ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাংবাদিক বিপ্লবের উপর হামলা মামলার আসামীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেনা পীরগঞ্জে শহীদ জমিদার পরিবারের পক্ষে কুরানখানী ও মিলাদমাহফিল চাঞ্চল্যকর আকরাম হত্যা মামলা তদন্তে পুলিশের বানিজ্য-মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা পীরগঞ্জে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন হিমালয় সংলগ্ন জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে নেই আবহাওয়া অফিস ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাইমারীর ভাইভা পরীক্ষা দিতে গিয়ে ২ চাকরীপ্রার্থী আটক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসে ধরা খেলেন চাকরিপ্রার্থী।  ৪৬৮ এমপি এখনো বহাল সংসদ-সদস্যের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক জীবনে আপনি সত্যিকারের সুখী কি না যেভাবে বুঝবেন ‘নজিরবিহীন ভোটবিমুখতা’-BBC

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন মেয়র মোস্তফা

আজম রেহমান,সারাদিন ডেস্ক:: জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুরে ভোটে বড় জয় পেল সংসদের প্রধান বিরোধী দলটি। বড় দল আওয়ামী লীগ বা বিএনপি বৃহস্পতিবারের ভোটে পাত্তাই পেল না। রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
রাত সোয়া ১২টার পর প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফলে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন জাপার এই প্রার্থী। ভোট নেয়া ১৯৩টি কেন্দ্রে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ভোট পেয়েছেন মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ২০১২ সালের নির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝণ্টু তার অর্ধেক ভোটও পাননি। তিনি পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ ভোট। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা বিএনপির কাওসার জামান বাবলা পেয়েছেন ৩৫ হাজার ১৩৬ জন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন পুলিশ কমিউনিটি হলে বসানো নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে। তবে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার আগেই কেন্দ্রওয়ারী ফলাফল জেনে যান তিন প্রার্থীর সমর্থকরা। আর রাত যত গড়াতে থাকে জাতীয় পার্টির সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস আর আনন্দ তত বাড়তে থাকে, আর ম্রিয়মান হতে থাকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্খকরা।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বেসরকারিভাবে ঘোষণা করেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা উপলক্ষে পুলিশ লাইনে স্থাপিত ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন। ১৯৩ কেন্দ্রে ২ লাখ ৯২ হাজার ৭২৩ জন ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মোট ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দিনভর বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেন সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটাররা। এবারই প্রথম রসিক নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ইলেক্টনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে।
নির্বাচনে এবার মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাত প্রার্থী। তাদের সঙ্গে ৩৩ ওয়ার্ডে লড়ছেন ২৭৬ কাউন্সিলর।
সিটি করপোরেশন এলাকার ১৯৩ কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৯৩ হাজার ৮৯৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৯৬ হাজার ২৫৬ জন। আর নারী ভোটার রয়েছেন এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ জন।

প্রথমবারের মতো ইভিএম ব্যবহার
এদিকে, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহতাব উদ্দীন জানিয়েছেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবার আগে ফল পাওয়া গেছে ইভিএম ব্যবহার করা কেন্দ্রের। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই ওই কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে।
রংপুরে ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে একটি কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। রংপুরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেগম রোকেয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ওই ইভিএম ব্যবহার করা হয়। ওই কেন্দ্রের ফলাফলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান লাঙল প্রতীক নিয়ে ৬৭৪ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ পেয়েছেন ৩৩৪ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী কাওসার জামান পেয়েছেন ১১৭ ভোট।
ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ২ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে ৬১.৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।

রংপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পর এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র পদে নির্বাচন হয়েছে। তবে দলীয় প্রতীকে ভোটগ্রহণ হচ্ছে এই প্রথম। এর আগে, ২০১২ সালের ২৮ জুন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ভোটে জয়ের আভাস পেয়ে বিজয়ী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘আমাকে ভোট দেয়ায় আমি রংপুরবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। রংপুর সিটিকে একটি বাসযোগ্য নগরী করার জন্য আমি যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছি, তা পূরণ করতে আমি আমার জীবন উৎগর্গ করব।’

মোস্তফা বলেন, ‘আমি নিজে দুর্নীতি করব না, কাউকে দুর্নীতি করার সুযোগ দেবো না।’

