সংবাদ শিরোনাম
শরিয়াহভিত্তিক ইসলামিক রাষ্ট্র নয়, বাংলাদেশের মানুষ উদারপন্থি রাজনীতি করতে চায়-ঠাকুরগাঁও বিএনপি’র বর্ধিত সভায় মির্জা ফখরুল ব্র্যাক’র স্বপ্নসারথী দলের কিশোরীদের মাঝে শিক্ষা সহায়তা প্রদান সম্পন্ন রংপুর বিভাগীয় পরিচালকের পীরগঞ্জ প্রানিসম্পদ দপ্তরের সম্প্রসারন কার্যক্রম পরিদর্শন পীরগঞ্জ পেৌরসভার ৫২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষনা পীরগঞ্জে বৃক্ষরােপন কর্মসূচীর উদ্বোধন পীরগঞ্জে স্বপ্ন-সারথিদের মাঝে গ্রাজুয়েশন সনদ প্রদান ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ১১ ভারতীয়কে ৪৮ ঘন্টা পর ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুর মৃত্যু, স্বামী পলাতক সাংবাদিকতার চাইতে চ্যালেঞ্জিং পেশা আর নেই-মির্জা ফখরুল

ফলোআপ-ঠাকুরগায়ে চলন্ত একতা এক্সপ্রেসে পপকর্ন বিক্রেতা খুনের ঘটনায়-সিরাজগঞ্জ ও দিনাজপুর থেকে চার ঘাতক গ্রেপ্তার

আজম রেহমান, ঠাকুরগাঁও  ব্যুরো: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ‘একতা এক্সপ্রেসের চলন্ত ট্রেনে পপকর্ন বিক্রেতা আল আমিন (৩০) কে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। সিরাজগঞ্জ ও দিনাজপুরের পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। নিহত আল আমিন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বতুয়াতলী গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ঠাকুরগাঁও সদরের ছিট চিলারং গ্রামের ফজলে হকের ছেলে মো. আকাশ (৩০), হরিহরপুর সুগারমিল এলাকার পাগলা মিয়ার ছেলে কুদরত আলী (৩২), রুহিয়া উপজেলার ঘনিবিষ্টপুর গ্রামের বন্দরপাড়া এলাকার মো. সুজন (২২) এবং একই উপজেলার হরিহরপুর হাজীপাড়ার সামসুল হকের ছেলে আবু সাঈদ (২৩)।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, ২৩ নভেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ভাউলারহাট এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলে পপকর্ন বিক্রি করতে গেলে আল আমিনের সঙ্গে নারকেল বিক্রেতা আকাশের কথা–কাটাকাটি হয়। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ঘটনাটি মীমাংসা হলেও আকাশ বিষয়টি মন থেকে সরাননি।
পরদিন ২৪ নভেম্বর রাতে আল আমিন তাঁর সহকর্মী মো. মাহাবুব, জানিফ উদ্দিন ও মাহামুদুলকে সঙ্গে নিয়ে দিনাজপুর থেকে পীরগঞ্জগামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঙ’ বগিতে ওঠেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ট্রেনটি সেতাবগঞ্জ স্টেশন অতিক্রম করার পর আগের দ্বন্দ্বের জেরে চার আসামি তাঁকে টেনে নিয়ে যান ‘ঠ’ বগিতে।
রেলওয়ে পুলিশের তথ্যে জানা যায়, পীরগঞ্জ স্টেশনে প্রবেশের ঠিক আগে আসামিরা ধারালো চাকু দিয়ে আল আমিনের গলায় আঘাত করেন। তাঁকে বাঁচাতে গেলে সঙ্গে থাকা আরেক ফেরিওয়ালা মিলন মিয়া (১৭) কেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে অন্যান্য ফেরিওয়ালারা দুইজনকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল আমিনকে মৃ*ত ঘোষণা করেন এবং মিলনকে গু*রু*ত*র অবস্থায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
২৫ নভেম্বর দুপুরে নি*হ*তে*র শ্বশুর আনোয়ার হোসেন দিনাজপুর রেলওয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপরই রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জোনাঈদ আফ্রাদের নেতৃত্বে একাধিক দল মাঠে নামে।
তিনি জানান, রাত ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে মো. আকাশ ও কুদরত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা একটি নৈশ্যকোচে ঢাকা পালিয়ে যাচ্ছিলেন। একই সময়ে দিনাজপুরের বিরামপুর রেলগেট এলাকা থেকে মো. সুজন ও আবু সাঈদকে আটক করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জোনাঈদ আফ্রাদ বলেন, মামলা দায়েরের পরপরই আমরা অভিযান শুরু করি। প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যেই চারজনকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

