Print Print

তাবিথের ওপর হামলা

  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
image

রাজধানীর গাবতলী এলাকায় হামলায় আহত বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল-সংবাদ

নির্বাচনী প্রচারণাকালে ঢাকা উত্তর সিটি বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী (পর্বতার কলাবাজার) এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থী (ঠেলাগাড়ি) মুজিব সারোয়ার মাসুমের নেতৃত্বে তার কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাবিথ আউয়াল। এ ঘটনায় তাবিথসহ বিএনপি বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। আওয়ামী লীগের দাবি, বিএনপি নিজেই এ ঘটনা ঘটিয়ে জনসমর্থন বাড়ানোর অপচেষ্টা করছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারণাকালে প্রার্থীর ওপর প্রতিপক্ষের হামলা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের অন্তরায়। এ ঘটনা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করবে, ভোটের পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র-কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের আর ৯ দিন বাকি; ভোট হবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি। প্রচারণার শুরু থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির নানা অভিযোগ করে আসছে। প্রচার শেষ সময়ে এসে এই সহিংসতার ঘটনা উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশকে বিঘিœত করেছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত ও কাপুরুষোচিত’ মন্তব্য করে এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিএনপির মেয়ার প্রার্থীর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের ঘৃণ্য হামলার ঘটনায় আমি ধিক্কার ও নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বর্তমান শাসকগোষ্ঠির লালিত সন্ত্রাসীদের হিংস্রতা যেন ততই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এ নির্বাচন একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্যই প্রতিদিন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় হামলা চালাচ্ছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘মনোবাঞ্ছনা পূরণ’ করতে ‘আজ্ঞাবাহী’ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইভিএম বহাল রেখেছেন বলেও দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। বিবৃতিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও ভয়ভীতিমুক্ত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আবার জোর আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বিএনপির প্রার্থী তাবিথের ওপর হামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আসন্ন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে এ ঘটনা বিএনপি ঘটিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিষয়টি পুরোপুরিভাবে না জেনে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে আমি মনে করি নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলাটে করার জন্য একটি পক্ষ সক্রিয়। এটি সে পক্ষেরই নতুন নাটক কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির প্রথম থেকে প্রচেষ্টা হচ্ছে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করা।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা উত্তর সিটির ৯নং ওয়ার্ড (পর্বতার কলাবাজার) এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন তাবিথ। তার মিছিলটি যখন ওই এলাকায় প্রবেশ করে তখন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী (ঠেলাগাড়ি) মুজিব সারোয়ার মাসুমের নেতৃত্বে আর একটি মিছিল বের হয়। এ সময় দুই দলের সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টা-পাল্টি সেøাগান দিতে থাকেন। এক সময় হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার তাবিথ আউয়াল বলেন, আমাদের ওপর কাপুরুষের মতো হামলা করা হয়েছে। যতই হামলা হোক, আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। আমরা সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাব। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, এ হামলাটি আমাদের কিছু কিছু পুলিশ কর্মকর্তার সামনে হয়েছে। আমাদের পক্ষে গণজোয়ারে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ হামলা করেছে। আমরা তাদের পাল্টা আঘাত করি নাই। মুজিব সারোয়ারের নেতৃত্বে এ হামলা হয়। হামলার বিষয়ে ইসির কাছে অভিযোগ জানানো হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগ তো করতেই হবে। তবে, তারা (ইসি) বলবেন, প্রমাণ আনেন, ফুটেজ আনেন। ঘটনা হচ্ছে, সব জমা দেয়ার পরেও তারা কোন পদক্ষেপ নেবেন না। পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলেই পরিস্থিতি আবার অবনতির দিকে চলে যাচ্ছে।

তাবিথের সহযোগী মাহমুদ হাসান সংবাদকে বলেন, গণসংযোগ শুরুর পরপরই লাঠিসোঁটা নিয়ে পেছন থেকে হামলা করেন একদল লোক। তারা তাবিথ ও তার সঙ্গীদের ওপর ঢিল ছোড়েন। কয়েকটি ঢিল তাবিথের গায়ে ও মাথায় লাগে। এতে তাবিথসহ তার সঙ্গে থাকা ১০ থেকে ১২ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন। মাহমুদ বলেন, তাদের প্রার্থী তাবিথদের আঘাত গুরুতর নয়। তবে আহত কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার তাবিথের সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানিসহ দফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিমুদ্দিন আলম প্রমুখ।

দারুস সালাম থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ বলেন, সেখানে কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। দুইপক্ষ মিছিল করার সময় হাল্কা ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। পরে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটির আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম এ ঘটনার বিষয়ে বলেন, হামলার বিষয়ে এখনও শুনিনি। তারা নিজেরা সংঘর্ষ বাধাতে পারেন।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেন, এ ব্যাপারে বিএনপি তাৎক্ষণিকভাবে কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছে। কমিশন শুনেছে এবং সঙ্গে সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলেছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষক সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সংবাদকে বলেন, এ হামলার ঘটনায় নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এটি উদ্বেগের বিষয়। যারা সহিংসতা রোধ করবেন, দৃশ্যত তাদের কোন কার্যক্রম নেই। তাই অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তারা আরও বড় ধরনের অন্যায় কর্মকা- ঘটাতে পারে। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে এখনই ব্যাবস্থা না নিলে সামনের দিকে চরম সহিংস রূপ নিতে পারে।

তিনি বলেন, অনেক ওয়ার্ডেই বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। তারা শক্তিশালী ও প্রভাবশালী। যেকোন মূল্যে নির্বাচিত হওয়ার জন্য তারা মরিয়া হয়ে উঠছে। প্রকৃত কথা হচ্ছে, যেসব কর্মকর্তারা দায়িত্বপালন করছেন তারা ক্ষমতাসীনদের বিরাগভাজন হতে চাচ্ছেন না। কেন্দ্রীয়ভাবেও ইসি কোনকিছুতেই কঠোর হচ্ছে না। তবে এখনও সময় আছে, ইসি কঠোর না হলে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকবে না।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুনেছি ইসি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে; তদন্ত করছে। আশা করি তারা ব্যবস্থা নেবে। নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত তো ভালোই আছে। সামনে কি হয়, তা এখন বলা যাচ্ছে না। তবে এ ধরনের ঘটনা কারও কাছেই কাক্সিক্ষত নয়। এ ধরনের ঘটনায় তো সুষ্ঠু পরিবেশ থাকবে না।

ADs by sundarban PVC sundarban PVC Ads

ADs by Korotoa PVC Korotoa PVC Ads
ADs by Bank Asia Bank 

Asia Ads

নিচে মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *