ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ঠাকুরগাঁয়ে বিজিবি’র উদ্দোগে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা সাংবাদিক বিপ্লবের উপর হামলা মামলার আসামীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেনা পীরগঞ্জে শহীদ জমিদার পরিবারের পক্ষে কুরানখানী ও মিলাদমাহফিল চাঞ্চল্যকর আকরাম হত্যা মামলা তদন্তে পুলিশের বানিজ্য-মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা পীরগঞ্জে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন হিমালয় সংলগ্ন জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে নেই আবহাওয়া অফিস ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাইমারীর ভাইভা পরীক্ষা দিতে গিয়ে ২ চাকরীপ্রার্থী আটক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসে ধরা খেলেন চাকরিপ্রার্থী।  ৪৬৮ এমপি এখনো বহাল সংসদ-সদস্যের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক জীবনে আপনি সত্যিকারের সুখী কি না যেভাবে বুঝবেন

ঠাকুরগাঁওয়ে চলছে লটারীর জমজমাট ব্যবসা: সর্বশান্ত হচ্ছে মানুষ

আজম রেহমান,সারাদিন ডেস্ক::ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় লাখ লাখ টাকার পুরস্কার জেতার স্বপ্ন দেখিয়ে চলছে অবৈধ লটারী। আনন্দমেলার নামে সমগ্র জেলায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে জমজমাটভাবে চলছে লটারীর টিকেট বিক্রি। সাধারন মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সহজেই এই লটারী চক্রের ফাদে প্রতিদিন পা দিচ্ছে।
জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ীহাট এলাকায় গত ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে আনন্দমেলা। প্রথম দিন থেকেই ওই মেলায় শুরু হয়েছে র‍্যাফল ড্র। মেলার আয়োজক স্থানীয় একদল তরুণ। আয়োজকেরা দিনের বেলা মূল্যবান ও আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মাইকিং করছে। রাতের বেলা ড্রয়ে কিছু না জুটলেও দমছে না তারা। ভাগ্য জয়ের আশায় আবারও টিকিট কিনছে। এভাবে যত টিকিট বিক্রি হচ্ছে, তত পকেট ভারী হচ্ছে আয়োজকদের। এতে পকেট খালি হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, তারা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ীহাট এলাকায় ১৫ দিনের জন্য শুধু গ্রামীণ শিল্পসামগ্রী মেলার অনুমোদন দিয়েছে। কোনো ধরনের র‍্যাফল ড্র বা হাউজির অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
জেলা প্রশাসক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, সাধারণত মেলায় হাউজি-র‍্যাফল ড্রয়ের অনুমতি দেওয়া হয় না। লাহিড়ীহাট মেলায়ও দেওয়া হয়নি। এরপরও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪মে মেলা চত্বরে গিয়ে দেখা গেছে, মেলায় দুই-তিনটি দোকান বসানো হয়েছে। বিনোদনের জন্য বসানো হয়েছে ‘মহানন্দা অপেরা’ নামের একটি যাত্রার প্যান্ডেল। পাশে রয়েছে ‘ঢাকা একে সার্কাস’ নামে একটি প্যান্ডেল। পাশে নির্মাণ করা হয়েছে আরো একটি প্যান্ডেল। শ্রমিকের জানান, ওই প্যান্ডেলটি হাউজির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। মেলায় র‍্যাফল ড্র-ই মূল আকর্ষণ।
র‍্যাফল ড্রয়ের প্রতিটি টিকিটের দাম ২০ টাকা। টিকিট বিক্রি করতে প্রতিদিন সকালে মেলা চত্বর থেকে শতাধিক ইজিবাইক ছুটছে উপজেলা সদরসহ আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। প্রতিদিন অন্তত ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টিকিট বিক্রি হয়। সে হিসাবে প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হয়। রাত ১০টায় শুরু হয় র‍্যাফল ড্র। র‍্যাফল ড্রর দামি পুরস্কার হিসেবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তিনটি মোটরসাইকেল দেওয়া হয়। ওই তিনটি মোটরসাইকেলের দাম পড়ে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা। অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে আছে বাইসাইকেল, শাড়ি, লুঙ্গি, মুঠোফোন, বৈদ্যুতিক পাখা প্রভৃতি। এসব কিনতে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মতো খরচ হয়। সে হিসাবে মেলার র‍্যাফল ড্রর পেছনে আয়োজকদের খরচ সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা। সে অনুযায়ী সব খরচ বাদে আয়োজকদের প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ লাখ টাকা লাভ হচ্ছে।
লাহিড়ীহাট এলাকায় অটৈা্ইজি বাইক চালক রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়,‘মেলা শুরুর দিন থেকে প্রতিদিন ৫/৬ টি করে টিকিট কিনেছে সে। প্রতিদিন তিনটা মোটরসাইকেলসহ ৩৫টা পুরস্কার দিলেও তার ভাগ্যে পুরুষ্কার জোটেনি। এ পর্যন্ত প্রায় ১৮০০ টাকার টিকিট কিনেছে সে।
লাহিড়ীহাট এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী সাইদ হোসেন বলেন ‘পুরস্কারের লোভে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষেরা তাদের আয়ের বড় অংশ লটারির টিকিট কিনে শেষ করছে। এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত বাড়ি থেকে চুরি করে টাকা নিয়ে সেই টাকায় লটারি কিনছে।’
এভাবে চলতে থাকলে এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার উপর মারাত্নক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন প্রাক্তন সেনা সদস্য আলিফ হোসেন।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

