ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
পীরগঞ্জে অবৈধভাবে পেট্রল মজুদকালে পাম্প মালিককে মোবাইল কোর্টে জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের জেল স্বাস্থ্য-মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা অভিভাবকহীন পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,হুমকির মুখে স্বাস্থ্য সেবা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা, এডহক ডাক্তারের প্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ–যেন দেখার কেউ নেই ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক বিভাগের একটি চিঠিতে আতঙ্কিত জমির মালিক চাপা উত্তেজনা পীরগঞ্জে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, এসপি বরাবর অভিযোগ পীরগঞ্জ আল-হাসানা স্কুল এন্ড কলেজের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপেনর সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে : মির্জা ফখরুল কর্তব্যরত অবস্থায় ঠাকুরগায়ের পীরগঞ্জ থানার এক এএসআই’র মৃত্যু যখন গনতন্ত্র চাপা থাকে তখন উগ্রবাদী শক্তিগলোর উল্থন ঘটে,তারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে-ঠাকুরগায়ে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগায়ের ৩ টি আসনেই বিএনপি’র বিজয়,প্রতিদ্বন্দিতা করেছে জামায়াত

রাণীশংকৈল উপজেলার এসিল্যান্ড নিজেই ঠিকাদার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা ২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সংস্কার ও নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে সর্ম্পূণ হয়েছে। তবে এ কাজে সরকারি নিয়মকে কাগজে কলমে দেখিয়ে গোপনে সম্পূর্ণ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) সোহাগ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে। সরকারি বিধিমালাকে উপেক্ষা করে কর্মকর্তা নিজেই এ কাজ করায় উপজেলায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

জানা গেছে, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সোহাগ চন্দ্র সাহা সরকারী বরাদ্দের ৫ লাখ টাকা ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে উপজেলা ভূমি অফিস ও ২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ করেছেন বলে কাগজে কলমে দেখিয়েছেন।

অপরদিকে সংস্কারের নামে বাচোর ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে এক লাখ অনুদান নিয়েছেন এসিল্যান্ড। অনুদান দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান জিতেন্দ্র নাথ।

ঠিকাদার নিয়োগ হলেও কাজটি এসিল্যান্ড নিজেই করেছেন বলে নিয়োগকৃত ঠিকাদার খায়রুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়াও কাজের শ্রমিকদের বেতন এসিল্যান্ড অফিসের নাজির পরিশোধ করেছেন বলে জানান শ্রমিকরা।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছুটা অস্বচ্ছতার। স্থানীয় ও জেলার নিয়মিত ঠিকাদাররা এ কাজের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি আহবানের বিষয়ে কিছুই জানেন না। এ ব্যাপারে রাণীশংকৈল উপজেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু তাহের বলেন, এ কাজের যে কখন দরপত্র আহবান করা হলো তা আমরা জানি না। সংস্কারের কাজ করা হয়েছে ২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের।

ধর্মগড়-কাশিপুর ইউপির উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, এটা কোন বরাদ্দ থেকে হয়েছে জানি না। এসিল্যান্ড স্যার আমার অফিসের পিয়ন দিয়ে দেখাশুনা করিয়ে অফিসের দরজা জানালা প্রাচীর কাজটি করিয়ে নিয়েছেন শুধু এটা জানি। এর বাইরে কিছুই জানি না। এখানে কোন ঠিকাদার কিংবা কোন প্রকৌশলীকে কখনো আসতে দেখেনি।

আরেকটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস বাচোর ইউপির উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা রহমত আলী জানান, কাজটি কীভাবে হলো, কার অর্থায়নে হলো জানি না একদিন দেখলাম ইট সিমেন্ট বালু নিয়ে এসে এসিল্যান্ড রাজমিস্ত্রি দিয়ে আমার অফিসের ডান দিকে ইটের প্রাচীর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করলো। এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারবো না।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়মে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে উপজেলা ভূমি অফিসের ফ্রন্ট ডেস্ক নির্মাণ ২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংস্কার বাবদ ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ করা হয়েছে।

তবে দরপত্র আহবান বা কার্যাদেশ প্রদানের সময় ও তারিখ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দরপত্র আহবানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কাজ করার বিধান থাকলেও এসিল্যান্ড স্যার নামে মাত্র ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে নিজের তত্ত্বাবধানে কাজটি করেছেন। কর্মরত শ্রমিকদের বেতন মুজুরি ও মালামাল ক্রয়ের টাকা আমাদের অফিসের লোক দিয়েই পরিশোধ করেছেন।

