ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর দেওয়ার নাম করে ইউএনওর শ্যালকের প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১

স্টাফ রিপোটার-ঠাকুরগাঁও:- ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলা ইউএনওর শ্যালক তানবিন হাসান মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বিভিন্ন অসহায় মানুষকে দেওয়ার নাম করে প্রায় ২লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করে। পরে সেই অসহায় মানুষকে ঘর দিতে না পারায় গ্রামবাসী ইউএনওর শ্যালক ও তার সহযোগীকে আটক করে। কৌশলে ইউএনওর শ্যালক পালিয়ে যায় ও তার সহযোগী আবুল কালাম আজাদকে পুলিশের হাতেঁ তুলে দেয় গ্রামবাসি। এ ঘটনায় হরিপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর-০৫, তাং-০৯.০৬.২১ দন্ডবিধি ৪০৬/৪২০।
মঙ্গলবার রাতে জেলার হরিপুর উপজেলা ভাতুরিয়া রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য হরিপুর উপজেলায় আশ্রয়ন প্রকল্পের মোট ৯৩৬ টি ঘর নির্মান এর বরাদ্ধ হয়েছে। তার মধ্যে ৫৩৬ টি ঘর নির্মান সম্পন্ন হয়েছে ও ৪০০ টি ঘর নির্মাধীন। আর টাকা ছাড়া কাওকে ঘর দেওয়া হয় না এমন অভিযোগ এলাকাবাসির।
এলাকাবাসি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হরিপুর উপজেলার ইউএনও আব্দুল করিম তার শ্যালক তানবিন হাসান কে উপজেলার আশ্রয়ন প্রকল্পের বাড়ি নির্মানের কাজ তদারকির দায়িত্ব দেন। শ্যালক ক্ষমতার অপব্যাবহার করে ভাতুরিয়া রামপুর গ্রামের সাধারণ মানুষকে বাড়ি দেওয়ার নাম করে প্রায় ২লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই গ্রামের লোকজনের কাছে শ্যালক নিজেকে বড় কর্মকর্তা দাবি করে ২০/২৫ জন ব্যাক্তির কাছে ১৫/২০ হাজার টাকা করে নেয় বাড়ি দেওয়ার জন্য। এসব টাকা শ্যালকের হয়ে আদায় করেছিল তারই সহযোগী আবুল কালাম আজাদ।
কিন্তু প্রথম ধাপে বাড়ি দিতে না পারায় এলাকাবাসি শ্যালকের বিরুদ্ধে ক্ষেপে যায়। গত মঙ্গলবার রাতে শ্যালক তানবিন ও তার সহযোগী রামপুর গ্রামে গেলে গ্রামের লোকজন তাদেরকে টাকার জন্য অবরুদ্ধ করে। পরে সুযোগ বুঝে তানবিন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। আর তানবিনের সহযোগী আবুল কালাম আজাদকে পুলিশের হাতেঁ তুলে দেয় এলাকাবাসি।
রামপুর গ্রামের জহুরা খাতুন বলেন, আমি ঘর নেওয়ার জন্য ইউএনওর শ্যালককে ১৫ হাজার টাকা জমি বিক্রয় করে দিয়েছি। আমার শেষ সম্বল জমিটুকু আমি বিক্রয় করে দেই। কিন্তু উনি ঘর দিতে টালবাহানা করে তাই উনার সহযোগী সহ উনাকে আটক করি আমরা।
ওই গ্রামের সফিউর রহমান বলেন, আমাকে ইউএনওর শ্যালকের সহযোগী আবুল কালাম আজাদ ঘর দিতে চায়। তার বদলে আমার কাছে ৩০ হাজার টাকা চায়। কিন্তু আমি ওত টাকা কোথায় পাবো তাই আমার হালের গরু বিক্রয় করে ২৫ হাজার টাকা দেই। এখন আমার গরুও নাই আমাকে ঘরও দিচ্ছে না।
হরিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ আলী বলেন, এই উপজেলায় যতগুলো ঘরের কাজ হয়েছে সবগুলো নিম্মমানের। প্রধান মন্ত্রীর উপহার নিয়ে এমন অবহেলা একদমই ঠিক নয়। এছাড়াও আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নেওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকাও দিতে হচ্ছে শুনেছি আমি।
হরিপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ এস এম আওরঙ্গজেব বলেন, মঙ্গলবার রাতে রামপুর গ্রাম থেকে খবর আসে একজনকে আটক করে রাখা হয়েছে। পরে থানা থেকে গিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। আজ বুধবার সন্ধ্যায় রামপুর এলাকার সাইদুর রহমান বাদি হয়ে আটক ব্যাক্তি আবুল কালাম আজাদ এর নামে টাকা আতœসাৎ এর মামলা করে। মামলায় বাদি উল্লেখ করে আবুল কালাম আজাদ ইউএনওর শ্যালক তানবিন হাসান এর সহযোগী হিসেবে কাজ করে এবং মঙ্গলবার এলাকাবাসি ২ জনকেই আটক করেছিল। কিন্তু তানবিন পালিয়ে যায়। তাকে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।
হরিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, আইন সকলের জন্য সমান। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধী যে কেও হোক না কেন তার যা শাস্থি সেটা পেতেই হবে।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর দেওয়ার নাম করে ইউএনওর শ্যালকের প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১

