Print Print

শরিকদের ‘৬৫ থেকে ৭০ আসন’ ছাড়বে আ. লীগ

সারাদিন ডেস্ক::নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করে এনেছে জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবার জোটসঙ্গীদের জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরেন তিনি।কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, তরিকত ফেডারেশন আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী। এছাড়া যুক্তফ্রন্টের বিকল্প ধারা এবং কিছু ইসলামিক দল ও তাদের শরিকরাও জোটের অংশীদার।জোটগুলোর জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছাড় দেওয়ার কথা নেত্রী আমাকে বলতে বলেছেন। এর মধ্যে আলাপ করে যদি জোটসঙ্গীদের উইনেবল ক্যান্ডিডেট বেশি পাওয়া যায় তাহলে বেশি পাবে। আর যদি উইনেবল প্রার্থী কম থাকে তাহলে বিবেচনা করব। আমরাও আমাদের ‘ইলেকটেবল না’ এমন প্রার্থীদের বাদ দিতে দ্বিধা করব না। সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে জোটগতভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা যাবে বলে আশা করছেন কাদের। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন তাদের জোট শরিকরা নৌকা প্রতীকেই ভোট করবে। ওই চিঠিতে মোট ১৬টি দলের নাম পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে নিবন্ধিত দল আটটি। নিবন্ধিত দলগুলো হল- জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্ট-ন্যাপ, তরিকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টি-জেপি। আর এ জোটের অনিবন্ধিত দলগুলো হল- গণ আজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর লীগ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল, ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাসদ, কৃষক শ্রমিক পার্টি ও তৃণমূল বিএনপি।

অনিবন্ধিত দলের ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে অনিবন্ধিত দলের প্রার্থীরাও নিবন্ধিত দলের মনোনয়নে তাদের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারেন। নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধিত দলের প্রার্থী হিসেবেই বিবেচনা করবে। যুক্তফ্রন্টের বিকল্পধারাও ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে জোট বাধার ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশনে। দলটি জানিয়েছে, ১৪ দলের সঙ্গে মাহাজোট সম্প্রসারণ বিষয়ে তাদের আলোচনা এখনো চলছে। মাহাজোটে অংশ নিলে যুক্তফ্রন্ট ও বিকল্পধারার কিছু প্রার্থী ক্ষেত্র বিশেষে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন। বর্তমান সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী হলেও নিজেদের প্রতীক লাঙ্গল নিয়েই ভোট করবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ এর আগে জানিয়েছিলেন, বিএনপি ভোটে এলে তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচন করবে, আর বিএনপি না এলে তারা ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে। বিএনপি নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর সম্প্রতি তিনি বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগের কাছে ১০০ আসনের তালিকা দিয়েছি। এর মধ্যে ৭০ আসন তো পেতে পারি।” নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও জাতীয় পার্টি মহাজোট করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল ২৬৪ জন, জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিয়েছিল ৪৯টি আসনে। আওয়ামী লীগ জিতেছিল ২৩০টি আসনে, জাতীয় পার্টি ২৭টিতে। বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল ২৪৭ জন। ওই নির্বাচনে নানা নাটকীয়তার পর জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে ভোটে অংশ নিয়েছিল, তাদের প্রার্থী ছিল ৮৬ জন। আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয় ২৩৪টি আসনে, জাতীয় পার্টি ৩৪টিতে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ৩০ ডিসেম্বর। এর আগে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল করা যাবে। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ের পর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তার আগেই জোটের আসন ভাগাভাগি শেষ করতে হবে দলগুলোকে। ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমাদেরটা অলমোস্ট ক্লোজড। এখন অ্যালায়েন্সের সঙ্গে আমরা আলাপ আলোচনা শুরু করব। প্রথমে আমরা তাদের তালিকা নেবে। আজকালের মধ্যে আমরা সেটা পেয়ে যাব। তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে বসতে পারি। তারপর জোটগতভাবে সমীকরণ যেটা দাড়াবে, সেটা ৪/৫ দিনের মধ্যে ঘোষণা করব।”

টানা দশ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, এবার তারা দলীয় মনোনয়ন ঠিক করেছেন ‘জরিপ প্রতিবেদনের’ ওপর ভিত্তি করে। ছয়মাস আগে যাদের রিপোর্ট খারাপ ছিল তারা এর মধ্যে কিছু সংশোধন হয়েছে। নতুন মুখ আসছে, পুরোনো মুখও থাকবেছ। নবীন-প্রবীণ মিলে এবার হচ্ছে।

জোটের প্রার্থিতার ক্ষেত্রেও মাঠের অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া হবে জানিয়ে কাদের বলেন, ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার জন্য নড়াইলের একটি আসন চূড়ান্ত করা হলে ওই আসনের ওয়ার্কার্স পার্টির বর্তমান এমপি শেখ হাফিজুর রহমান বাদ পড়তে পারেন। তবে ১৪ দলের মধ্যে যারা এখন ইলেকটেড আছেন. তাদের বাদ দেওয়ার চিন্তা আমাদের নেই। জোটের ইলেকটেডদের রাখতে হবে, যদি কারও পজিশন খুব খারাপ না হয়। তবে সার্ভে রিপোর্টে কারও পজিশন খুব খারাপ থাকলে সেটা ১৪ দল হোক, আর জাতীয় পার্টির হোক, তাকে তো বাদ দিতে হবে।

ADs by sundarban PVC sundarban PVC Ads

ADs by Korotoa PVC Korotoa PVC Ads
ADs by Bank Asia Bank 

Asia Ads

নিচে মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *