপে খসড়া চার্জশিট পাঠিয়ে এই মামলার বারোটা বাজানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ভিক্টিমের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি উদ্ধারের কোন পদক্ষেপ গ্রহন কনেননি বরং মোট সাইকেল বন্ধক নেয়া পলাশ চন্দ্র কে উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় মামলায় সংযুক্ত করা হয়নি এবং মোটর সাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়নি। চুরি যাওয়া মোটর সাইকেল উদ্ধার না করে পলাশ চন্দ্রের পরিবর্তে শ্রমিক নেতা পলাশের নামের সাথে মিল থাকায় এর দায় শ্রমিক নেতার উপর চাপিয়ে নিজের আখের গোছানো হয়। এ ব্যাপারে মামলার আইও মো. ফারুক হোসেন কে মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার তদন্তে আমি যা পেয়েছি, তাই দিয়েছি। তিনি তার দায় অস্বীকার করেন।
হত্যার মত একটি ষ্পর্শকাতর মামলায় জড়িতদের বাদ দেয়া এবং নির্দোষ ব্যাক্তিকে মামলায় জড়ানোর ঘটনাকে অমানবিক এবং তদন্ত কর্তার খামখেয়ালী ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রকাশ দাবী করে সচেতনমহল এই চার্জশিট বাতিল করে পূনরায় নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে মামলাটি পূনরায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিহিৃত করনের জোর দাবী জানান।