আপডেট টাইম ০১:১১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুন ২০২১

স্টাফ রিপোটার-ঠাকুরগাঁও:- ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলা ইউএনওর শ্যালক তানবিন হাসান মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বিভিন্ন অসহায় মানুষকে দেওয়ার নাম করে প্রায় ২লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করে। পরে সেই অসহায় মানুষকে ঘর দিতে না পারায় গ্রামবাসী ইউএনওর শ্যালক ও তার সহযোগীকে আটক করে। কৌশলে ইউএনওর শ্যালক পালিয়ে যায় ও তার সহযোগী আবুল কালাম আজাদকে পুলিশের হাতেঁ তুলে দেয় গ্রামবাসি। এ ঘটনায় হরিপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর-০৫, তাং-০৯.০৬.২১ দন্ডবিধি ৪০৬/৪২০।
মঙ্গলবার রাতে জেলার হরিপুর উপজেলা ভাতুরিয়া রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য হরিপুর উপজেলায় আশ্রয়ন প্রকল্পের মোট ৯৩৬ টি ঘর নির্মান এর বরাদ্ধ হয়েছে। তার মধ্যে ৫৩৬ টি ঘর নির্মান সম্পন্ন হয়েছে ও ৪০০ টি ঘর নির্মাধীন। আর টাকা ছাড়া কাওকে ঘর দেওয়া হয় না এমন অভিযোগ এলাকাবাসির।
এলাকাবাসি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হরিপুর উপজেলার ইউএনও আব্দুল করিম তার শ্যালক তানবিন হাসান কে উপজেলার আশ্রয়ন প্রকল্পের বাড়ি নির্মানের কাজ তদারকির দায়িত্ব দেন। শ্যালক ক্ষমতার অপব্যাবহার করে ভাতুরিয়া রামপুর গ্রামের সাধারণ মানুষকে বাড়ি দেওয়ার নাম করে প্রায় ২লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই গ্রামের লোকজনের কাছে শ্যালক নিজেকে বড় কর্মকর্তা দাবি করে ২০/২৫ জন ব্যাক্তির কাছে ১৫/২০ হাজার টাকা করে নেয় বাড়ি দেওয়ার জন্য। এসব টাকা শ্যালকের হয়ে আদায় করেছিল তারই সহযোগী আবুল কালাম আজাদ।
কিন্তু প্রথম ধাপে বাড়ি দিতে না পারায় এলাকাবাসি শ্যালকের বিরুদ্ধে ক্ষেপে যায়। গত মঙ্গলবার রাতে শ্যালক তানবিন ও তার সহযোগী রামপুর গ্রামে গেলে গ্রামের লোকজন তাদেরকে টাকার জন্য অবরুদ্ধ করে। পরে সুযোগ বুঝে তানবিন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। আর তানবিনের সহযোগী আবুল কালাম আজাদকে পুলিশের হাতেঁ তুলে দেয় এলাকাবাসি।
রামপুর গ্রামের জহুরা খাতুন বলেন, আমি ঘর নেওয়ার জন্য ইউএনওর শ্যালককে ১৫ হাজার টাকা জমি বিক্রয় করে দিয়েছি। আমার শেষ সম্বল জমিটুকু আমি বিক্রয় করে দেই। কিন্তু উনি ঘর দিতে টালবাহানা করে তাই উনার সহযোগী সহ উনাকে আটক করি আমরা।
ওই গ্রামের সফিউর রহমান বলেন, আমাকে ইউএনওর শ্যালকের সহযোগী আবুল কালাম আজাদ ঘর দিতে চায়। তার বদলে আমার কাছে ৩০ হাজার টাকা চায়। কিন্তু আমি ওত টাকা কোথায় পাবো তাই আমার হালের গরু বিক্রয় করে ২৫ হাজার টাকা দেই। এখন আমার গরুও নাই আমাকে ঘরও দিচ্ছে না।
হরিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ আলী বলেন, এই উপজেলায় যতগুলো ঘরের কাজ হয়েছে সবগুলো নিম্মমানের। প্রধান মন্ত্রীর উপহার নিয়ে এমন অবহেলা একদমই ঠিক নয়। এছাড়াও আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নেওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকাও দিতে হচ্ছে শুনেছি আমি।
হরিপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ এস এম আওরঙ্গজেব বলেন, মঙ্গলবার রাতে রামপুর গ্রাম থেকে খবর আসে একজনকে আটক করে রাখা হয়েছে। পরে থানা থেকে গিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। আজ বুধবার সন্ধ্যায় রামপুর এলাকার সাইদুর রহমান বাদি হয়ে আটক ব্যাক্তি আবুল কালাম আজাদ এর নামে টাকা আতœসাৎ এর মামলা করে। মামলায় বাদি উল্লেখ করে আবুল কালাম আজাদ ইউএনওর শ্যালক তানবিন হাসান এর সহযোগী হিসেবে কাজ করে এবং মঙ্গলবার এলাকাবাসি ২ জনকেই আটক করেছিল। কিন্তু তানবিন পালিয়ে যায়। তাকে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।
হরিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, আইন সকলের জন্য সমান। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধী যে কেও হোক না কেন তার যা শাস্থি সেটা পেতেই হবে।