আজম রেহমান, সংবাদ সারাদিন ডেস্ক:: দায়িত্ব পালন করতে গিয়েও বিড়ম্বনা আর বিতর্ক । যেন শেষ নেই এর। কেউ আছেন সর্বদা ব্যাস্ত থাকেন কাজের মাঝে, দিন কি রাত কাবার করে ফেলেন কাজের মধ্যেই। আর কেউ আছেন, কাজের মধ্যে থাকা ব্যস্ত মানুষগুলোর ভুল খুজতে। এই হলো আমাদের নিয়তি আর বিড়ম্বনা। এমনই বিড়ম্বনায় পড়েছেন একজন নিপাট ভদ্রলোক উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত। দায়িত্ব পালনে ন্যায়-নিষ্ঠা, সততা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করেন তিনি।
পীরগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক সেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন এই কর্মকর্তা। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর কর্মতৎপরতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে তাঁকে একজন মানবিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে মূল্যায়ন করছেন এলাকার উন্নয়ন প্রত্যাশী জনসাধারন ও সুশীল মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিরা।
পীরগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পর থেকে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতি, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, প্রশাসনিক অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি জনসাধারণের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার চেষ্টা করেন তিনি । উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছেl
ঝুঁকি উপেক্ষা করে মানুষের পাশে থাকার প্রচেষ্টা
একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ-সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন গোলাম রব্বানী সরদার।
প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রতিকূল পরিস্থিতি, নানা চাপ এবং ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়। এসব পরিস্থিতিতেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের চেষ্টা তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম দিক বলে তাঁর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনে করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন
গোলাম রব্বানী সরদারের প্রশাসনিক কর্মজীবন দীর্ঘ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। কর্মজীবনের শুরু থেকে ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও সদর, কুড়িগ্রাম, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিটি কর্মস্থলেই সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তিরা।
দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন এলাকার প্রশাসনিক বাস্তবতা, মানুষের জীবনযাত্রা এবং স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পীরগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি।
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মনীতি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তাঁর কর্মপদ্ধতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক বলে তাঁকে ঘিরে ইতিবাচক মহলে আলোচনা রয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম, অনৈতিক সুবিধা কিংবা নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা না করার বিষয়ে তিনি আপসহীন—এমনটাই দাবি করেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
তাঁদের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে কেউ কেউ তাঁকে দিয়ে নিয়মবহির্ভূত বা অনিয়মসংক্রান্ত কাজ করানোর চেষ্টা করলেও তিনি তাতে সম্মতি দেননি। বরং সরকারি বিধিবিধান মেনে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
ভিত্তিহীন সংবাদে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ-
সম্প্রতি তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, দীর্ঘ প্রশাসনিক কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসা একজন কর্মকর্তাকে নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
তাঁদের দাবি, কোনো অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হলে তা একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুন্ন করতে পারে। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, নিরপেক্ষতা এবং বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তারও নিরপেক্ষ তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। কারণ গণমাধ্যমের দায়িত্ব যেমন অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরা, তেমনি যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করাও সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ নীতি।
পীরগঞ্জের উন্নয়নে প্রত্যাশা-
পীরগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, গোলাম রব্বানী সরদারের নেতৃত্বে উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রকৃত সাফল্য তাঁর পদ-পদবি কিংবা প্রচারণায় নয়; বরং তাঁর কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত হচ্ছেন, সরকারি সেবা কতটা সহজলভ্য হচ্ছে এবং উন্নয়নের সুফল কতটা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাচ্ছে, তার মধ্যেই নিহিত।
সব মিলিয়ে সততা, মানবিকতা, দায়িত্বশীলতা ও জনসেবার প্রত্যাশাকে সামনে রেখে পীরগঞ্জের প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদারের ভূমিকা আরও ইতিবাচক ও কার্যকর হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।
সংবাদ সারাদিন ডেস্ক : 













