ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীরা বিপাকে, পীরগঞ্জে শতাধিক মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষকরা পাঠদানে হিমসিম খাচ্ছে পীরগঞ্জে ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস পালিত ঠাকুরগাঁয়ে বিজিবি’র উদ্দোগে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা সাংবাদিক বিপ্লবের উপর হামলা মামলার আসামীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেনা পীরগঞ্জে শহীদ জমিদার পরিবারের পক্ষে কুরানখানী ও মিলাদমাহফিল চাঞ্চল্যকর আকরাম হত্যা মামলা তদন্তে পুলিশের বানিজ্য-মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা পীরগঞ্জে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন হিমালয় সংলগ্ন জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে নেই আবহাওয়া অফিস ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাইমারীর ভাইভা পরীক্ষা দিতে গিয়ে ২ চাকরীপ্রার্থী আটক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসে ধরা খেলেন চাকরিপ্রার্থী। 

সরিষার বাম্পার ফলন খুশিতে নিজেই কাটতে নামলেন বৃদ্ব আইজুল

খুরশিদ আলম শাওন,রানীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও)-
সময় তখন ভর দুপুর সাইকেল চালিয়ে নিজের লাগানো পেকে যাওয়া সরিষা ক্ষেত বাড়ীতে হাজির বৃদ্ব আইজুল(৭০)। অপেক্ষা করছিলো পূর্বেই ঠিক করে রাখা সরিষা কাটার জন্য লোকজনের।
এ অপেক্ষা যেন তার আর সইছিলো না কারণ গত বারের তুলনায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই নিজেই হাতে কাঁচি নিয়ে কাটতে নামলেন এই বৃদ্ব কৃষক।
তবে তার সরিষার পাশের একজন ভুট্টা ক্ষেতে মুক্তারুল নামক ব্যক্তি পানি নিচ্ছেন তিনি বলছিলেন কয়দিন আগেই দূর্বলতার কারনে স্যালাইন দিলো ফের আলা এই রৌদ খানত সরিষা কাটবা নামলো। ঐ বৃদ্ব কৃষক বলছিলেন কিছু হবে নি গে জীবনত কত কাটনু।
পাশ দিয়েই রাস্তা ধরে যাচ্ছেছিলেন এই প্রতিবেদক কথা হয় গতকাল বুধবার দুপুরে ঠাকুরগায়ের রানীশংকৈল উপজেলার ভান্ডারা গ্রামের বৃদ্ব কৃষক আইজুলের সাথে। তিনি বলেন মোর বাড়ী থেকে মোর জমিলা প্রায় ১ কিলো দুরত-গে এখান জাগার নাম নিয়ানপুর জয়ডাঙ্গী।
তিনি বয়সের ভারে ন্যযু হলেও মনে তিনি তরতাজা রয়েছেন বলে আমাদের জানান। তিনি বলেন,গত বছর মুই বন্যা বৃষ্টি বহু ঝড় ঝাপটার কারনে সরিষালাত ধরা খাননু এবার সরিষার ভাল হয়ে,কৃষি অফিসতে ভাল সহযোগিতা করিয়ে উমা মোক পরামর্শ দেহেনে কহিল্ল চাচা পরার্মশ অনুযায়ী আবাদ করলে সরিষা ভাল হবে। মুই উমার কথা শুনে হেনে আলা দেখনু কত ভাল হয়ে।
এ কারনে সরিষা খান দেখেনে লোভ সামনে-লেনি মনে হচে এলাই কাটে বাড়ীত লে যাও। জনের অপেক্ষা মোর শয়নি। বৃদ্ব আইজুল বিশাল পরিবার সবাই আপন কাজকর্মে ব্যাস্ত তিনি বসে না থেকে এবার ২বিঘা সরিষা লাগিয়েছেন। তিনি আশা করছেন বিঘাই তার আট মণ করে সরিষা হবে। যেখানে পূর্বে পাচ মন হওয়াই কঠিন সাধ্য হত।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রত্যক এলাকাই অনেক ভাল সরিষা উপন্ন হয়েছে। তবে কিছু জাযগায় সমস্যা হয়েছে। কারন হিসেবে জানা যায়,তারা সরিষার বীজ ভাল মানের রোপন করেনি ডিলারের পরামর্শে আবাদ করেছে। তারা কৃষি অফিসের কারো কাছে যোগাযোগ করে নি।
এবার বারি ৮,৯,১৪,১৫ জাতের বীজ সরিষা উপজেলা জুড়ে লাগানো হয়েছিলো। এতে লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছিলো দুই হাজার চারশত হেক্টর তবে অর্জন হয়েছে অনেক বেশি পরিমাণ প্রায় তিনহাজার নয়শত হেক্টর বলে নিশ্চিত করে উপজেলা কৃষি অফিস।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, কৃষকের অর্জন মানেই আমাদের অর্জন। অনেক ভালো লাগে কৃষকরা যখন কৃষি আবাদ করে লাভবান হয় ।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

