সংবাদ শিরোনাম
৪২-বিজিবি দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন এর বিশেষ অভিযান, বিরল সীমান্তে ভারতীয় মদ উদ্ধার ৪২-বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর সীমান্ত এলাকায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার সীমান্তের ১৩ টি পূজা মন্ডবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছে ৪২ বিজিবির সদস্যরা পীরগঞ্জে দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের মত-বিনীময় সভা পীরগঞ্জে হিন্দু ধর্মীয় দুর্গা-পূজার জন্য অনুদান বিতরন একটি আদর্শ, একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেবার ক্ষেত্রে এটি নি:সন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ন মাইলফলক-পরিচালক ইত্তাশাম-উল-হক পীরগঞ্জে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চেরকুঘাট সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চেরকুঘাট সেতুর উদ্বোধন করলেন এমপি জাহিদুর ঠাকুরগাঁওয়ে আল-হাসানাহ স্কুলে অন্ত: প্রতিযোগীতা ইংলিশ অলিম্পিয়ার্ড ও বিজ্ঞান উৎসবের উদ্বোধন পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর টিকা দেয়ার কারনে আজ দেশ থেকে গুটি বসন্ত রোগ চিরতরে বিদায় হয়েছে, তেমনি করে গরু ছাগলকেও টিকা দেয়ার বিকল্প নেই-ঠাকুরগাঁওয়ে লাইভষ্টক পরিচালক ডা: আব্দুল হাই সরকার

ঘর পাচ্ছেন ২৬ বছর সাজাভোগী পিয়ারা, মা পাবেন বয়স্কভাতা

পিরোজপুর:: মঠবাড়িয়ায় চাচাতো বোনকে হত্যার দায়ে ২৬ বছর যাবজ্জীবন সাজা ভোগকারী পিয়ারা আক্তার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী উপহার ঘর ও তার বৃদ্ধ মা পাবেন বয়স্কভাতা। এ উদ্যোগ নিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসন। বরিশাল জেলা প্রশাসনের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পিয়ারা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ছোট হারজি গ্রামের মৃত আনিস মৃধার মেয়ে।

জানা গেছে, চাচাতো বোন শিশু মেহজাবীনকে হত্যার অভিযোগে ১৯৯৫ সালে গ্রেপ্তার করা হয় ১২ বছরের পিয়ারা আক্তারকে। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ এপ্রিল হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেন আদালত।

এরপর বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। পিয়ারা দীর্ঘ ২৬ বছর কারাভোগের পর চলতি বছরের ১০ জুন বরিশালের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জসীম উদ্দিন হায়দারের বিশেষ বিবেচনায় চার বছর আগে মুক্তি পান। এরপরই পিয়ারা আক্তার মঠবাড়িয়ার ছোট হারজি গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা ছফুরা বেগমের সাথে দেখা করার জন্য বাড়িতে আসেন।

বরিশাল জেলা প্রশাসনের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ জানান, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সর্বাত্মক লকডাউন শেষ হলে ঘর ও বয়স্ক ভাতার কার্ড পিয়ারার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে জেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিয়ারা তার মঠবাড়িয়ার বাড়িতে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। এসময় জেলা প্রশাসক যাতায়াতের খরচ দিয়ে দিয়েছেন। পিয়ারা যেন আয় করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন সেজন্য ইতোমধ্যে সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কারামুক্তি লাভের পর পরই জেলা প্রশাসন থেকে পিয়ারা আক্তারকে চাকরি দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। সে অনুসারে একটি উৎপাদন কারখানায় থাকা, খাওয়াসহ মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পিয়ারা আক্তার আগ্রহ প্রকাশ করেননি।

পিয়ারা আক্তার জানান, জেল থেকে বের হওয়ার পর তার মানসিক অবস্থা ভালো নেই। দীর্ঘ ২৬ বছর কারাভোগে শারীরিক অবস্থাও ভালো না। একটু সুস্থ হলে তবেই চাকরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে। পিয়ারা আপাতত তার মায়ের সাথে থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর ও মায়ের বয়স্ক ভাতা পেলে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে বাকি জীবন স্বাভাবিকভাবে কাটাতে পারবেন বলে জানান।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২-বিজিবি দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন এর বিশেষ অভিযান, বিরল সীমান্তে ভারতীয় মদ উদ্ধার

ঘর পাচ্ছেন ২৬ বছর সাজাভোগী পিয়ারা, মা পাবেন বয়স্কভাতা

আপডেট টাইম ০৫:৩৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জুলাই ২০২১

পিরোজপুর:: মঠবাড়িয়ায় চাচাতো বোনকে হত্যার দায়ে ২৬ বছর যাবজ্জীবন সাজা ভোগকারী পিয়ারা আক্তার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী উপহার ঘর ও তার বৃদ্ধ মা পাবেন বয়স্কভাতা। এ উদ্যোগ নিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসন। বরিশাল জেলা প্রশাসনের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পিয়ারা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ছোট হারজি গ্রামের মৃত আনিস মৃধার মেয়ে।

জানা গেছে, চাচাতো বোন শিশু মেহজাবীনকে হত্যার অভিযোগে ১৯৯৫ সালে গ্রেপ্তার করা হয় ১২ বছরের পিয়ারা আক্তারকে। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ এপ্রিল হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেন আদালত।

এরপর বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। পিয়ারা দীর্ঘ ২৬ বছর কারাভোগের পর চলতি বছরের ১০ জুন বরিশালের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জসীম উদ্দিন হায়দারের বিশেষ বিবেচনায় চার বছর আগে মুক্তি পান। এরপরই পিয়ারা আক্তার মঠবাড়িয়ার ছোট হারজি গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা ছফুরা বেগমের সাথে দেখা করার জন্য বাড়িতে আসেন।

বরিশাল জেলা প্রশাসনের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ জানান, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সর্বাত্মক লকডাউন শেষ হলে ঘর ও বয়স্ক ভাতার কার্ড পিয়ারার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে জেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিয়ারা তার মঠবাড়িয়ার বাড়িতে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। এসময় জেলা প্রশাসক যাতায়াতের খরচ দিয়ে দিয়েছেন। পিয়ারা যেন আয় করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন সেজন্য ইতোমধ্যে সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কারামুক্তি লাভের পর পরই জেলা প্রশাসন থেকে পিয়ারা আক্তারকে চাকরি দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। সে অনুসারে একটি উৎপাদন কারখানায় থাকা, খাওয়াসহ মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পিয়ারা আক্তার আগ্রহ প্রকাশ করেননি।

পিয়ারা আক্তার জানান, জেল থেকে বের হওয়ার পর তার মানসিক অবস্থা ভালো নেই। দীর্ঘ ২৬ বছর কারাভোগে শারীরিক অবস্থাও ভালো না। একটু সুস্থ হলে তবেই চাকরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে। পিয়ারা আপাতত তার মায়ের সাথে থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর ও মায়ের বয়স্ক ভাতা পেলে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে বাকি জীবন স্বাভাবিকভাবে কাটাতে পারবেন বলে জানান।