সংবাদ শিরোনাম
আল-হাসানাহ স্কুলে মেধা,শিখন ও গনিত উৎসবে বিজয়ীদের সম্মাননা ও পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত প্রাণিসম্পদ বিভাগের দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ফ্রি ভ্যাকসিনেশন ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত: ঠাকুরগাঁওয়ে আল-হাসানাহ স্কুলের অন্ত:স্কুল শিখন ও গনিত উৎসব-২৬ অনুষ্ঠিত “আমিষেই শক্তি, আমিষেই মুক্তি” প্রতিপাদ্য নিয়ে পীরগঞ্জে   প্রানিসম্পদের ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত শরিয়াহভিত্তিক ইসলামিক রাষ্ট্র নয়, বাংলাদেশের মানুষ উদারপন্থি রাজনীতি করতে চায়-ঠাকুরগাঁও বিএনপি’র বর্ধিত সভায় মির্জা ফখরুল ব্র্যাক’র স্বপ্নসারথী দলের কিশোরীদের মাঝে শিক্ষা সহায়তা প্রদান সম্পন্ন রংপুর বিভাগীয় পরিচালকের পীরগঞ্জ প্রানিসম্পদ দপ্তরের সম্প্রসারন কার্যক্রম পরিদর্শন পীরগঞ্জ পেৌরসভার ৫২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষনা পীরগঞ্জে বৃক্ষরােপন কর্মসূচীর উদ্বোধন পীরগঞ্জে স্বপ্ন-সারথিদের মাঝে গ্রাজুয়েশন সনদ প্রদান

স্বাস্থ্য-মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা অভিভাবকহীন পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,হুমকির মুখে স্বাস্থ্য সেবা