শিক্ষার্থীরা বিপাকে, পীরগঞ্জে শতাধিক মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষকরা পাঠদানে হিমসিম খাচ্ছে

সরিষার বাম্পার ফলন খুশিতে নিজেই কাটতে নামলেন বৃদ্ব আইজুল

আপডেট টাইম ০৫:১১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

খুরশিদ আলম শাওন,রানীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও)-
সময় তখন ভর দুপুর সাইকেল চালিয়ে নিজের লাগানো পেকে যাওয়া সরিষা ক্ষেত বাড়ীতে হাজির বৃদ্ব আইজুল(৭০)। অপেক্ষা করছিলো পূর্বেই ঠিক করে রাখা সরিষা কাটার জন্য লোকজনের।
এ অপেক্ষা যেন তার আর সইছিলো না কারণ গত বারের তুলনায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই নিজেই হাতে কাঁচি নিয়ে কাটতে নামলেন এই বৃদ্ব কৃষক।
তবে তার সরিষার পাশের একজন ভুট্টা ক্ষেতে মুক্তারুল নামক ব্যক্তি পানি নিচ্ছেন তিনি বলছিলেন কয়দিন আগেই দূর্বলতার কারনে স্যালাইন দিলো ফের আলা এই রৌদ খানত সরিষা কাটবা নামলো। ঐ বৃদ্ব কৃষক বলছিলেন কিছু হবে নি গে জীবনত কত কাটনু।
পাশ দিয়েই রাস্তা ধরে যাচ্ছেছিলেন এই প্রতিবেদক কথা হয় গতকাল বুধবার দুপুরে ঠাকুরগায়ের রানীশংকৈল উপজেলার ভান্ডারা গ্রামের বৃদ্ব কৃষক আইজুলের সাথে। তিনি বলেন মোর বাড়ী থেকে মোর জমিলা প্রায় ১ কিলো দুরত-গে এখান জাগার নাম নিয়ানপুর জয়ডাঙ্গী।
তিনি বয়সের ভারে ন্যযু হলেও মনে তিনি তরতাজা রয়েছেন বলে আমাদের জানান। তিনি বলেন,গত বছর মুই বন্যা বৃষ্টি বহু ঝড় ঝাপটার কারনে সরিষালাত ধরা খাননু এবার সরিষার ভাল হয়ে,কৃষি অফিসতে ভাল সহযোগিতা করিয়ে উমা মোক পরামর্শ দেহেনে কহিল্ল চাচা পরার্মশ অনুযায়ী আবাদ করলে সরিষা ভাল হবে। মুই উমার কথা শুনে হেনে আলা দেখনু কত ভাল হয়ে।
এ কারনে সরিষা খান দেখেনে লোভ সামনে-লেনি মনে হচে এলাই কাটে বাড়ীত লে যাও। জনের অপেক্ষা মোর শয়নি। বৃদ্ব আইজুল বিশাল পরিবার সবাই আপন কাজকর্মে ব্যাস্ত তিনি বসে না থেকে এবার ২বিঘা সরিষা লাগিয়েছেন। তিনি আশা করছেন বিঘাই তার আট মণ করে সরিষা হবে। যেখানে পূর্বে পাচ মন হওয়াই কঠিন সাধ্য হত।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রত্যক এলাকাই অনেক ভাল সরিষা উপন্ন হয়েছে। তবে কিছু জাযগায় সমস্যা হয়েছে। কারন হিসেবে জানা যায়,তারা সরিষার বীজ ভাল মানের রোপন করেনি ডিলারের পরামর্শে আবাদ করেছে। তারা কৃষি অফিসের কারো কাছে যোগাযোগ করে নি।
এবার বারি ৮,৯,১৪,১৫ জাতের বীজ সরিষা উপজেলা জুড়ে লাগানো হয়েছিলো। এতে লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছিলো দুই হাজার চারশত হেক্টর তবে অর্জন হয়েছে অনেক বেশি পরিমাণ প্রায় তিনহাজার নয়শত হেক্টর বলে নিশ্চিত করে উপজেলা কৃষি অফিস।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, কৃষকের অর্জন মানেই আমাদের অর্জন। অনেক ভালো লাগে কৃষকরা যখন কৃষি আবাদ করে লাভবান হয় ।