ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
স্বাস্থ্য-মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা অভিভাবকহীন পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,হুমকির মুখে স্বাস্থ্য সেবা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা, এডহক ডাক্তারের প্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ–যেন দেখার কেউ নেই ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক বিভাগের একটি চিঠিতে আতঙ্কিত জমির মালিক চাপা উত্তেজনা পীরগঞ্জে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, এসপি বরাবর অভিযোগ পীরগঞ্জ আল-হাসানা স্কুল এন্ড কলেজের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপেনর সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে : মির্জা ফখরুল কর্তব্যরত অবস্থায় ঠাকুরগায়ের পীরগঞ্জ থানার এক এএসআই’র মৃত্যু যখন গনতন্ত্র চাপা থাকে তখন উগ্রবাদী শক্তিগলোর উল্থন ঘটে,তারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে-ঠাকুরগায়ে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগায়ের ৩ টি আসনেই বিএনপি’র বিজয়,প্রতিদ্বন্দিতা করেছে জামায়াত ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অর্ধ-কোটি টাকাসহ আটক,এলাকায় চাঞ্চল্য

ঠাকুরগাঁওয়ে ভুয়া চিকিৎসকের অপারেশনে মা ও নবজাতকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টারঃ ঠাকুরগাঁওয়ে জাহাঙ্গীর নামে এক ভুয়া চিকিৎসকের অপারেশনে মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার  রাতে জেলা শহরের একতা নার্সিং হোম নামে ক্লিনিকে এ দূর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদে ঝড় বইছে। স্বজন ও এলাকাবাসি জানান, সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের খলিশাকুড়ী গ্রামের মকলেশ উদ্দিনের প্রসুতি স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩০) কে বুধবার বিকেলে শহরের একতা নার্সিং হোম ক্লিনিকে ভর্তি করান। ক্লিনিক কর্র্তৃপক্ষের পরামশে ভুয়া চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে চুক্তির পর ওই ক্লিনিকে সন্ধ্যায় অপরাশেন করান। অপরাশনের সময় ভুয়া চিকিৎসকের ভুলে অতিরিক্ত রক্ত খনন হলে চিকিৎসক পালিয়ে যান। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ উপায় না পেয়ে রোগীকে দ্রæত একটি এ্যাম্বুলেন্সে করে অনত্র পাঠাতে চাইলে রোগী ও শিশুটি মারা যায়। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্লিনিক ঘেড়াও করে প্রতিবাদ জানালে কৌশলে সবাই পালিয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে পরে অপারেশন করাতে আসা দরিদ্র পরিবারে সবাই। সুরাহা ছাড়াই মা ও শিশুর লাশ নিয়ে বাড়িতে যান স্বজনরা। এমন মৃত্যু মেনে নিতে না পারায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক প্রতিবাদের ঝড় বইতে শুরু করে। তবুও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য সংশ্লিস্টরা জানান, এমবিবিএস ডাক্তার না হলেও তিনি পিএসডি করেছেন দাবি করে জাহাঙ্গীর দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারেশন চালিয়ে আসলেও স্বাস্থ্য বিভাগ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় নি। আর সেকারনে দুবছরে জেলার সুশ্রী নাসিং হোম, সেভেন ডে ক্লিনিকসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারেশন করাতে গিয়ে বেশ কয়েকজনকে হত্যা করেছে। তার শাস্তি না হলে অসহায় মানুষ তার হাতে আবারো প্রাণ হারাতে পারে। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন অপারেশন ভাল হয়েছে রোগীর অবস্থা আগে থেকেই খারাপ ছিল। রিপোর্ট করে কি হবে এর আগে আমি জেলও খেটেছি তার পরেও আমি অপারেশন করবোই। তবে তিনি তার বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে রাজি হয়নি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে শীর্ষ কর্মকর্তা সিভিল সার্জন ডাঃ নুর নেওয়াজ জানান, জাহাঙ্গীরের ভুল অপারেশনে বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল জেলও খেটেছিল শুনেছি। আমি এ জেলায় নতুন তার বৈধ কাগজপত্র আছে কি না খতিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যবস্থাপনা কমিটির সিন্ধান্তে করে ব্যবস্থা গ্রহন করা নেয়া হবে। এ বিষয়ে সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি শুনেছি অভিযোগ পেলে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইনগত প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্য-মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা অভিভাবকহীন পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,হুমকির মুখে স্বাস্থ্য সেবা