ঠাকুরগাঁও ব্যুরো:: খোদ স্বাস্থ্য বিভাগের বদলী জটিলতার কারনে প্রায় ১ মাস ধরে অভিভাবতহীন থাকায় ঠাকুরগাঁও জেলার অন্যতম বড় উপজেলা পীরগঞ্জ এর ৩ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র সরকারী হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রানচঞ্চল হাসপাতাল জুড়ে বিরাজ করছে ভুতুরে পরিবেশ। প্রতিদিন চিতিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ জনপদের সেবা প্রার্থী মানুষ। তারা ছুটছেন দিনাজপুর রংপুর সহ বড় শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকে।
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধনে জানা যায় জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা শহর পীরগঞ্জ। এর পশ্চাতে থাকা রানীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার মোহনা হওয়ায় চিকিৎসা সহ সকল ক্ষেত্রে এ উপজেলাকেই তারা ব্যবহার করে থাকেন। এখানে ৩ টি ক্লিনিক ও ১১ টি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার রয়েছে। সাধারন মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্যে রয়েছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী হাসপাতাল। উপজেলার ১ টি পৌরসভা ও ১০ টি ইউনিয়নের মানুষ এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। বর্তমানে হাসপাতালটিতে অশুভ ছায়াপাত ঘটেছে।
প্রকাশ এডহক ডা. আব্দুল জব্বার কোড নং ১২২৯৬৬ সহকারী সার্জন হয়েও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকলেও গত ০৫.০২.২০২০ ইং থেকে ১৪.০৯.২৫ ইং পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে ৫ বছর ৮ মাস কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও অর্থ আর ক্ষমতার প্রভাবে সেসব ধামাচাপা পড়ে যায়। পরবর্তীতে এডহক কর্মকর্তাদের অফিস প্রধানের পদ হতে সরানোর সিদ্ধান্ত হলে তিনি তা উপেক্ষা করেন।
গত ১১.০৮.২৪ ইং এর ডিজিএইচএস/পার-২/বিবিধ-২০২৪/৬৪৭৭ স্বারক প্রজ্ঞাপন মূলে এডহক ডা. জ¦ব্বার কে এমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে স্বারক নং ৮২৫ তারিখ ০৮.০৯.২৫ ইং বদলী আদেশ দেয়া হয়। একইভাবে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল থেকে ৩৩ বিসিএস কর্মকর্তা ডা.কামাল আহম্মেদ কোড নং-১৩০৬৫০ কে পীরগঞ্জ হাসপাতালে বদলী করা হয়। আদেশ মোতাবেক কামাল আহম্মেদ ১৪.০৯.২৫ ইং যোগদান করেন কিন্তু ডা. জব্বার বদলী আদেশ উপেক্ষা করে হাসপাতাল ছেড়ে লাপাত্তা হন। এমনকি হাসপাতালের সরকারী জিপ ও ২ টি মোটর সাইকেল নিজ হেফাজতে রেখে নবাগত কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে প্রায় ৩ মাস নিজ বাড়ীতে অবস্থান করেন এবং প্রভাব থাটিয়ে নবগত কর্মকর্তাকে পাশ^বর্তী রানীশংকৈল উপজেলায় বদলী করাতে সক্ষম হন এবং নিজে পূনরায় পীরগঞ্জ হাসপাতালে সহকারী সার্জন হিসেবে বদলী আদেশ করান। এই দুটি আদেশকেই বিতর্কিত এবং রহস্যজনক মনে করছেন বিজ্ঞমহল।
ইতোমধ্যে জাতীয় র্নির্বাচনের তপশীল ঘোষিত হওয়ায় নির্বচন শেষে গত ৩ মার্চ-২৬ ইং সিভিল সার্জনের নির্দেশে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের কর্মকর্তা ডা. আবুল বাশার মো: ছায়েদজ্জামান এর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে ৪ মার্চ রানীশংকৈল হাসপাতালে যোগদান করেন। এর পর থেকেই এ হাসপাতালে শুরু হয় অভিভাবকত্বহীনতা। স্বাস্থ্যকর্তার পোষ্টটি সার্বক্ষনিক ও ক্যাম্পাসে অবস্থানের নিয়ম থাকলেও এখানকার পদটি শুন্য হওয়ায় চলছে বিশৃঙ্খলা। কেউ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেননা। ডাক্তাররা সময়মত হাসপাতালে আসেননা, রোগী দেখেননা, ওষুধ পাওয়া যাচ্ছেনা। সর্বপরি অনিয়ম আর স্চ্ছোচারিতায় ডুবে আছে হাসপাতালটি, যেন দেখার কেউ নেই্। এ বিষয়ে সচেতন মহল অবিলম্বে একজন নির্ভরযোগ্য বিসিএস ইউএইচএফপিও পোষ্টিং সহ অনিয়মের রাজত্ব কায়েমকারী এডহক ডাক্তার আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে বিধিগত ব্যবস্থা গ্রহনে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

আল-হাসানাহ স্কুলে মেধা,শিখন ও গনিত উৎসবে বিজয়ীদের সম্মাননা ও পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত

স্বাস্থ্য-মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা অভিভাবকহীন পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,হুমকির মুখে স্বাস্থ্য সেবা

