আজম রেহমান, সংবাদ সাবাদিন ডেস্ক:: দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২বিজিবি) সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনপদকে মাদক ও চোরাচালানের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অপরাধীদের অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিজিবির তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২বিজিবি) বিজিবি’র অভিযানে ৫ জন আটক, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার প্রসঙ্গে মতামত দিতে গিয়ে ‘মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং পরিবার ও সমাজের স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করে সহ অনেক কথা বলেছেন অধিনায়ক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত ০৩ নভেম্বর ২০২৬ রাতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ কিশোরীগঞ্জ বিওপির টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী পঁচাপাড়া এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি মাদক সেবনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। একপর্যায়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় নিম্নেবর্ণিত ৫ জনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেহ তল্লাশি করে ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম এবং ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।এরা হলেন, (১) মোঃ লাইচু (২৭), পিতা-মোঃ আঃ রহিম, গ্রাম-বেতুড়া ২। মোঃ সাখাওয়াত (২৮), পিতা-মোঃআজিজুর রহমান, গ্রাম-পঁচাপাড়া ৩। মোঃ ওমর ফারুক (৩৫), পিতা-মোঃ নাসিরুদ্দিন, গ্রাম-বিরল ৪। মোঃ মাজেদুর রহমান (৩২), পিতা-মৃত মোসলেম উদ্দিন, গ্রাম-বেতুড়া ৫। মোঃ জাফরুল ইসলাম (২৩), পিতা-আব্দুর রহমান, গ্রাম-গোপালপুর, সকলের পোস্ট-বালান্দর, থানা-বিরল, জেলা-দিনাজপুর।
আটক ব্যক্তিদের উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও মোবাইলসহ বিরল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।অপরদিকে, একই রাতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ এনায়েতপুর, চাপসার ও চান্দেরহাট বিওপি পৃথক পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে দিনাজপুর জেলার বিরল এবং ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৮ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৮ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ এবং ৯৪০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ টাকা।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং পরিবার ও সমাজের স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করে। তাই সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান আপসহীন। অপরাধের ধরন ও কৌশল বিবেচনায় নিয়ে আমাদের অভিযান আরও কার্যকর করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকমুক্তসমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক : 