নির্মাণ কাজের রাজ মিস্ত্রি আমির আলী বলেন, এ কাজের ঠিকাদার আছে, কিন্তু তাকে আমি দেখিনি। আমাকে ভূমি অফিসের নাজির টাকা পরিশোধ করেছে।

উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি সোহাগ চন্দ্র সাহা নিজে কাজ করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি দরপত্রের কাজের চেয়েও অতিরিক্ত কাজ করেছি। তাই অনুদানও নিয়েছি। আপনারা সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পারেন।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

পীরগঞ্জে অবৈধভাবে পেট্রল মজুদকালে পাম্প মালিককে মোবাইল কোর্টে জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের জেল

রাণীশংকৈল উপজেলার এসিল্যান্ড নিজেই ঠিকাদার

আপডেট টাইম ০৬:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা ২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সংস্কার ও নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে সর্ম্পূণ হয়েছে। তবে এ কাজে সরকারি নিয়মকে কাগজে কলমে দেখিয়ে গোপনে সম্পূর্ণ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) সোহাগ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে। সরকারি বিধিমালাকে উপেক্ষা করে কর্মকর্তা নিজেই এ কাজ করায় উপজেলায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

জানা গেছে, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সোহাগ চন্দ্র সাহা সরকারী বরাদ্দের ৫ লাখ টাকা ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে উপজেলা ভূমি অফিস ও ২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ করেছেন বলে কাগজে কলমে দেখিয়েছেন।

অপরদিকে সংস্কারের নামে বাচোর ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে এক লাখ অনুদান নিয়েছেন এসিল্যান্ড। অনুদান দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান জিতেন্দ্র নাথ।

ঠিকাদার নিয়োগ হলেও কাজটি এসিল্যান্ড নিজেই করেছেন বলে নিয়োগকৃত ঠিকাদার খায়রুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়াও কাজের শ্রমিকদের বেতন এসিল্যান্ড অফিসের নাজির পরিশোধ করেছেন বলে জানান শ্রমিকরা।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছুটা অস্বচ্ছতার। স্থানীয় ও জেলার নিয়মিত ঠিকাদাররা এ কাজের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি আহবানের বিষয়ে কিছুই জানেন না। এ ব্যাপারে রাণীশংকৈল উপজেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু তাহের বলেন, এ কাজের যে কখন দরপত্র আহবান করা হলো তা আমরা জানি না। সংস্কারের কাজ করা হয়েছে ২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের।

ধর্মগড়-কাশিপুর ইউপির উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, এটা কোন বরাদ্দ থেকে হয়েছে জানি না। এসিল্যান্ড স্যার আমার অফিসের পিয়ন দিয়ে দেখাশুনা করিয়ে অফিসের দরজা জানালা প্রাচীর কাজটি করিয়ে নিয়েছেন শুধু এটা জানি। এর বাইরে কিছুই জানি না। এখানে কোন ঠিকাদার কিংবা কোন প্রকৌশলীকে কখনো আসতে দেখেনি।

আরেকটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস বাচোর ইউপির উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা রহমত আলী জানান, কাজটি কীভাবে হলো, কার অর্থায়নে হলো জানি না একদিন দেখলাম ইট সিমেন্ট বালু নিয়ে এসে এসিল্যান্ড রাজমিস্ত্রি দিয়ে আমার অফিসের ডান দিকে ইটের প্রাচীর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করলো। এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারবো না।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়মে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে উপজেলা ভূমি অফিসের ফ্রন্ট ডেস্ক নির্মাণ ২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংস্কার বাবদ ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ করা হয়েছে।

তবে দরপত্র আহবান বা কার্যাদেশ প্রদানের সময় ও তারিখ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দরপত্র আহবানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কাজ করার বিধান থাকলেও এসিল্যান্ড স্যার নামে মাত্র ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে নিজের তত্ত্বাবধানে কাজটি করেছেন। কর্মরত শ্রমিকদের বেতন মুজুরি ও মালামাল ক্রয়ের টাকা আমাদের অফিসের লোক দিয়েই পরিশোধ করেছেন।

নির্মাণ কাজের রাজ মিস্ত্রি আমির আলী বলেন, এ কাজের ঠিকাদার আছে, কিন্তু তাকে আমি দেখিনি। আমাকে ভূমি অফিসের নাজির টাকা পরিশোধ করেছে।

উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি সোহাগ চন্দ্র সাহা নিজে কাজ করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি দরপত্রের কাজের চেয়েও অতিরিক্ত কাজ করেছি। তাই অনুদানও নিয়েছি। আপনারা সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পারেন।