আপডেট টাইম ০৪:১৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

ঠাকুরগাঁও ব্যুরো:: খোদ স্বাস্থ্য বিভাগের বদলী জটিলতার কারনে প্রায় ১ মাস ধরে অভিভাবতহীন থাকায় ঠাকুরগাঁও জেলার অন্যতম বড় উপজেলা পীরগঞ্জ এর ৩ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র সরকারী হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রানচঞ্চল হাসপাতাল জুড়ে বিরাজ করছে ভুতুরে পরিবেশ। প্রতিদিন চিতিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ জনপদের সেবা প্রার্থী মানুষ। তারা ছুটছেন দিনাজপুর রংপুর সহ বড় শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকে।
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধনে জানা যায় জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা শহর পীরগঞ্জ। এর পশ্চাতে থাকা রানীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার মোহনা হওয়ায় চিকিৎসা সহ সকল ক্ষেত্রে এ উপজেলাকেই তারা ব্যবহার করে থাকেন। এখানে ৩ টি ক্লিনিক ও ১১ টি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার রয়েছে। সাধারন মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্যে রয়েছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী হাসপাতাল। উপজেলার ১ টি পৌরসভা ও ১০ টি ইউনিয়নের মানুষ এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। বর্তমানে হাসপাতালটিতে অশুভ ছায়াপাত ঘটেছে।
প্রকাশ এডহক ডা. আব্দুল জব্বার কোড নং ১২২৯৬৬ সহকারী সার্জন হয়েও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকলেও গত ০৫.০২.২০২০ ইং থেকে ১৪.০৯.২৫ ইং পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে ৫ বছর ৮ মাস কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও অর্থ আর ক্ষমতার প্রভাবে সেসব ধামাচাপা পড়ে যায়। পরবর্তীতে এডহক কর্মকর্তাদের অফিস প্রধানের পদ হতে সরানোর সিদ্ধান্ত হলে তিনি তা উপেক্ষা করেন।
গত ১১.০৮.২৪ ইং এর ডিজিএইচএস/পার-২/বিবিধ-২০২৪/৬৪৭৭ স্বারক প্রজ্ঞাপন মূলে এডহক ডা. জ¦ব্বার কে এমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে স্বারক নং ৮২৫ তারিখ ০৮.০৯.২৫ ইং বদলী আদেশ দেয়া হয়। একইভাবে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল থেকে ৩৩ বিসিএস কর্মকর্তা ডা.কামাল আহম্মেদ কোড নং-১৩০৬৫০ কে পীরগঞ্জ হাসপাতালে বদলী করা হয়। আদেশ মোতাবেক কামাল আহম্মেদ ১৪.০৯.২৫ ইং যোগদান করেন কিন্তু ডা. জব্বার বদলী আদেশ উপেক্ষা করে হাসপাতাল ছেড়ে লাপাত্তা হন। এমনকি হাসপাতালের সরকারী জিপ ও ২ টি মোটর সাইকেল নিজ হেফাজতে রেখে নবাগত কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে প্রায় ৩ মাস নিজ বাড়ীতে অবস্থান করেন এবং প্রভাব থাটিয়ে নবগত কর্মকর্তাকে পাশ^বর্তী রানীশংকৈল উপজেলায় বদলী করাতে সক্ষম হন এবং নিজে পূনরায় পীরগঞ্জ হাসপাতালে সহকারী সার্জন হিসেবে বদলী আদেশ করান। এই দুটি আদেশকেই বিতর্কিত এবং রহস্যজনক মনে করছেন বিজ্ঞমহল।
ইতোমধ্যে জাতীয় র্নির্বাচনের তপশীল ঘোষিত হওয়ায় নির্বচন শেষে গত ৩ মার্চ-২৬ ইং সিভিল সার্জনের নির্দেশে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের কর্মকর্তা ডা. আবুল বাশার মো: ছায়েদজ্জামান এর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে ৪ মার্চ রানীশংকৈল হাসপাতালে যোগদান করেন। এর পর থেকেই এ হাসপাতালে শুরু হয় অভিভাবকত্বহীনতা। স্বাস্থ্যকর্তার পোষ্টটি সার্বক্ষনিক ও ক্যাম্পাসে অবস্থানের নিয়ম থাকলেও এখানকার পদটি শুন্য হওয়ায় চলছে বিশৃঙ্খলা। কেউ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেননা। ডাক্তাররা সময়মত হাসপাতালে আসেননা, রোগী দেখেননা, ওষুধ পাওয়া যাচ্ছেনা। সর্বপরি অনিয়ম আর স্চ্ছোচারিতায় ডুবে আছে হাসপাতালটি, যেন দেখার কেউ নেই্। এ বিষয়ে সচেতন মহল অবিলম্বে একজন নির্ভরযোগ্য বিসিএস ইউএইচএফপিও পোষ্টিং সহ অনিয়মের রাজত্ব কায়েমকারী এডহক ডাক্তার আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে বিধিগত ব্যবস্থা গ্রহনে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।