ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
পীরগঞ্জে স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত করার দায়ে ইভটিজারের ১৫ দিনের জেল পীরগঞ্জে ভূমিসেবা সপ্তাহ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও আলোচনা সভা রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে সম্পর্কের পর অস্বীকার, এলাকায় তোলপাড় ঠাকুরগাঁও জেলার শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছে পীরগঞ্জ থানা পীরগঞ্জে ব্র্র্যাক ইউপিজি’র পলিথিন বর্জনে র‌্যালী ও আলোচনা সভা পীরগঞ্জে নারকোটিকস’র অভিযানে ৮শ পিস নেশ ট্যাবলেট সহ ২ মাদক কারবারী গ্রেপ্তার পীরগঞ্জে স্কুল ছাত্রী অপহরন ও ধর্ষনের অভিযোগে ধর্ষক গ্রেপ্তার ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় নাগরিক সেবা বাড়েনি গৃহবধুকে ধর্ষনের পর হত্যা, ২ ঘাতক গ্রেপ্তার ঠাকুরগাঁওয়ে দ্বিতীয় ধাপে দু’টি উপজেলায় নতুন প্রার্থী বিজয়ী

বাগেরহাটে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: সৎ বাবার ফাঁসি

বাগেরহাটের শরণখোলায় নয় বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আল আমিন হাওলাদার (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। আদালত একইসঙ্গে ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আল আমিনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে। বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ ও শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এই রায় দেন।
দণ্ডিত আল আমিন শিশু মায়ার সৎ বাবা। রায় ঘোষণার সময় আসামি আল আমিন কাঁঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আদালত ওই আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
আল আমিন হাওলাদার বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার মঠেরপাড়া গ্রামের ফজলুল হক হাওলাদারের ছেলে। হত্যার শিকার মায়া শরণখোলা উপজেলার সদরের  রায়েন্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
মামলার নথির বরাত দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁশুলি (পিপি) সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ২০১৬ সালে শরণখোলা উপজেলার মঠেরপাড়া গ্রামের আল আমিনের সঙ্গে মায়ার মা পুতুল বেগমের বিয়ে হয়। ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর সকালে আল আমিন তাঁর স্ত্রী পুতুল বেগমকে ফোন করে মুরগি নিতে মেয়েকে বাজারে পাঠাতে বলে। স্বামীর ফোন পেয়ে তিনি একটি ভ্যানে করে মেয়েকে বাজারে তার স্বামীর কাছে পাঠান। এরপর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শিশুরটির সন্ধান না পেয়ে ওই দিন রাতে পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানায়।
শরণখোলা থানা পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে শিশু মায়ার সৎ বাবা আল আমিনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরদিন মঠেরপাড়া গ্রামের জনৈক লিটু মিয়ার ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় ২১ ডিসেম্বর নিহতের নানা কামরুল হাসান দুলাল বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শরণখোলা থানার তৎকালীন উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. আমির হোসেন সৎ বাবা আল আমিনকে অভিযুক্ত করে ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালতের বিচারক  ১৩ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ওজিয়ার রহমান পিকলু।
Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

পীরগঞ্জে স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত করার দায়ে ইভটিজারের ১৫ দিনের জেল

বাগেরহাটে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: সৎ বাবার ফাঁসি

আপডেট টাইম ১২:৩৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮
বাগেরহাটের শরণখোলায় নয় বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আল আমিন হাওলাদার (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। আদালত একইসঙ্গে ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আল আমিনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে। বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ ও শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এই রায় দেন।
দণ্ডিত আল আমিন শিশু মায়ার সৎ বাবা। রায় ঘোষণার সময় আসামি আল আমিন কাঁঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আদালত ওই আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
আল আমিন হাওলাদার বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার মঠেরপাড়া গ্রামের ফজলুল হক হাওলাদারের ছেলে। হত্যার শিকার মায়া শরণখোলা উপজেলার সদরের  রায়েন্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
মামলার নথির বরাত দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁশুলি (পিপি) সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ২০১৬ সালে শরণখোলা উপজেলার মঠেরপাড়া গ্রামের আল আমিনের সঙ্গে মায়ার মা পুতুল বেগমের বিয়ে হয়। ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর সকালে আল আমিন তাঁর স্ত্রী পুতুল বেগমকে ফোন করে মুরগি নিতে মেয়েকে বাজারে পাঠাতে বলে। স্বামীর ফোন পেয়ে তিনি একটি ভ্যানে করে মেয়েকে বাজারে তার স্বামীর কাছে পাঠান। এরপর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শিশুরটির সন্ধান না পেয়ে ওই দিন রাতে পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানায়।
শরণখোলা থানা পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে শিশু মায়ার সৎ বাবা আল আমিনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরদিন মঠেরপাড়া গ্রামের জনৈক লিটু মিয়ার ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় ২১ ডিসেম্বর নিহতের নানা কামরুল হাসান দুলাল বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শরণখোলা থানার তৎকালীন উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. আমির হোসেন সৎ বাবা আল আমিনকে অভিযুক্ত করে ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালতের বিচারক  ১৩ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ওজিয়ার রহমান পিকলু।