মো: মোশাররফ হোসেন, ষ্টাফ রিপোর্টার-ঠাকুরগাঁও :: স্বাস্থ্য প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে থাকা দুর্নীতির রেকর্ড ভঙ্গকারী পরিচালক প্রশাসনের চাকরীর শেষ কর্মদিবসেও বদলী বানিজ্যের গুরুতর অভিযোগ ও গুঞ্জন এ বিভাগের আকাশ-বাতাস কাপিয়ে তুলেছে। প্রশাসনের বদলী আদেশ লঙ্ঘনকারী এক মেডিকেল অফিসার আদেশাধীন কর্মস্থলে যোগদান না করায় অবমুক্ত হওয়া ডা: আব্দুল জব্বার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড বিনষ্টকারী হিসেবে চিহিৃত না হয়ে তাকে পূনরায় পুরাতন কর্মস্থলে বহাল করার উদ্যোগ গ্রহন করার খবরে সমগ্র স্বাস্থ্য প্রশাসনে ব্যাপক গুঞ্জন ও আলোচনার ঝড় উঠেছে। খোজ নিয়ে জানা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক প্রশাসন ডা.এবিএম আবু হানিফ ১৪ জানুয়ারী তার অবসর গ্রহনের শেষ কর্মদিবসে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রাক্তন কমকর্তা যিনি এডহক নিয়োগের কারনে গত ৮ সেপ্টেম্বর-২৫ ইং বদলী আদেশ প্রাপ্ত হন এবং ৬ কার্যদিবসের মধ্যে ঠাকুরগাঁও আধুনিক হাসপাতালে জরুরী মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান না করায় অবমুক্ত হন। প্রশাসনের আদেশ চ্যালেন্জ করে গত ৪ মাস ধরে অধিদপ্তরে তদ্বির অব্যাহত রাখেন এবং প্রকাশ্যে ঘোষনা দেন যেকোন মুল্যে তিনি পুরাতন কর্মস্থলে ফিরবেন।
নতুন কর্মকর্তা যোগদানের পর পীরগঞ্জ হাসপাতালে সাধারন মানুষ সেবা পেতে শুরু করে। বিভিন্ন বিভাগে প্রানচাঞ্চল্য ও কাজের গতি ফিরলেও মাথাভারী প্রশাসন যন্ত্র আপাদমস্তক দুর্নিতীগ্রস্থ প্রাক্তন কর্মকর্তা ডা. জব্বার এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে পূনরায় পীরগঞ্জ হাসপাতালে পদায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যে খবরে সাধারন মানুষের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা ও নানা মুখরোচক আলোচনার জন্ম হয়েছে।ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. কামাল আহম্দে কে পাশ্ববর্তী রানীশংকৈল হাসপাতালের শুন্য পদে গত ১২ জানুয়ারী বদলী করা হয়েছে এবং নতুন আদেশে অবমুক্ত আব্দুল জব্বারকে সমস্ত নিয়ম কানুন লঙ্ঘন করে পীরগঞ্জে পায়নের পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে।
প্রায় ৫বছর ধরে কর্মরত এ্যাডহক মেডিকেল অফিসার মো: আব্দুল জব্বারকে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদ থেকে বদলী করা হয় ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা হাসপাতালের এমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার হিসেবে। গত ০৮.০৯.২৫ইং অধিদপ্তরের বদলী আদেশে তাকে ৬ দিনের মধ্যে নবাগত কর্মকর্তার কাছে চার্জ হস্তান্তর পূর্বক নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা থাকলেও তিনি আদেশের তোয়াক্কা না করে কতৃপক্ষের নির্দেশ পালন করেননি। কেন্দ্রের নবাগত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.কামাল আহম্মেদ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল থেকে ছারপত্র নিয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যোগদানপত্র দাখিল করেন। সিভিল সার্জন ১৬ সেপ্টেম্বর আর্টিকেল ৪৭ অনুযায়ী যোগদান গ্রহন করে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। নবাগত কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে, প্রতিটি বিভাগে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ফিরে এসেছে প্রানচাঞ্চল্য ও আন্তরিকতার পরিবেশ। উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ৮ অক্টোবর থেকে চালু করা হযেছে গর্ভবতি মহিলাদের বিনা পয়সায সিজারিয়ান কার্যক্রম। দরিদ্র রোগীদের আস্থা ফিরেছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার প্রতি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা হাসপাতাল পরিদর্শন করে নবাগত কর্মকর্তার জনস্বার্থ ও সেবামূলক কার্যক্রমে আশাবাদ ব্যাক্ত সহ সার্বিক সহযোহীতার আশ্বাস দিয়েছেন।
ইতোমধ্যে প্রাক্তন কর্মকর্তা উর্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশ উপেক্ষা করে অফিসের দায়িত্ব হস্তান্তর না করে অফিসের প্রয়োজনীয় মালামাল ও যানবাহন তার নিজের হেফাজতে ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। অফিসের সরকারী জিপ গাড়ী, ১ টি মোটর সাইকেল, ২ টি ল্যাপটপ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সরকারি মোবাইল সিম যার নম্বর ০১৭০১-২৪৮৭৪৬, ব্যাংক হিসাবের ব্যালেন্স সহ ষ্টেটমেন্ট, চেকবই এবং অফিসিয়াল আইবাস এর পাসওয়ার্ড নিজের হেফাজতে রেখে অবৈধ ব্যবহার সহ স্বাস্থ্য বিভাগের মত ষ্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ন একটি বিভাগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি সহ অফিসের কাজের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন এবং যেকোন মূল্যে তিনি তার বদলী আদেশ বাতিল করে ফিরে আসবেন বলে গত ৪ মাস ধরে কর্মচারীদের মধ্যে আতন্ক ছড়াচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের স্বারক নং ডিজিএইচএস/পার-২/বিধি-২০২৪/৬৪৭৭ তারিখ ১১/০৮/২৪ ইং পরিচালক প্রশাসন ডা.মো: হারুন-অর রশিদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এডহক বা প্রকল্পভুক্ত(পরবর্তীতে এনক্যাডারকৃত) ও প্রকল্প ভুক্ত চিকিৎসক কর্মকর্তাসহ ডা: আব্দুল জব্বারের পদায়ন আদেশ বাতিল করেন। এর পরেও এই কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে তার কার্যক্রম চালিযে যান। এমতাবস্থায় ৮ সেপ্টেম্বর পূনরায় বদলী আদেশ হলে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী এবং বেপরোয়া এই কর্মকর্তা সরাকে ধরা জ্ঞান করে গত ৪ মাসেও বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করে বদলী আদেশ বাতিলের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে তদ্বির অব্যাহত রেখে বিভাগীয় চেইন অব কমান্ড অমান্য করার গুরুতর অসদাচরন সত্বেও কতৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দোর্দন্ড প্রতাপশালী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। যা নিয়ে জনমনে নানা পশ্নের উদ্রেক করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক প্রফেসর ডা. আবু জাফরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে অনেকবার ফোন দেয়ার পরেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিষয়টি এলাকার জনমনে ও স্বাস্থ্য প্রশাসনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সারাদিন ডেস্ক : 