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে বিজয়ী মেয়র সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার পর বিগত মেয়রের নেয়া অসম্পন্ন কাজগুলো সম্পন্ন করবেন। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করবেন। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করবেন।’

মোস্তফা আরও বলেন, নগর উন্নয়নের পরিকল্পনাগুলো ইশতেহারে গুরুত্বের সঙ্গেই নেয়া হয়েছে। নগরের উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব ইনশা আল্লাহ।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Azam Rehman

সাংবাদিক বিপ্লবের উপর হামলা মামলার আসামীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেনা

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন মেয়র মোস্তফা

আপডেট টাইম ০৩:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭

আজম রেহমান,সারাদিন ডেস্ক:: জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুরে ভোটে বড় জয় পেল সংসদের প্রধান বিরোধী দলটি। বড় দল আওয়ামী লীগ বা বিএনপি বৃহস্পতিবারের ভোটে পাত্তাই পেল না। রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
রাত সোয়া ১২টার পর প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফলে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন জাপার এই প্রার্থী। ভোট নেয়া ১৯৩টি কেন্দ্রে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ভোট পেয়েছেন মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ২০১২ সালের নির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝণ্টু তার অর্ধেক ভোটও পাননি। তিনি পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ ভোট। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা বিএনপির কাওসার জামান বাবলা পেয়েছেন ৩৫ হাজার ১৩৬ জন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন পুলিশ কমিউনিটি হলে বসানো নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে। তবে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার আগেই কেন্দ্রওয়ারী ফলাফল জেনে যান তিন প্রার্থীর সমর্থকরা। আর রাত যত গড়াতে থাকে জাতীয় পার্টির সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস আর আনন্দ তত বাড়তে থাকে, আর ম্রিয়মান হতে থাকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্খকরা।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বেসরকারিভাবে ঘোষণা করেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা উপলক্ষে পুলিশ লাইনে স্থাপিত ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন। ১৯৩ কেন্দ্রে ২ লাখ ৯২ হাজার ৭২৩ জন ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মোট ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দিনভর বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেন সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটাররা। এবারই প্রথম রসিক নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ইলেক্টনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে।
নির্বাচনে এবার মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাত প্রার্থী। তাদের সঙ্গে ৩৩ ওয়ার্ডে লড়ছেন ২৭৬ কাউন্সিলর।
সিটি করপোরেশন এলাকার ১৯৩ কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৯৩ হাজার ৮৯৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৯৬ হাজার ২৫৬ জন। আর নারী ভোটার রয়েছেন এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ জন।

প্রথমবারের মতো ইভিএম ব্যবহার
এদিকে, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহতাব উদ্দীন জানিয়েছেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবার আগে ফল পাওয়া গেছে ইভিএম ব্যবহার করা কেন্দ্রের। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই ওই কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে।
রংপুরে ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে একটি কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। রংপুরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেগম রোকেয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ওই ইভিএম ব্যবহার করা হয়। ওই কেন্দ্রের ফলাফলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান লাঙল প্রতীক নিয়ে ৬৭৪ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ পেয়েছেন ৩৩৪ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী কাওসার জামান পেয়েছেন ১১৭ ভোট।
ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ২ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে ৬১.৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।

রংপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পর এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র পদে নির্বাচন হয়েছে। তবে দলীয় প্রতীকে ভোটগ্রহণ হচ্ছে এই প্রথম। এর আগে, ২০১২ সালের ২৮ জুন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ভোটে জয়ের আভাস পেয়ে বিজয়ী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘আমাকে ভোট দেয়ায় আমি রংপুরবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। রংপুর সিটিকে একটি বাসযোগ্য নগরী করার জন্য আমি যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছি, তা পূরণ করতে আমি আমার জীবন উৎগর্গ করব।’

মোস্তফা বলেন, ‘আমি নিজে দুর্নীতি করব না, কাউকে দুর্নীতি করার সুযোগ দেবো না।’

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে বিজয়ী মেয়র সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার পর বিগত মেয়রের নেয়া অসম্পন্ন কাজগুলো সম্পন্ন করবেন। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করবেন। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করবেন।’

মোস্তফা আরও বলেন, নগর উন্নয়নের পরিকল্পনাগুলো ইশতেহারে গুরুত্বের সঙ্গেই নেয়া হয়েছে। নগরের উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব ইনশা আল্লাহ।