ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ১৮ আশ্বিন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বালিয়াডাঙ্গীতে সামাজিক সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত সুন্দরবনে জেলের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার, ধারণা বাঘে খেয়েছে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসায় আইন মন্ত্রণালয়ের না পীরগঞ্জে বহিরাগত ২ মহিলা গ্রেফতার,পুলিশের ভুমিকায় হতাশা এবার ২৮ প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি জমি-ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন খরচ কমছে খালেদা জিয়ার বিদেশের চিকিৎসা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, সিদ্ধান্ত দেবে আদালত যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি পুলিশের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের নবাগত অধ্যক্ষকে ছাত্রলীগের ফুলের শুভেচ্ছা ঠাকুরগাঁও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার নজির

‘এ আন্দোলন আমার একার নয়’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানের বাড়ি গিয়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী হুমকি দিয়েছেন বলে তাঁর মা সালেহা বেগম অভিযোগ করেছেন। সোমবার আদালতে রাশেদ খানের রিমান্ডের শুনানির পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। আদালত রাশেদ খানকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। রিমান্ড শুনানির সময় বিচারক আসামি রাশেদ খানকে বলেন, ‘নেতা হতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে।’

আদালতে দেওয়া পুলিশের আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ জুন রাশেদ খান তাঁর নিজের ফেসবুক মুহাম্মাদ রাশেদ খান থেকে ফেসবুক গ্রুপ ‘কোটা সংস্কার চাই (সকল ধরনের চাকরির জন্য)’-তে সন্ধ্যা ৮টা ৮ মিনিটে লাইভে এসে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আদালতে গতকাল রাশেদের পক্ষে তাঁর আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। এ সময় রাশেদ খান নিজেই আদালতকে বলেন, ‘এ আন্দোলন আমার একার নয়। এটা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন। আন্দোলনে নামার পর সরকারের পক্ষ থেকে তিনবার আমাদের সঙ্গে বসা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৪ মে আলোচনা হয়েছে।’
একপর্যায়ে বিচারক বলেন, ‘আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। নেতা হতে হলে তো ধৈর্য ধরতে হবে।’
আইনজীবী জাইদুর রহমান ও মো. নুরুজ্জামান শুনানিতে বলেন, ‘আসামি কোনো অন্যায় করেননি। মামলায় মানহানির অভিযোগের বিষয়ে রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।’
বিচারক বলেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার মানে তদন্ত কর্মকর্তাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা। এরপর তিনি পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ডের আদেশের পর রাশেদ খানের মা সালেহা বেগম, বোন সোনিয়া ও রূপালি এবং স্ত্রী রাবেয়া আলো আদালতকক্ষে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার ছাত্রলীগের ১৫ থেকে ২০ জন নেতা বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে এসেছেন। সালেহা বেগম বলেন, ‘আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করে ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছি। আমার সেই ছেলে এখন জেলে। ও ছাড়া পেলে বাড়ি নিয়ে যাব। আমার আর চাকরির দরকার নেই।’ রাশেদের বাবা নবাই বিশ্বাস এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

ভিডিও

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

বালিয়াডাঙ্গীতে সামাজিক সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

‘এ আন্দোলন আমার একার নয়’

আপডেট টাইম ০২:২৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুলাই ২০১৮

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানের বাড়ি গিয়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী হুমকি দিয়েছেন বলে তাঁর মা সালেহা বেগম অভিযোগ করেছেন। সোমবার আদালতে রাশেদ খানের রিমান্ডের শুনানির পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। আদালত রাশেদ খানকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। রিমান্ড শুনানির সময় বিচারক আসামি রাশেদ খানকে বলেন, ‘নেতা হতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে।’

আদালতে দেওয়া পুলিশের আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ জুন রাশেদ খান তাঁর নিজের ফেসবুক মুহাম্মাদ রাশেদ খান থেকে ফেসবুক গ্রুপ ‘কোটা সংস্কার চাই (সকল ধরনের চাকরির জন্য)’-তে সন্ধ্যা ৮টা ৮ মিনিটে লাইভে এসে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আদালতে গতকাল রাশেদের পক্ষে তাঁর আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। এ সময় রাশেদ খান নিজেই আদালতকে বলেন, ‘এ আন্দোলন আমার একার নয়। এটা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন। আন্দোলনে নামার পর সরকারের পক্ষ থেকে তিনবার আমাদের সঙ্গে বসা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৪ মে আলোচনা হয়েছে।’
একপর্যায়ে বিচারক বলেন, ‘আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। নেতা হতে হলে তো ধৈর্য ধরতে হবে।’
আইনজীবী জাইদুর রহমান ও মো. নুরুজ্জামান শুনানিতে বলেন, ‘আসামি কোনো অন্যায় করেননি। মামলায় মানহানির অভিযোগের বিষয়ে রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।’
বিচারক বলেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার মানে তদন্ত কর্মকর্তাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা। এরপর তিনি পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ডের আদেশের পর রাশেদ খানের মা সালেহা বেগম, বোন সোনিয়া ও রূপালি এবং স্ত্রী রাবেয়া আলো আদালতকক্ষে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার ছাত্রলীগের ১৫ থেকে ২০ জন নেতা বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে এসেছেন। সালেহা বেগম বলেন, ‘আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করে ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছি। আমার সেই ছেলে এখন জেলে। ও ছাড়া পেলে বাড়ি নিয়ে যাব। আমার আর চাকরির দরকার নেই।’ রাশেদের বাবা নবাই বিশ্বাস এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।