ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ঠাকুরগায়ের ৩ টি আসনেই বিএনপি’র বিজয়,প্রতিদ্বন্দিতা করেছে জামায়াত ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অর্ধ-কোটি টাকাসহ আটক,এলাকায় চাঞ্চল্য ঠাকুরগাঁয়ে হ্যাঁ ভোটের প্রচারনায় শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম শাখাওয়াত স্বাস্থ্য বিভাগের বিধি-বহির্ভূত আদেশে ক্ষোভ, ঠাকুরগাঁওয়ে ডাক্তারের বদলীর বিতর্কিত আদেশ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন,স্বারকলিপি পীরগঞ্জে সরকারি স্কুল শিক্ষকদের গণভোট সম্পর্কে অবহিতকরণ স্বাস্থ্য পরিচালকের শেষ কর্মদিবসেও বদলী বানিজ্য- প্রশাসনে দুর্নিতীর রেকর্ড ভঙ্গ দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, সরকার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ব্যার্থ হয়েছে-বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়ন বাদ পড়ায় হতাশ জামায়াত, আপিলে ভরসা ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁও সফরে আসছেন তারেক রহমান কাউন্সিলর বাপ্পির নির্দেশে হত্যা করা হয় ওসমান হাদিকে : ডিবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে এক বাংলাদেশি বন্দীর মৃত্যু

মোসলিমা খাতুন,সারাদিন ডেস্ক:: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে এক বাংলাদেশি বন্দীর মৃত্যুর চার বছর পর মানবাধিকার কমিশন খুনের মামলা করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৪ সালের ১৮ অক্টোবর অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক আল আমিন সরদার। ২২ বছর বয়সী এই আল আমিনের বাড়ি ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরায়। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাসনাবাদ থানার পুলিশ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পরের দিন তাঁকে টাকি গ্রামীণ হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসক আল আমিনকে পরীক্ষা করেন। কিন্তু তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা শারীরিক অসুস্থতার প্রমাণ পাননি বলে প্রতিবেদন দেন। আদালতের নির্দেশে আল আমিনকে বসিরহাট কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু কারাগারে ঢোকার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন আল আমিন। তাঁকে বসিরহাটের সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আল আমিন মারা যান। বন্দী অবস্থায় আল আমিনকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার পর রাজ্য মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়ে পাঠান। ওই প্রতিবেদন দেখে কমিশন ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত টিমের সদস্যরা কারাগারের কর্তব্যরত ওয়ার্ডার, অফিসার, চিকিৎসকসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন। প্রত্যেককেই নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করেন।
আল আমিনের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেখে কমিশনের সদস্যরা বুঝতে পারেন, মাথায় গুরুতর আঘাতে আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের ৭ থেকে ১০ দিন আগে সে আঘাত লেগেছিল। এরপর কমিশন তদন্ত শুরু করে। যে পুলিশ কর্মকর্তা আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছিল, সেই অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কমিশন জানতে পারে, ওই পুলিশ কর্মকর্তা সঠিক তথ্য দেননি। টাকির গ্রামীণ হাসপাতালেও শারীরিক পরীক্ষায় কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। পুলিশ, চিকিৎসক, কারা কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নানা অসংগতি পায় কমিশন। তারা মনে করে, এই মৃত্যুর পেছনে পুলিশ এবং চিকিৎসকদের যথেষ্ট গাফিলতি ছিল।
আল আমিনের মৃত্যুর কারণ খুঁজতে পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গিরীশ চন্দ্র গুপ্তর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ বিশেষ সুপারিশ করেছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা করে সিআইডিকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করানোর। পাশাপাশি যে পুলিশ কর্মকর্তা আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছিলেন এবং যে চিকিৎসক প্রথম তাঁকে পরীক্ষা করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

ঠাকুরগায়ের ৩ টি আসনেই বিএনপি’র বিজয়,প্রতিদ্বন্দিতা করেছে জামায়াত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে এক বাংলাদেশি বন্দীর মৃত্যু

আপডেট টাইম ০৮:১৬:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ ২০১৮

মোসলিমা খাতুন,সারাদিন ডেস্ক:: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে এক বাংলাদেশি বন্দীর মৃত্যুর চার বছর পর মানবাধিকার কমিশন খুনের মামলা করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৪ সালের ১৮ অক্টোবর অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক আল আমিন সরদার। ২২ বছর বয়সী এই আল আমিনের বাড়ি ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরায়। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাসনাবাদ থানার পুলিশ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পরের দিন তাঁকে টাকি গ্রামীণ হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসক আল আমিনকে পরীক্ষা করেন। কিন্তু তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা শারীরিক অসুস্থতার প্রমাণ পাননি বলে প্রতিবেদন দেন। আদালতের নির্দেশে আল আমিনকে বসিরহাট কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু কারাগারে ঢোকার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন আল আমিন। তাঁকে বসিরহাটের সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আল আমিন মারা যান। বন্দী অবস্থায় আল আমিনকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার পর রাজ্য মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়ে পাঠান। ওই প্রতিবেদন দেখে কমিশন ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত টিমের সদস্যরা কারাগারের কর্তব্যরত ওয়ার্ডার, অফিসার, চিকিৎসকসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন। প্রত্যেককেই নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করেন।
আল আমিনের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেখে কমিশনের সদস্যরা বুঝতে পারেন, মাথায় গুরুতর আঘাতে আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের ৭ থেকে ১০ দিন আগে সে আঘাত লেগেছিল। এরপর কমিশন তদন্ত শুরু করে। যে পুলিশ কর্মকর্তা আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছিল, সেই অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কমিশন জানতে পারে, ওই পুলিশ কর্মকর্তা সঠিক তথ্য দেননি। টাকির গ্রামীণ হাসপাতালেও শারীরিক পরীক্ষায় কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। পুলিশ, চিকিৎসক, কারা কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নানা অসংগতি পায় কমিশন। তারা মনে করে, এই মৃত্যুর পেছনে পুলিশ এবং চিকিৎসকদের যথেষ্ট গাফিলতি ছিল।
আল আমিনের মৃত্যুর কারণ খুঁজতে পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গিরীশ চন্দ্র গুপ্তর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ বিশেষ সুপারিশ করেছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা করে সিআইডিকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করানোর। পাশাপাশি যে পুলিশ কর্মকর্তা আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছিলেন এবং যে চিকিৎসক প্রথম তাঁকে পরীক্ষা করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।