ঠাকুরগাঁওয়ে ভুয়া চিকিৎসকের অপারেশনে মা ও নবজাতকের মৃত্যু

আপডেট টাইম ০১:০০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জানুয়ারী ২০২২
স্টাফ রিপোর্টারঃ ঠাকুরগাঁওয়ে জাহাঙ্গীর নামে এক ভুয়া চিকিৎসকের অপারেশনে মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার  রাতে জেলা শহরের একতা নার্সিং হোম নামে ক্লিনিকে এ দূর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদে ঝড় বইছে। স্বজন ও এলাকাবাসি জানান, সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের খলিশাকুড়ী গ্রামের মকলেশ উদ্দিনের প্রসুতি স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩০) কে বুধবার বিকেলে শহরের একতা নার্সিং হোম ক্লিনিকে ভর্তি করান। ক্লিনিক কর্র্তৃপক্ষের পরামশে ভুয়া চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে চুক্তির পর ওই ক্লিনিকে সন্ধ্যায় অপরাশেন করান। অপরাশনের সময় ভুয়া চিকিৎসকের ভুলে অতিরিক্ত রক্ত খনন হলে চিকিৎসক পালিয়ে যান। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ উপায় না পেয়ে রোগীকে দ্রæত একটি এ্যাম্বুলেন্সে করে অনত্র পাঠাতে চাইলে রোগী ও শিশুটি মারা যায়। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্লিনিক ঘেড়াও করে প্রতিবাদ জানালে কৌশলে সবাই পালিয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে পরে অপারেশন করাতে আসা দরিদ্র পরিবারে সবাই। সুরাহা ছাড়াই মা ও শিশুর লাশ নিয়ে বাড়িতে যান স্বজনরা। এমন মৃত্যু মেনে নিতে না পারায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক প্রতিবাদের ঝড় বইতে শুরু করে। তবুও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য সংশ্লিস্টরা জানান, এমবিবিএস ডাক্তার না হলেও তিনি পিএসডি করেছেন দাবি করে জাহাঙ্গীর দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারেশন চালিয়ে আসলেও স্বাস্থ্য বিভাগ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় নি। আর সেকারনে দুবছরে জেলার সুশ্রী নাসিং হোম, সেভেন ডে ক্লিনিকসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারেশন করাতে গিয়ে বেশ কয়েকজনকে হত্যা করেছে। তার শাস্তি না হলে অসহায় মানুষ তার হাতে আবারো প্রাণ হারাতে পারে। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন অপারেশন ভাল হয়েছে রোগীর অবস্থা আগে থেকেই খারাপ ছিল। রিপোর্ট করে কি হবে এর আগে আমি জেলও খেটেছি তার পরেও আমি অপারেশন করবোই। তবে তিনি তার বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে রাজি হয়নি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে শীর্ষ কর্মকর্তা সিভিল সার্জন ডাঃ নুর নেওয়াজ জানান, জাহাঙ্গীরের ভুল অপারেশনে বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল জেলও খেটেছিল শুনেছি। আমি এ জেলায় নতুন তার বৈধ কাগজপত্র আছে কি না খতিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যবস্থাপনা কমিটির সিন্ধান্তে করে ব্যবস্থা গ্রহন করা নেয়া হবে। এ বিষয়ে সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি শুনেছি অভিযোগ পেলে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইনগত প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।