 

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

শরিয়াহভিত্তিক ইসলামিক রাষ্ট্র নয়, বাংলাদেশের মানুষ উদারপন্থি রাজনীতি করতে চায়-ঠাকুরগাঁও বিএনপি’র বর্ধিত সভায় মির্জা ফখরুল

ফলোআপ-ঠাকুরগায়ে চলন্ত একতা এক্সপ্রেসে পপকর্ন বিক্রেতা খুনের ঘটনায়-সিরাজগঞ্জ ও দিনাজপুর থেকে চার ঘাতক গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম ০৩:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

আজম রেহমান, ঠাকুরগাঁও  ব্যুরো: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ‘একতা এক্সপ্রেসের চলন্ত ট্রেনে পপকর্ন বিক্রেতা আল আমিন (৩০) কে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। সিরাজগঞ্জ ও দিনাজপুরের পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। নিহত আল আমিন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বতুয়াতলী গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ঠাকুরগাঁও সদরের ছিট চিলারং গ্রামের ফজলে হকের ছেলে মো. আকাশ (৩০), হরিহরপুর সুগারমিল এলাকার পাগলা মিয়ার ছেলে কুদরত আলী (৩২), রুহিয়া উপজেলার ঘনিবিষ্টপুর গ্রামের বন্দরপাড়া এলাকার মো. সুজন (২২) এবং একই উপজেলার হরিহরপুর হাজীপাড়ার সামসুল হকের ছেলে আবু সাঈদ (২৩)।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, ২৩ নভেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ভাউলারহাট এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলে পপকর্ন বিক্রি করতে গেলে আল আমিনের সঙ্গে নারকেল বিক্রেতা আকাশের কথা–কাটাকাটি হয়। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ঘটনাটি মীমাংসা হলেও আকাশ বিষয়টি মন থেকে সরাননি।
পরদিন ২৪ নভেম্বর রাতে আল আমিন তাঁর সহকর্মী মো. মাহাবুব, জানিফ উদ্দিন ও মাহামুদুলকে সঙ্গে নিয়ে দিনাজপুর থেকে পীরগঞ্জগামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঙ’ বগিতে ওঠেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ট্রেনটি সেতাবগঞ্জ স্টেশন অতিক্রম করার পর আগের দ্বন্দ্বের জেরে চার আসামি তাঁকে টেনে নিয়ে যান ‘ঠ’ বগিতে।
রেলওয়ে পুলিশের তথ্যে জানা যায়, পীরগঞ্জ স্টেশনে প্রবেশের ঠিক আগে আসামিরা ধারালো চাকু দিয়ে আল আমিনের গলায় আঘাত করেন। তাঁকে বাঁচাতে গেলে সঙ্গে থাকা আরেক ফেরিওয়ালা মিলন মিয়া (১৭) কেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে অন্যান্য ফেরিওয়ালারা দুইজনকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল আমিনকে মৃ*ত ঘোষণা করেন এবং মিলনকে গু*রু*ত*র অবস্থায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
২৫ নভেম্বর দুপুরে নি*হ*তে*র শ্বশুর আনোয়ার হোসেন দিনাজপুর রেলওয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপরই রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জোনাঈদ আফ্রাদের নেতৃত্বে একাধিক দল মাঠে নামে।
তিনি জানান, রাত ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে মো. আকাশ ও কুদরত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা একটি নৈশ্যকোচে ঢাকা পালিয়ে যাচ্ছিলেন। একই সময়ে দিনাজপুরের বিরামপুর রেলগেট এলাকা থেকে মো. সুজন ও আবু সাঈদকে আটক করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জোনাঈদ আফ্রাদ বলেন, মামলা দায়েরের পরপরই আমরা অভিযান শুরু করি। প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যেই চারজনকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।