ঠাকুরগাঁয়ে বিজিবি’র উদ্দোগে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা

ঠাকুরগাঁওয়ে চলছে লটারীর জমজমাট ব্যবসা: সর্বশান্ত হচ্ছে মানুষ

আপডেট টাইম ০৯:৩৯:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ মে ২০১৮

আজম রেহমান,সারাদিন ডেস্ক::ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় লাখ লাখ টাকার পুরস্কার জেতার স্বপ্ন দেখিয়ে চলছে অবৈধ লটারী। আনন্দমেলার নামে সমগ্র জেলায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে জমজমাটভাবে চলছে লটারীর টিকেট বিক্রি। সাধারন মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সহজেই এই লটারী চক্রের ফাদে প্রতিদিন পা দিচ্ছে।
জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ীহাট এলাকায় গত ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে আনন্দমেলা। প্রথম দিন থেকেই ওই মেলায় শুরু হয়েছে র‍্যাফল ড্র। মেলার আয়োজক স্থানীয় একদল তরুণ। আয়োজকেরা দিনের বেলা মূল্যবান ও আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মাইকিং করছে। রাতের বেলা ড্রয়ে কিছু না জুটলেও দমছে না তারা। ভাগ্য জয়ের আশায় আবারও টিকিট কিনছে। এভাবে যত টিকিট বিক্রি হচ্ছে, তত পকেট ভারী হচ্ছে আয়োজকদের। এতে পকেট খালি হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, তারা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ীহাট এলাকায় ১৫ দিনের জন্য শুধু গ্রামীণ শিল্পসামগ্রী মেলার অনুমোদন দিয়েছে। কোনো ধরনের র‍্যাফল ড্র বা হাউজির অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
জেলা প্রশাসক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, সাধারণত মেলায় হাউজি-র‍্যাফল ড্রয়ের অনুমতি দেওয়া হয় না। লাহিড়ীহাট মেলায়ও দেওয়া হয়নি। এরপরও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪মে মেলা চত্বরে গিয়ে দেখা গেছে, মেলায় দুই-তিনটি দোকান বসানো হয়েছে। বিনোদনের জন্য বসানো হয়েছে ‘মহানন্দা অপেরা’ নামের একটি যাত্রার প্যান্ডেল। পাশে রয়েছে ‘ঢাকা একে সার্কাস’ নামে একটি প্যান্ডেল। পাশে নির্মাণ করা হয়েছে আরো একটি প্যান্ডেল। শ্রমিকের জানান, ওই প্যান্ডেলটি হাউজির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। মেলায় র‍্যাফল ড্র-ই মূল আকর্ষণ।
র‍্যাফল ড্রয়ের প্রতিটি টিকিটের দাম ২০ টাকা। টিকিট বিক্রি করতে প্রতিদিন সকালে মেলা চত্বর থেকে শতাধিক ইজিবাইক ছুটছে উপজেলা সদরসহ আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। প্রতিদিন অন্তত ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টিকিট বিক্রি হয়। সে হিসাবে প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হয়। রাত ১০টায় শুরু হয় র‍্যাফল ড্র। র‍্যাফল ড্রর দামি পুরস্কার হিসেবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তিনটি মোটরসাইকেল দেওয়া হয়। ওই তিনটি মোটরসাইকেলের দাম পড়ে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা। অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে আছে বাইসাইকেল, শাড়ি, লুঙ্গি, মুঠোফোন, বৈদ্যুতিক পাখা প্রভৃতি। এসব কিনতে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মতো খরচ হয়। সে হিসাবে মেলার র‍্যাফল ড্রর পেছনে আয়োজকদের খরচ সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা। সে অনুযায়ী সব খরচ বাদে আয়োজকদের প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ লাখ টাকা লাভ হচ্ছে।
লাহিড়ীহাট এলাকায় অটৈা্ইজি বাইক চালক রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়,‘মেলা শুরুর দিন থেকে প্রতিদিন ৫/৬ টি করে টিকিট কিনেছে সে। প্রতিদিন তিনটা মোটরসাইকেলসহ ৩৫টা পুরস্কার দিলেও তার ভাগ্যে পুরুষ্কার জোটেনি। এ পর্যন্ত প্রায় ১৮০০ টাকার টিকিট কিনেছে সে।
লাহিড়ীহাট এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী সাইদ হোসেন বলেন ‘পুরস্কারের লোভে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষেরা তাদের আয়ের বড় অংশ লটারির টিকিট কিনে শেষ করছে। এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত বাড়ি থেকে চুরি করে টাকা নিয়ে সেই টাকায় লটারি কিনছে।’
এভাবে চলতে থাকলে এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার উপর মারাত্নক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন প্রাক্তন সেনা সদস্য আলিফ হোসেন।